Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts
Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts

Tuesday, June 9, 2026

ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়ালে তোমাকে একাই লড়তে হবে, আমরা নেই: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানে আবারও হামলা চালালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত রোববার রাতে ইরান–ইসরায়েল নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর গতকাল সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে এবং পরে ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই কড়া বার্তা দেন।

গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ সংঘাতের (রোববার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত চলা পাল্টাপাল্টি হামলা) পর ইসরায়েল ও ইরান তাদের হামলা সাময়িক বন্ধ করতে সম্মত হয়। এর পরপরই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে এল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উভয় পক্ষকে অবিলম্বে ‘গোলাগুলি’ বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে যাবে, যদি না এতে কোনো ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে হামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি বলেছি, বিবি, সাবধান হওয়া ভালো, অন্যথায় খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে পড়বে (একা লড়তে হবে)।’

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে রোববার এ নতুন উত্তেজনার (ইরান–ইসরায়েল হামলা) সূত্রপাত হয়। লেবাননে চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালায় ইরানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তি লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের ওপর আংশিক নির্ভরশীল বলে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং ওই হামলার পাল্টা জবাব না দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সে অনুরোধ উপেক্ষা করে গতকাল ভোরের দিকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল।

ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আঘাত হানে। এরপর ইরানও ইসরায়েলের হাইফায় একই রকম কারখানা ও দুটি বিমান ঘাঁটি নিশানা করে। অবশ্য ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশই অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশে ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা ইসরায়েলের

দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ‘ইরান যুদ্ধ’ বন্ধে ট্রাম্প চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ আপাতত থামলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে থেমে থেমে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছেই।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা তা প্রয়োগ করছি।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে রণাঙ্গনের আগুণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারণ, তেহরানের “সন্ত্রাসী” সরকারের ওপর আমরা আঘাত হানার পর তারা আমাদের ওপর হামলা বন্ধ করেছে।’ পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘ইরান যদি আবার আমাদের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনার খবরকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’কে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে প্রিয়জনদের মধ্যেও একটু-আধটু ঝগড়া হয়।’

লেইটার বলেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের অনুরোধে ‘পরিস্থিতি শান্ত করার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঠিকই, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টও ‘খুব ভালো করে’ বোঝেন যে ইসরায়েল নিজের দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত কোনো জবাব না দিয়ে মুখ বুজে সহ্য করতে পারে না।

উত্তেজনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য সরাসরি দায়ী। তারা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ। তাই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আটক, ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে হামলা বা অন্য যেকোনো ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সরাসরি দায়ী থাকবে।’

এদিকে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো এ অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নাসর’ বা ‘বিজয়’। এ অভিযান ‘শক্তিশালী ইরানের এক নতুন স্তরের প্রতিরোধ সক্ষমতা’ প্রদর্শন করেছে। এর ফলে ইসরায়েল ‘আরও একবার যুদ্ধবিরতির জন্য ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে’ বলেও তিনি দাবি করেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপি ফাইল ছবি

Monday, March 9, 2026

মোজতবা খামেনির প্রতি আইআরজিসি ও সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য প্রকাশ

প্রকাশ ০৯ মার্চ ২০২৬ঃ ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ‘তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

আইআরজিসি আরও যোগ করেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) দিয়ে খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকে না এবং এই বিপ্লব ও ইসলামি ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’

খামেনির প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানানো সর্বশেষ পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী মোতজবা খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান... ধর্মপ্রাণ ও বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আরও বলেছে, খামেনিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

মোজতবা খামেনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। গত শনিবার ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, মোজতবা খামেনির স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। তবে সেদিন মোজতবা খামেনি হামলাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

কয়েক বছর ধরে বাবার সম্ভাব্য প্রধান উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রায় আট বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তারপর প্রায় ৩৭ বছর যাবৎ দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি

Wednesday, November 19, 2025

নিরাপত্তা পরিষদে গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন

গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিকল্পনা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে নিরাপত্তা দেয়ার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেয়। ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাব্য পথেরও ইঙ্গিত দেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিবিএস নিউজ। এতে বলা হয়, রাশিয়া এর একটি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ভোটে বিরত থাকে। ১৫ সদস্যের পরিষদে ১৩-০ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয় সোমবার। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ আশা করেছিল রাশিয়া ভেটো ব্যবহার করে প্রস্তাবটি আটকে দেবে না।

এই ভোট ছিল ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশ আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন তাদের অংশগ্রহণের জন্য অত্যাবশ্যক। যুদ্ধবিরতি ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়। কিন্তু হামাস ও ইসরাইলের পারস্পরিক অভিযোগ, তারা শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।

চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী, হামাসকে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। বিনিময়ে ইসরাইলের হাতে থাকা প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে। জীবিত জিম্মিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত এলেও বাকি মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ পুরোপুরি হস্তান্তর করা যায়নি। হামাস ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই জানিয়েছে যে গাজার ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপের কারণে দেহাবশেষ উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দাবি করেছেন।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা ঘটেছে। এর মধ্যে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ইসরাইল প্রতিশ্রুত সব মানবিক সাহায্য গাজায় পৌঁছে দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে অনুমোদন করে। এতে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি অন্তর্বর্তী বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর প্রধান থাকবেন ট্রাম্প নিজে। এটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা প্রদান এবং গাজাকে সামরিকভাবে নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। বোর্ড ও বাহিনীর অনুমোদনের মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত।

mzamin


Wednesday, October 14, 2015

দামেস্কের রুশ দূতাবাসে রকেট হামলা

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে রুশ দূতাবাসে মঙ্গলবার দুটি রকেট আঘাত হেনেছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থন ঘোষণা করার প্রেক্ষাপটে এই হামলা হলো। হামলার পর ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
কোন পক্ষ হামলাটি চালিয়েছে তা জানা যায়নি। আসাদবিরোধী গ্রুপগুলো অতীতে রুশ দূতাবাসকে টার্গেট করেছিল। কিন্তু এবার তারাই তা করেছে কি না তা তারা দাবি করেনি।
হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দামেস্কের পূর্ব প্রান্ত থেকে রকেট দুটি নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে।
এছাড়া শত শত সিরিয়ান দূতাবাসের কাছে গিয়ে আসাদের প্রতি রুশ সমর্থনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।

Tuesday, September 29, 2015

মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে খ্রিস্টান-মুসলিম দাঙ্গায় নিহত ৭০

মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে খ্রিস্টান-মুসলিম দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭০-এ দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে কয়েক ডজন ঘরবাড়ি। সংঘর্ষ ও লুটপাট অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির রাজধানী বাঙ্গুইয়ে এক মুসলিম ব্যক্তির লাশ পাওয়ার প্রতিবাদে খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালায় মুসলমানরা। এতে শনিবার ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
এরপর রোববার রাজপথ দখলে নেয় খ্রিস্টান বিদ্রোহীরা। সশস্ত্র খ্রিস্টান জঙ্গিরা রাজধানীর সড়কগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের চলাচল ঠেকাতে তারা রাজধানীর বাঙ্গুইয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে।
যুবকরা বাঙ্গুইয়ের প্রধান সড়কগুলো গাছের গুড়ি ফেলে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শান্তিরক্ষীরা সড়ক অবরোধ ভাঙতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলেও তা কাজে আসেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, শহরে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে লুটপাট চলছে।
দেশটিতে শান্তিরক্ষার কাজে নিয়োজিত আছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী এবং ফরাসি সেনারা।
সরকার রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
সরকার বলছে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বানচাল করার জন্যই এই সংঘাতের সৃষ্টি।
খ্রিস্টান প্রধান দেশটিতে ২০১৩ সালে মুসলিম সেলেকা বিদ্রোহীরা ক্ষমতা দখলের পর দুই বছর ধরে সহিংসতায় হাজার হাজার লোক মারা গেছে।
সূত্র : ইউরো নিউজ ও আল-জাজিরা অনলাইন

Thursday, September 24, 2015

মিনায় পদদলিত হয়ে ৭১৭ হাজির মৃত্যু

সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হতাহত হাজিদের
উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ছবি: ফেরদৌস ফয়সাল, মিনা থেকে
সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হতাহত হাজিদের
উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ছবি: ফেরদৌস ফয়সাল, মিনা থেকে
সৌদি আরবের মিনায় পবিত্র হজ পালনকালে আজ বৃহস্পতিবার পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ৭১৭ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সের পরিচালকের দপ্তর এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা
সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিচালকের দপ্তর জানিয়েছে, হজের শেষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা মিনার বড় জামারাকে (বড় শয়তান) লক্ষ্য করে কঙ্কর মারতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পদদলিত হয়ে ৭১৯ জন হাজি আহত হয়েছেন।
সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আহতদের উদ্ধার করে মিনা অঞ্চলের চারটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। উদ্ধারকাজে চার হাজারের মতো কর্মী অংশ নিচ্ছেন। ঘটনাস্থলে ২২০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক মিনা থেকে জানিয়েছেন, শয়তানকে পাথর মারতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মিনা থেকে আমাদের প্রতিবেদক ফেরদৌস ফয়সাল জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিনার ২০৪ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র গরম ও হাজিদের তাড়াহুড়োর কারণে এমনটি ঘটেছে। ঘটনাস্থল দেখে তাঁর মনে হয়েছে, বয়স্ক ও নারী হাজিরা দুর্ঘটনায় বেশি হতাহত হয়েছেন। এই সড়কটি মূলত আরব ও আফ্রিকান হাজিরা ব্যবহার করে থাকেন। বাংলাদেশিরা সাধারণত এই সড়কে চলাচল করেন না।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশি হাজির সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। এঁদের মধ্যে একজন ভিড়ের মধ্যে পড়ে সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান। তবে পরিবার দুশ্চিন্তা করবে বিবেচনায় তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার ধরে তাঁরা হাঁটছিলেন। তীব্র গরমে বয়স্ক ও নারীদের হাঁটার গতি কমে আসছিল। কিন্তু পেছনের অনেকেই স্বাভাবিক গতিতেই সামনে এগোচ্ছিলেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে ওই সড়কের ৮/২০৪ থেকে ১২/২০৪ নম্বর তাঁবুর স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের প্রতিনিধি আবদুল রহমান আল-ওসামি মিনা থেকে জানিয়েছেন, ২০৪ নম্বর সড়কের কাছে জামারাত সেতুর প্রবেশমুখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। সড়কে হতাহত হাজিরা পড়ে আছেন।
কেন্দ্রীয় হজ কমিটির প্রধান প্রিন্স খালেদ আল-ফয়সাল এ দুর্ঘটনার জন্য ‘কিছু আফ্রিকান জাতীয়তার’ হাজিদের দায়ী করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল-আরবিয়া টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এবার ২০ লাখের মতো মুসলমান হজ পালন করছেন। এর আগেও হজ পালন করতে গিয়ে নানা সময়ে পদদলিত হয়ে হাজিরা মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯০ সালে মক্কায় পদদলিত হয়ে ১ হাজার ৪২৬ জন হাজির মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে মিনায় (বড় শয়তান) লক্ষ্য করে কঙ্কর ছুড়ে মারার সময় পদদলিত হয়ে ১৮০ জন হাজির মৃত্যু হয়। ২০০১ সালে মিনায় পদদলিত হয়ে মারা যান ৩৫ জন। ২০০৬ সালে মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় দুর্ঘটনায় ৩৬০ জনের বেশি হাজির মৃত্যু হয়।
এ বছরের ১১ সেপ্টেম্বর হজ চলাকালে মক্কায় মসজিদুল হারামে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ে ১১১ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ৪০০ জন।
সৌদির সিভিল ডিফেন্সের টুইটারে প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর জানায়।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের প্রতিনিধি আবদুল রহমান আল-ওসামি মিনা থেকে জানিয়েছেন, ২০৪ নম্বর সড়কের কাছে জামারাত সেতুর প্রবেশমুখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেনি।

মিনায় পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১৭

সৌদি আরবে হজ পালনের সময় মিনায় পদদলিত হয়ে অন্তত ৭১৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির টেলিভিশন আল-আখবারিয়া ও সৌদি গেজেট পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ টুইটারে জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮০৫ জন। যত সময় যাচ্ছে এ ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। মিনার এই হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোক প্রকাশ করেছেন। মুজদালিফা থেকে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপের জন্য মুসল্লিরা মিনায় যাচ্ছিলেন। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। জায়গাটি মক্কা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনায় আহতদের স্থানীয় মিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় চার হাজার উদ্ধারকর্মী ও ২৫০টি অ্যাম্বুলেন্স আহতদের উদ্ধারে নিয়োজিত রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ লক্ষাধিক মানুষ মক্কায় হজ পালন করতে গেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি বলেন, ‘মিনায় একটি পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ তদারকি করছে।’ বিবিসি জানিয়েছে, শয়তানের উদ্দেশে পাথর মারার রীতি পালনের সময় পদদলনের ঘটনা ঘটে। হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এটি পালন করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফরজ। গত ১১ সেপ্টেম্বর হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগের দিন সৌদি আরবের মসজিদ আল-হারামে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবল বাতাসের কারণে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ভারি ক্রেন মসজিদের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। এছাড়া আহত হন প্রায় ২৫০ জন। এর আগে ২০০৬ সালের ১২ জানুয়ারি মক্কার জামারাত সেতু থেকে নামার সময় পদদলিত হয়ে মারা যান অন্তত ৩৪০ জন হজযাত্রী। এ সময় আহত হন আরো অন্তত ২৯০ জন।

