Showing posts with label Lead. Show all posts
Showing posts with label Lead. Show all posts

Sunday, August 28, 2016

বখাটের ছুরিকাঘাতে আহত রিশার মৃত্যু

বখাটে এক যুবকের ছুরিতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা মারা গেছে। তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিন দিন আগে ঢাকার কাকরাইলে তাকে ছুরিকাঘাত করেছিল ওই বখাটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