Wednesday, September 23, 2015

শরণার্থীরা হতে পারে জার্মানির জনশক্তি

দলবেঁধে আসা শরণার্থীদের একধরনের বাড়তি বোঝা বলে মনে করে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ। কাঁটাতারের বেড়া, পুলিশের পিটুনি, কাঁদানে গ্যাস দিয়ে এই জনস্রোত আটকে রাখছে। ঢুকতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম জার্মানি। তুরস্কের সাগরতীরে সিরীয় শরণার্থী তিন বছরের শিশু আয়লানের নিথর দেহ ভেসে আসার পর জার্মানিই প্রথম সাহস দেখায়। দুয়ার খুলে দেয় শরণার্থীদের জন্য। ফুল, চকলেট, গরম কাপড় দিয়ে মিউনিখ স্টেশনে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানায় শরণার্থীদের। তবে আট লাখ শরণার্থী নেওয়ার পর অনেকটা কঠোর হয় তাঁরা। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শরণার্থী নিয়ে এত বড় সংকটে আর পড়েনি ইউরোপ-এ কথা স্বীকার করেছে জার্মানি। এ বছর তাই দেশটি আট লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেন, তাঁদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমান, এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
অন্য দেশগুলো যেখানে শরণার্থীদের বোঝা মনে করে, জার্মানি সেখানে তাদের কাজে লাগাতে চায়। নিজেদের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে চায়। শ্রমবাজারকে গতিশীল করতে চায়। কারণটা খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এদের নিয়ে জার্মানির ভাবনা সুদূরপ্রসারী।
বার্লিনে গত কয়েক বছরে জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে। দেশটিতে জনসংখ্যার জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুহার বেশি। হিসেব করে দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বার্লিনে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ৬০ লাখ কমে যাবে। দেশটির ভাইস চ্যান্সেলর অর্থমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে বলেন, যদি জার্মানি দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে শরণার্থীদের কর্মসংস্থান করতে পারে, তাহলে অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো সম্ভব। তারাই তখন অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। শরণার্থীদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা জার্মান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
এ বছর আসা আট লাখ শরণার্থীকে ঘিরে এর মধ্যেই জার্মানিতে ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে উঠেছে। ব্যবসার ক্ষেত্র আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জার্মানির ডর্টমুন্ড শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ড্যানিয়েল কক। তিনি গৃহনির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা করেন। শরণার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যবসার কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বাণিজ্যিক সংস্থার পরামর্শে এ উদ্যোগ নেন কক। আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার শরণার্থী তেসভাজেব্রিয়েল আবরাহা নির্মাণকাজের কলাকৌশল জানতেন না। দুই সপ্তাহ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তিনি দক্ষতা অর্জন করেন। তবে শরণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো দক্ষ লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয় বলে জানান কক।
জার্মানির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিআইডব্লিউয়ের প্রধান মার্সেল ফ্রাৎজশার বলেন, গত পাঁচ বছরে ইউরোপে প্রায় দেড় লাখ নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন চাকরির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পূরণ করেছে শরণার্থীরা। ফ্রাৎজশার বলেন, জার্মানির অর্থনীতিকে গতিশীল করতে তাঁদের আরও নতুন কর্মী দরকার। ডর্টমুন্ডের স্থানীয় বাণিজ্যিক সংস্থা এইচডব্লিউকের মুখপাত্র বলেছেন, এই শহরে অনেক শিল্প কারখানায় চাকরির সুযোগ আছে। কিন্তু যোগ্য কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। জার্মানরা সাধারণত উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী। শিক্ষাজীবন শেষ করার আগে তাঁরা কোনো কাজ জড়াতে চান না। এতে শিল্প কারখানাগুলোর অনেক পদই শূন্য থাকে। এসব ক্ষেত্রে জার্মানি শরণার্থীদের কাজে লাগাতে চায়।
জার্মানির জনবহুল নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে শরণার্থীদের এক-পঞ্চমাংস আশ্রয় নিয়েছেন। এই রাজ্যের শহর ডর্টমুন্ডে প্রায় চার হাজার শরণার্থী এসেছে। তাঁদের কর্মসংস্থানের কথা ভাবা হচ্ছে। এ বছরের শুরুতে সিরিয়া, আফ্রিকার কঙ্গো ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা ৮৫ জন শরণার্থীর অঙ্ক ও ভাষা বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এর পরে তাঁদের বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক, ধাতব পদার্থ ও নির্মাণসামগ্রীর কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এইচডব্লিউকের মুখপাত্র বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এসব শিক্ষানবিশ শরণার্থীদের খুব কম বেতনে কাজ করানো হয়। প্রতি ঘণ্টায় নির্ধারিত সর্বনিম্ন বেতন ৮ দশমিক ৫০ ইউরোরও কম পান তাঁরা। তাদের বেতনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। ডর্টমুন্ডে এইচডব্লিউকের প্রধান বার্টহোল্ড শ্রোয়েডার শরণার্থীদের জনশক্তিতে কাজে লাগানোর এই পাইলট প্রকল্পের উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের কাজ দেয় তাঁরা নানাভাবে সহায়তা করে। অনেক সময় থাকার বন্দোবস্তও করে দেয়। তবে একেবারে অদক্ষ ও অশিক্ষিত শরণার্থীরা জার্মানির জন্য গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডি মেজিয়র বলেন, সিরীয় শরণার্থীদের অনেকে উচ্চশিক্ষিত। আবার অনেকে স্বল্প শিক্ষিত। এরা দেশের জন্য একধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। শ্রমমন্ত্রী আন্দ্রে নাহলেস বলেন, আট লাখ শরণার্থীর মধ্যে চার লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে জার্মানি কাজে লাগাতে পারবে। দক্ষতার অভাবের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, আবহাওয়া, সংস্কার কাজে শ্রমিকদের কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আবার যেসব শরণার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে ভালো কাজ করছে, তাদের স্থায়িত্ব সম্পর্কে একধরনের শঙ্কা রয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর দ্য ফিউচার অব ওয়ার্কের গবেষণা বিভাগের উপপরিচালক উলফ রাইন বলেন, প্রশিক্ষণের পর শরণার্থীরা অন্য কোথাও চলে যেতে পারে। যারা দীর্ঘ বা মধ্য মেয়াদে কাজ করবে, তারা শ্রমবাজারকে গতিশীল করতে পারবে। রয়টার্স অবলম্বনে

শরণার্থী সমস্যা পশ্চিমাসৃষ্ট -ইনডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণ

ইরাক ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসানে পশ্চিমা বিশ্ব তেমন কিছুই করেনি। এ গৃহযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গণ-দেশত্যাগের ঘটনার সূত্রপাত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলমান শরণার্থী সংকটের কারণও এটাই।
সিরিয়ার মোট দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের অর্ধেকের বেশি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ মানুষ দেশের বাইরে শরণার্থী হয়েছে। ইরাকেও ঘরবাড়িছাড়া লোকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশটির প্রায় ৩০ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই উপলব্ধি করতে শুরু করছে যে এই যুদ্ধ সহজে শেষ হচ্ছে না। এ কারণে তারা নিজের দেশে নিরাপদে বেঁচে থাকার আশা আর রাখছে না।
ইরাক ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ সংকটকে ক্রমেই গভীরতর করছে। ইরাকের ভেতরে জঙ্গিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর রণাঙ্গনে যে সমরসজ্জা, তা এখন সীমান্তে মোতায়েন সেনা ও অস্ত্রসরঞ্জামের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে চলছে চরম অস্থিতিশীলতা। এ ছাড়া ইরাক ও সিরিয়ায় শিয়া মিলিশিয়া, কট্টর সুন্নি বাহিনী, বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী একে অপরকে নির্মূল করতে লড়ছে। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতিদিন হামলা চালিয়ে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে তুলছে কট্টর সুন্নি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। উগ্র শিয়ারাও প্রতিশোধ নিতে সীমা লঙ্ঘন করছে। তবে গৃহযুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটি সম্প্রদায়ই এতটা ভীতসন্ত্রস্ত যে সহায়-সম্পদ বেদখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও পালিয়ে যাচ্ছে তারা। সিরিয়ার কুর্দি কর্তৃপক্ষ তাদের পুরো এলাকা জনশূন্য হওয়া নিয়ে চিন্তিত। কেননা কুর্দি বাসিন্দারাও ঘরবাড়ি ছেড়ে ইউরোপের পথে ছুটছে।
দৃশ্যত এক শতাব্দী আগের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মতোই দীর্ঘ হচ্ছে ইরাক ও সিরিয়ার লড়াই। ২০১১ সালে পশ্চিমা শক্তি যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স এবং এর আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের হিসাবে ব্যাপক ভুল হয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতোই দ্রুত হবে।
সাম্প্রদায়িক সংঘাতে ইরাক ও সিরিয়া ছিন্নভিন্ন হলেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে অদ্ভুত বিচ্ছিন্নতা দেখা যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু করার তাগিদ অন্তত এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নে শরণার্থীদের অবিশ্রান্ত ঢলের কারণে পাশ্চাত্যের নির্লিপ্ত আচরণের পরিবর্তন হয়েছে—এটা বলারও সময় এখনো আসেনি।
পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কমপক্ষে নয়টির বেশি আদিবাসী, উপজাতি বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় চলছে বোকো হারামের সন্ত্রাসী তৎপরতা। আছে আফগান যুদ্ধ। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালেও এত বেশি দেশে গৃহযুদ্ধ দেখা যায়নি। কারণ, তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়ন জানত, এ ধরনের অস্থিরতা অন্য বিশ্বশক্তিকে সুযোগ এনে দেবে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর লিবিয়া বা ইরাকের মতো দেশগুলোর সমস্যায় পড়ার মধ্যে আর কোনো স্বার্থ দেখছে না পশ্চিমা শক্তিগুলো। এটাও লক্ষণীয় যে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ওই দুটি দেশের সরকার পতনে তেলের দামেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বিশ্বায়ন ও নব্য-উদার, মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পেয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু থাকায় সরকার জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রচেষ্টা এড়িয়ে যাওয়ার মতাদর্শগত ন্যায্যতা পেয়েছে। এখানে শক্তি ও সম্পদ একচেটিয়াভাবে ক্ষমতাসীন অভিজাতদের হাতে।
২০১১ সালের আগেও সিরিয়ার রাজধানীর দামেস্কের মধ্যাঞ্চল জীবনযাপনের জন্য বেশ ভালো জায়গা ছিল। সেখানে ছিল দারুণ সব রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতান। একই সময় উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় চলছিল বিপর্যয়কর খরা। কিন্তু সেখানকার জনসাধারণের জন্য সরকার কিছুই করেনি। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে ওই এলাকার প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে শহরের বস্তি এলাকায় আশ্রয় নিতে হয়। ওই স্থানগুলোই পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গত ২৫ বছরে বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আধুনিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, জাতিরাষ্ট্র ও জাতীয়তার বোধ হ্রাসের পর এর স্থানে ভালো কিছু প্রতিস্থাপিত হয়নি। বরং আইএসের মতো মৌলবাদী শক্তিগুলোর জন্য দুয়ার খুলে গেছে।

আজ জরুরি বৈঠকে বসছেন ইইউ নেতারা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা আজ বুধবার শরণার্থী সংকট নিয়ে একটি জরুরি সম্মেলন করবেন। এক লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে ভাগাভাগি করে নিতে একটি বিতর্কিত চুক্তিতে ইইউ মন্ত্রীরা সম্মত হওয়ার একদিন পর এ সম্মেলন হচ্ছে।
ইইউ’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল মঙ্গলবার ব্রাসেলসে চুক্তির ওপর ভোট দেন। এ চুক্তির আওতায় ইইউভুক্ত দেশগুলোকে অবশ্যই গ্রিস ও ইতালির মতো সম্মুখসারির দেশগুলোতে আসা শরণার্থীদেরকে কোটার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে চুক্তিটি পাস হয়। তবে সর্বসম্মতিক্রমে এটা গৃহীত হয়নি। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো থেকে ব্যাপক বিরোধিতা করা হয়েছে।
রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। রোমানিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ইউরোপ বৃহত্তম শরণার্থী সঙ্কটের মুখে পড়েছে।
লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জ্যাঁ অ্যাসেলবর্ন বলেন, বিরোধিতা সত্ত্বেও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ এখন ‘জরুরি পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে। বর্তমানে ইইউ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে লুক্সেমবার্গ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটা না করলে ইউরোপ আরো বিভক্ত হয়ে যেত।’
ভোটাভুটির পর চেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিলান শোভানেক এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘সাধারণ বোধবুদ্ধি আজ হারিয়ে গেল। আমরা শিগগিরই টের পাব যে রাজাদের জন্য আর কোনো বস্ত্র নেই।’
আর স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেন, প্রস্তাব গ্রহণ করার চেয়ে ইইউ’র আইন ভাঙার জন্য তিনি প্রস্তুত।
বুধবারের জরুরি সম্মেলনে ইইউ নেতারা শরণার্থীদের ভাগাভাগি করে নেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদনের পাশাপাশি জোটের সীমান্তে আরো কড়াকড়ি আরোপ এবং তুরস্ক, জর্ডান, লেবানন ও জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত তহবিল প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেবেন।
তবে সামনে অনেক সমস্যাও রয়েছে। কারণ গ্রিস তার সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাইরের সাহায্য গ্রহণ করতে চাপের মুখে পড়তে পারে এবং এথেন্সে নতুন করে সার্বভৌমত্ব উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
ইউরোপ চলতি বছর হাজার হাজার শরনার্থীর ঢল সামলাচ্ছে। সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরিত্রিয়ায় সংঘর্ষ ও দমনপীড়নের কারণে শরণার্থীদের অনেকে পালিয়ে ইউরোপ যাচ্ছে।

নামাজ নিয়ে কটাক্ষ করে বিচারের মুখোমুখি ফরাসী রাজনীতিক

মুসলমানদের প্রকাশ্যে নামাজ পড়াকে নাৎসি দখলদারিত্বের সঙ্গে তুলনা করে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন মেরিন লি পেন নামে এক ফরাসি নারী রাজনীতিক। লি পেনের দল এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিয়নের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।
লিয়নের প্রসিকিউটর অফিস হতে বলা হয়, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর বৈষম্য উস্কে দেয়ার অভিযোগে লি পেনকে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে। লি পেনের বিচারের জন্য অক্টোবরের ২০ তারিখ দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি নিউজ চ্যানেল ফ্রান্স২৪।
লি পেন আল্ট্রা-কনজারভেটিভ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এফএন) পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন। এটি তার পিতা জাঁ-মারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২০১০ সালে একটি জনসভায় তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। মসজিদ জনাকীর্ণ হওয়ার কারণে ফরাসি মুসলিমদের রাস্তায় নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয় বলে তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। তিনি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, ‘আমরা যদি পেশার বিষয়ে কথা বলি, তাহলে আমরা রাস্তায় নামাজ সম্পর্কে বলতে পারি। কারণ এটি নিশ্চিতভাবেই একটি আঞ্চলিক পেশা।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোন ট্যাংক নেই, কোন সৈন্য নেই, তথাপিও এটি একটি পেশা এবং এটি মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’
লি পেনের এই মন্তব্যের প্রাথমিক তদন্ত ২০১১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরের বছর দেশটির একটি মানবাধিকার গ্রুপের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবার শুরু হয়। লি পেন এই বিচারকে একটি কলঙ্ক বলে অভিহিত করে এর নিন্দা জানান।

জ্যান্ত মানুষ চাপা দিয়ে বানানো হলো নতুন রাস্তা

জলজ্যান্ত মানুষের উপর গরম পিচের প্রলেপ দিয়ে, রাস্তা হয়ে গেল! অথচ, রাস্তা তৈরির সময় একজনও কারও নজরে পড়ল না! কী করে ঘটে গেল এমন নজিরবিহীন ঘটনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কিন্তু, বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। এখনও পর্যন্ত যা খবর, পা পিছলে একটি বড় গর্তে পড়ে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। রাস্তা তৈরির সময় কেউ তা খেয়ালই করেননি। নুড়ি-খোওয়া দিয়ে সেই গর্ত বোজানোর সময়, তাকেও জীবন্ত চাপা দেওয়া হয়। তার ওপর পিচের প্রলেপ দিয়ে রাস্তাও হয়ে যায়। পুলিশ জানায়, বছর ৪৫-এর ওই ব্যক্তির নাম লাটোরি লাল। পিচের আড়াল থেকে জামা দেখে গ্রামের মানুষের সন্দেহ হয়। তার পর দেখা যায়, এক ব্যক্তি সেখানে চাপা পড়ে আছে। পুলিশের ধারণা, লাটোরি মদ্যপ অবস্থায় থাকার কারণেই টাল সামলাতে না-পেরে, গর্তে পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠেছে, এক ব্যক্তি পড়ে যাওয়ার পর, তার উপর পিচের প্রলেপ দিয়ে, রোলারও চালিয়ে দেওয়া হলো, অথচ কারও নজরে পড়ল না কেন? পুলিশের কাছে ব্যাপারটা অস্বাভাবিকই। সবরকম সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে রাস্তা খুঁড়ে দেহটি বার করা হয়। এলাকার লোকজন নির্মাণ শ্রমিকদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পুলিশ জানতে পারে, লাটোরি লাল এবং তার স্ত্রী একসঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। দুজনের মনোমালিন্য হওয়ায়, স্ত্রীকে ফেলেই হাঁটা দেন লাটোরি। ঘণ্টাখানেক পরে স্ত্রী বাড়িতে ফিরে দেখেন, দরজায় তালা ঝুলছে। লাটোরি তখনও ফেরেননি। এরপর টর্চ নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্বামীকে খুঁজতে বেরোন। তখনও রাস্তায় পিচ-চাপা অবস্থায় দেখতে পান স্বামীর শার্ট। পুলিশ রোলার চালক ও এক নির্মাণ শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে। মৃতের স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।- ওয়েবসাইট

ইউরোপে অভিবাসী সংকট: কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

ইউরোপে আসা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার অভিবাসীদের স্থানান্তর করার যে প্রস্তাব ইইউ-র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা অনুমোদন করেছে, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মধ্য ইউরোপের দেশগুলো। ওই পরিকল্পনায় ইটালি, গ্রিস এবং হাঙ্গেরি থেকে অভিবাসীদের ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশে স্থানান্তর করার কথা রয়েছে।   সম্প্রতি হাঙ্গেরিতে অভিবাসীদের সাথে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে ইউরোপিয় ইউনিয়নের অধিকাংশ সদস্য দেশ অভিবাসীদের স্থানান্তরের পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দিলেও চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া এবং স্লোভাকিয়া ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ভোটদানের পর স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেন, তিনি কোন ধরণের বাধ্যতামূলক কোটা বাস্তবায়ন করবেন না। তবে হাঙ্গেরি বলেছে, তারা ইইউ-এর সিদ্ধান্তে অখুশি হলেও, এই সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবে। ইইউ-র সিদ্ধান্তকে ভুল উল্লেখ করে চেক প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমানও মন্তব্য করেন যে ভবিষ্যতে সবাই এটি বুঝতে পারবে। বিবিসির ইউরোপ সংবাদদাতা ক্রিস মরিস বলছেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব জড়িত এমন একটি বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুবই অস্বাভাবিক। ইইউ পরিকল্পনার আওতায় অভিবাসীদের গ্রহণ করাটা স্বেচ্ছার ভিত্তিতে উল্লেখ করা হলেও দেশগুলোর এ বিষয়ে খুব বেশি সুযোগ দেয়া হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ইইউ আইনের অনুযায়ী কোন দেশ যদি অভিবাসন বিষয়ে কোন নীতি পালনে অসম্মত হয় তবে তারা ইউরোপিয় কাউন্সিলে এনিয়ে আবেদন জানানোর অধিকার রাখে। আগামী বুধবার ইউরোপিয় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের বৈঠকে পরিকল্পনাটি অনুসমর্থনের জন্য উত্থাপন করা হবে। এদিকে বৃটেন বলছে, আগামী পাঁচ বছরে তারা যে ২০ হাজার সিরিয় শরণার্থীকে স্থান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের প্রথম দলটি দেশটিতে এসে পৌঁছেছে।– বিবিসি

Tuesday, September 22, 2015

টেক্সাস স্কুল ছাড়লো ঘড়ি বানিয়ে গ্রেফতার হওয়া আহমেদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিম যে বালকটি তার বানানো একটি ঘড়ি স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পর গ্রেফতার হয়েছিল, সেই বালকের পরিবার তাকে স্কুলটি থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। ওই ঘড়িটিকে বোমা বলে মনে করার পর আহমেদ মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।   স্কুল বালক আহমেদ মোহাম্মদ পিতার পাশে দাড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন - ফাইল ছবি তার পিতা মোহাম্মদ এল-হাসান মোহামেদ বলেন যে তিনি তার সব সন্তানকে ওই এলাকার স্কুল থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তার মতে, গ্রেফতারের ঘটনা আহমেদের উপরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। আহমেদের গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খুব দ্রুত প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। টেক্সাসের আরভিংয়ে ম্যাকআরথার স্কুলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মি. মোহাম্মদ বলেন, আহমেদ ম্যাকআরথার স্কুলে ফিরে যেতে চায় না। বাচ্চারা আর সেখানে সুখী নয়। তিনি আরো জানান যে আহমেদ বেশ কিছু স্কুল থেকে ভর্তি হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে, তবে একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তিনি আরো সময় নিতে চান। বুধবারে পুরো পরিবার নিউইয়র্কে যাচ্ছে, কারণ জাতিসংঘের বেশ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। এরপর আহমেদের পিতা তাকে নিয়ে সৌদি আরবের মক্কায় যাওয়ার আশা করছেন। মি. মোহাম্মদ বলেন, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবো যাতে তিনি সহায় হোন। ফিরে আসার পর তাদের পরিকল্পনা হলো হোয়াইট হাউজে গিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। গত সপ্তাহে আহমেদ জানায় যে সে স্কুল পরিবর্তন করতে চায়, কারণ তার শিক্ষক তার বানানো ঘড়িটিকে একটি হুমকি হিসেবে নেয়ার বিষয়টিতে সে খুবই দুঃখ পেয়েছে।- বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইসলাম বিতর্ক

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির একজন সম্ভাব্য প্রার্থী বেন কারসন বলেছেন, ইসলাম ধর্ম মার্কিন সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আমেরিকার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মি. কারসন বলেছেন, একজন মুসলিমকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মানতে রাজি নন।
তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির মুসলিম গ্রুপগুলো বলছে, এমন বক্তব্য দিয়ে মি. কারসন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন পাবার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
মাত্র আগের দিনই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে মুসলমান বলার প্রতিবাদ না করায়, রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখন প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন লাভের লড়াইয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। কেন এ প্রচারণায় ইসলাম বা মুসলমানদের নিয়ে এসব বক্তব্য আসছে?
বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াশিংটনে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম ভীতি আছে। সেই ভীতিটা আসলে রক্ষণশীলদের তৈরি করা একটা ভীতি।
তিনি বলছেন রক্ষণশীলা ধর্মের ভিত্তিতেই বিভক্তি করার চেষ্টা করে।
তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান। এটা রিপাবলিকান দলের অত্যন্ত রক্ষণশীলদের একটি অংশ চাচ্ছেন এটাকে ব্যবহার করে রিপাবলিকান দলের মধ্যে তাদের সমর্থন তৈরি করতে। এই দলটির বাইরে এর কোন আবেদন আছে বলে মনে হয়না।
বেন কারসন বলেছেন ইসলামি মূল্যবোধ মার্কিন সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।কি আছে সেদেশের সংবিধানে ?
এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রিয়াজ বলেন, “আর্টিক্যাল ৬-এ বলা হয়েছে ধর্ম কোন ধরনের সরকারি রাষ্ট্রীয় বা জনস্বার্থ পদে অধিষ্ঠিত হবার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারেনা। ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সংবিধানের বিরোধ কোথায় সেটা বেন কারসন বলেননি। এটা আসলে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা। ইসলাম বিরোধিতাকে জাগিয়ে তোলা বা ব্যবহারের জন্যেই এসব বলা হচ্ছে”।
কিন্তু ইসলাম বিরোধিতায় কি ভোট আসবে ?
এ প্রশ্নের জবাবে মি. রিয়াজ বলেন রক্ষণশীলদের মধ্যে পারবে। এখন প্রাথমিক পর্যায়ের নির্বাচন কিন্তু যিনি প্রার্থী হবেন তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ বিতর্কটা আসলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই রয়েছে। নির্বাচিত হবার ক্ষেত্রে এগুলো কাজে লাগবেনা।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমান ভোটার কতো ও রাজনীতিতে তাদের প্রভাব কতো জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রায় তিন মিলিয়ন মুসলমান রয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে মুসলমানদের প্রভাব রয়েছে। কিন্তু তারচেয়ে বড় বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থা ও সাম্যের জন্যে এটা ক্ষতিকর।
ফলে বেন কারসনের বক্তব্য রিপাবলিকান পার্টির জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্রঃ বিবিসি

সিরিয়া থেকে গ্রিস, পোষ্য নিয়েই দীর্ঘ পথ পাড়ি কিশোরের

পিঠে ছোট্ট একটা ব্যাগ। আর তাতে ঠাসা ‘বন্ধু’র জন্য খাবার আর জল। অন্যান্যদের মতোই যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া ছেড়েছে আসলানও। ৫০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে গ্রিসে। আপাত দৃষ্টিতে আসলানের কাহিনি সাধারণের মতো হলেও পার্থক্য একটাই। অন্যান্যদের মতো বাঁচার তাগিদ থাকলেও কিশোর আসলানের ছিল বাঁচানোরও তাগিদ। প্রাণে বাঁচতে যখন অনেকেই আপনজনকে ফেলে পালিয়েছে। সেখানে আসলানের নিজের জন্য ভাবার ফুরসতটুকুও মেলেনি। শুধু ভেবেছে কী করে বাঁচানো যাবে তার খেলার সঙ্গীকে। তার পোষ্য কুকুর ছোট্ট রোজ-কে। মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোরের এ হেন মনোভাবে হতবাক সকলেই। আসলানের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘আমি ওকে ভালবাসি। রোজ আমার খেলার সঙ্গী। ওর জন্য তো এইটুকু করবই।” নিজের জন্য এতটুকু না ভেবে রোজের জন্য ব্যাগ ভর্তি করে খাবার আর জল নিতেও ভোলেনি সে। পাছে রাস্তায় বন্ধুর খিদে পায়!
সম্প্রতি ফেসবুকে আসলান আর রোজের ভিডিও পোস্ট করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পড়েছে ২০ লক্ষ লাইক। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খেলার ফাঁকে আসলান রোজকে জল খাওয়াচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসলানকে সাহায্যের জন্যও এগিয়ে এসেছেন অনেকে। সারা বিশ্ব যখন হিংসা আর মৃত্যুর খবরে জেরবার, দুই খুদের এই কাহিনি যেন জীবনের নতুন সংস্করণ। বন্ধুত্ব ও ভালবাসার নতুন সংজ্ঞা।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

চীনের হাতে নতুন রকেট

চীন নতুন ধরণের রকেট ছুঁড়েছে। তুলনামূলক ভাবে আকারে ছোট এ রকেট কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হবে। মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে দেশটির এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে এ রকেট ছোঁড়া হয়।
লং মার্চ-৬ নামের রকেটটি ২০টি ছোট আকারের উপগ্রহ বহন করছিল। জ্বালানি হিসেবে তরল অক্সিজেন এবং কেরোসিনের মিশ্রণ ব্যবহার করায় এটি অনেক বেশি পরিবেশ বান্ধব হয়ে উঠেছে। রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে যে পরিবেশ দূষণ ঘটে লং মার্চ পরিবারভুক্ত এ রকেটের মাধ্যমে তা ঘটবে না বলে দাবি করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া, বাণিজ্যিক কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপনের যে বিশাল বাজার রয়েছে এ রকেট ব্যবহার করে তাতে বেশি লাভ করা যাবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, নতুন এ রকেট চীনের মহাকাশে ঢোকার সক্ষমতা আরো বাড়াবে।
মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং ২০২০ সালের আগেই চাঁদের অন্ধকার পৃষ্টে অনুসন্ধান যান পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে চীন।
সূত্র : রেডিও তেহরান

Saturday, September 19, 2015

তুরস্কের সৈকতে আরও এক ‘আয়লান’-এর দেহ

সমুদ্র সৈকতে উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে ছোট্ট দেহটা। একের পর এক ঢেউ আছড়ে পড়ছে তার উপর। অথচ কোনও সাড় নেই তার শরীরে। সপ্তাহ খানেক আগে ঠিক এই রকম একটা ছবি তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল বিশ্বে।
সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির সেই ছবি যেন ফিরে এল তুরস্কের আর এক সৈকতে। এ বার সিরিয়া থেকে গ্রিসে পালাতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হল চার বছরের এক শিশুকন্যার। তুরস্কের উপকূলবর্তী ইজমির প্রদেশের এজিয়ান শহরের এক সৈকতে ভেসে এসেছে তার নিথর দেহ। তবে এখনও পর্যন্ত পরিচয় জানা যায়নি ওই শিশুর। শুধু জানা গিয়েছে, সিরিয়া থেকে গ্রিসের চিওস দ্বীপে যাচ্ছিল তার পরিবার। একটা ডিঙিতে ১৫ জন শরণার্থী মিলে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে ডুবে যায় সেই ডিঙি। সিরীয় উপকূলরক্ষীরা ১৪ জনকে উদ্ধার করলেও বাঁচানো যায়নি ওই শিশুকন্যাকে। পরে তুরস্কের সৈকতে পাওয়া যায় তার দেহ।
ঠিক একই ভাবে সিরিয়া থেকে গ্রিস যেতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছিল আয়লানের। দুর্ঘটনায় মারা যান তার মা, দাদাও। তুরস্কের সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরে প্রায় ৫৩ হাজার শরণার্থীকে উদ্ধার করেছে তাদের উপকূলরক্ষী বাহিনী।
বস্তুত আয়লানের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই নড়েচড়ে বসে ইউরোপের দেশগুলি। সিরিয়া-ইরাক থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার শরণার্থীর জন্য দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয় কয়েকটি দেশ। যার মধ্যে অন্যতম ছিল জার্মানি। কিন্তু প্রথম কয়েক দিনেই জার্মানিতে এত শরণার্থী ঢুকেছে যে সীমান্তে ফের কড়াকড়ি শুরু করতে বাধ্য হয় বার্লিন। একই অবস্থা ক্রোয়েশিয়ারও। শরণার্থীদের ঢল সামলাতে আজ থেকে সার্বিয়া সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু করেছে ক্রোয়েশিয়া সরকার। আর তাতেই ক্ষুব্ধ সার্বিয়া সরকার। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে তারা। সমাজ বিষয়ক মন্ত্রী আলেকজান্ডার ভুলিন বলেন, ‘‘অন্য কারও অক্ষমতার দাম আমাদের সরকার দিতে পারবে না।’’ যদিও ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ জানাচ্ছে, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো সত্ত্বেও দলে দলে শরণার্থী ঢুকেই চলেছে তাদের দেশে। 
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

Monday, October 6, 2014

মানুষের বানানো প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম পানিপথ

চীনের ইতিহাসে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা কমই আছে: মানুষের বানানো পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে প্রাচীনতম পানিপথ এটা, যা সুয়েজ খালের চেয়ে ৯ গুণ দীর্ঘ। এই খাল কাটা না হলে বেইজিং হয়তো কখনোই চীনের রাজধানী হয়ে উঠত না। আর এই খাল ছাড়া হয়তো চীন-ই চীন হয়ে উঠত না! এমন আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ‘বেইজিং গ্র্যান্ড ক্যানাল’ বা ‘বেইজিংয়ের বড় খাল’-কে এ বছরের জুন মাসে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিয়েছে ইউনেসকো। সরেজমিন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে এক ফটো ফিচারে এ সম্পর্কে জানিয়েছেন বিবিসির আমান্দা রুগেরি।

এ প্রজন্মের ‘বেইজিংগার’ বা বেইজিংয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে অল্প কিছু লোক যদিও বা বড় খাল ঘুরে দেখে থাকেন, তাহলে তার চেয়ে আরও কম পর্যটকই তা দেখেছেন। অবশ্য এই বড় খাল দক্ষিণ চীনে তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। সেখানে প্রমোদতরি আর বার্জগুলো এখনো ২ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো এই নৌপথে চলাচল করে। কিন্তু অনেক বেইজিংগারই জানেন না যে, তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ৩৫ কিলোমিটার দূরে বেইজিংয়ের তোংঝু উপশহর থেকে শুরু হওয়া এই হাতে কাটা খাল ১ হাজার ৭৯৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব-চীনের ঝেইজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হাংঝোও পর্যন্ত বিস্তৃত।

বেইজিংয়ের এই বড় খাল কাটতে কাটতে পেরিয়ে গেছে প্রায় ১৮০০ বছর। যে লাখ লাখ শ্রমিক এই খাল কাটতে গিয়ে জীবনতিপাত করেছেন, দুনিয়ার আর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভবত এত মানবসম্পদ কাজে লাগাতে হয়নি। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮৬ সালে এই খাল কাটার কাজ শুরু হয়। ৬০৫ সালের দিকে চীনের এক সাবেক রাজধানী লুয়োইয়াং থেকে কিংঝিয়াং পর্যন্ত এক হাজার কিলোমিটারের মতো খাল কাটা শেষ হয়েছিল। এর পাঁচ বছর পর ঝেনজিয়াং থেকে হাংঝোও পর্যন্ত আরও ৪০০ কিলোমিটার খাল কাটা শেষ হয়।

মানুষের বানানো এই দীর্ঘতম পানিপথে আরও জল গড়ানো বাকি ছিল তখনো। ৬১০ সালের দিকে এই খাল পৌঁছে যায় প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে। অন্ততপক্ষে ৩০ লাখ কৃষককে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়েছিল এখানে। ধারণা করা হয়ে থাকে, এই কৃষক-শ্রমিকদের অর্ধেকেরও বেশি কঠোর পরিশ্রম আর অনাহারে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু কুবলাই খান যখন ১২৭১ সালে কাইফেং বা লুয়োইয়াং থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে বেইজিংয়ে নিয়ে আসেন, তখন আগের চেয়ে আরও বেশি কৃষক-শ্রমিককে জীবন উৎসর্গ করতে হয় এই খাল কাটার জন্য। এখনকার বেইজিং-হাংঝোও নৌপথের রূপ দিতে আরও ৪০০ কিলোমিটার খাল কাটতে হয়। সে সময় ১০ বছরে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন কুবলাই খানের নতুন রাজধানীকে আরও সরাসরি এই খালে যুক্ত করতে। ইউনেসকোর ভাষ্য অনুযায়ী, বেইজিং গ্র্যান্ড ক্যানাল ‘শিল্প বিপ্লবের আগে বাস্তবায়িত দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এবং সুপরিসর পুর-কৌশল প্রকল্প’।

প্রাচীন চীন সাম্রাজ্যের জন্য নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই এত সাধনায় বাস্তবায়ন করা হয়েছিল এই খাল কাটা। নাগরিকদের খাদ্যনিরাপত্তা তার মধ্যে অন্যতম। ইয়াংসি অববাহিকা চীনের রুটির ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত হলেও খোদ ইয়াংসি নদীই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত। কিন্তু শাসকেরা জানেন, ক্ষুধার্ত জনগণই বিদ্রোহ করে বসে আর না-খাওয়া সৈনিকেরা কোনো কাজে আসে না। ফলে এই খাল কাটার মধ্য দিয়ে চীনের শাসকেরা ইয়াংসি থেকে হলুদ নদী হোয়াংহো পর্যন্ত চাল বোঝাই নৌকা চলাচলের সুযোগ করে দিতে পেরেছিলেন। এই অববাহিকায় উৎপাদিত চালের মতোই উত্তর চীনে উৎপাদিত গমও এই নৌপথ দিয়েই দক্ষিণ চীনে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি আরও কিছু ছোট ছোট খাল-নদীতে যুক্ত হয়ে এই নৌ-পথ রাজধানী বেইজিংকে ঘিরে চীনে উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান অবলম্বন হয়ে ওঠে।
যেকোনোও মহৎ সৃষ্টিই যেমন সৃজনের পথকে আরও প্রসারিত করে, ঠিক তেমনটাই ঘটেছে বেইজিং বড় খালের ক্ষেত্রে। ৫৮৭ সালেই সুই সাম্রাজ্যের শাসনামলে এই খালে দুনিয়ার প্রথম ‘লক গেট’ বানানো হয়েছিল। হোয়াংহো নদীর সঙ্গে এই খালের সংযোগ পথে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন গেট বসিয়েছিলেন প্রকৌশলী লিয়াং রুই। ৯৮৪ সালে আরেক প্রকৌশলী কিয়াও উইয়েও এই খালে প্রথম ‘পাউন্ড লক’ বানান। আধুনিক পানি-প্রযুক্তিতে অনেক খালেই আমরা এমন ধরনের ব্যবস্থা দেখি। এতে দুই পাশে ঘের দিয়ে একটা নিরাপদ পুকুরের মতো তৈরি করা হয় এবং পানির উচ্চতা কমে-বেড়ে স্থির না হওয়া পর্যন্ত নৌকাগুলো সেখানে অপেক্ষা করতে পারে। ১৯৭৩ সালে ইউরোপে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় নেদারল্যান্ডসের ভ্রিসভিকে।

১৯ শতকে চীনে রেলপথের প্রসারের পর থেকেই এই নৌপথের গুরুত্ব কমতে থাকে। গ্র্যান্ড ক্যানালের অনেক ছোট ছোট সংযোগ খালের সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৯৫৮ সালে মূল খালে একটা বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়। সে সময় থেকেই দক্ষিণ চীনে গুরুত্বের সঙ্গে নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা। অতি সম্প্রতি বেইজিং নগর হয়তো নতুন করে আবিষ্কার করতে শুরু করেছে ভুলে যাওয়া এই খালকে। ২০০৮ সালের অলিম্পিক গেমসের সময় এই খালের পাড় ধরে একটা অলিম্পিক পার্ক গড়ে তোলা হয়। গত বছর এই খালের পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘গ্র্যান্ড ক্যানাল ফরেস্ট পার্ক’। গাছ-গাছালি আর পাখ-পাখালিতে ভরা খাল পাড়ের এই উদ্যান এখন অনেক বেইজিংবাসীরই নজর কাড়ছে।


বেইজিং গ্র্যান্ড ক্যানাল কেবল মানুষের বানানো দীর্ঘতম ও প্রাচীনতম পানিপথ কিংবা এককালের সবচেয়ে বড় পুরকৌশল প্রকল্পই নয়, এটা আমাদের ধীরগতির পরিবেশবান্ধব উন্নয়নেরও একটা নমুনা। আজকের দিনে বেইজিংয়ের বুলেট ট্রেন, কিংবা আকাশছোঁয়া সব অট্টালিকা আর পশ্চিমা ধাঁচের উন্নয়নের জোয়ারের আগে সভ্যতার অগ্রযাত্রায় চীনের অনন্য পথচলার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে মানুষের বানানো এই খাল। এই নৌপথ যথাযথভাবে সংস্কার করে এখানকার প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করা গেলে মানুষের বানানো এই খালও হয়তো আগামী দুনিয়ায় চীনের বিশাল প্রাচীরের মতোই চীনের গর্ব হয়ে থাকবে।

Saturday, August 16, 2014

নওয়াজ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন: ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। এই দাবিতে তিনি আজ শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসবেন। পাকিস্তানের ডন অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
২০১৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খান।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ইমরান খান আজ সকালে রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান করব। কারচুপি করে ক্ষমতায় বসা প্রধানমন্ত্রীকে আমরা মেনে নেব না।’
ইমরান খানের নেতৃত্বে তাঁর দল পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের লাহোর থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘আজাদি মার্চ’ শুরু করেন। গতকাল শুক্রবার তাঁদের গাড়িবহর গুজরানওয়ালা শহরে পৌঁছালে সেখানে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) নেতা-কর্মীরা আজাদি মার্চে জুতা ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন।

>>পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইমরান খান। ছবিটি গতকাল শুক্রবার তোলা। ছবি: এএফপি
ইমরানের অভিযোগ, তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রী জানান, তিনি গুলি ছোড়ার মতো কোনো শব্দ শোনেননি।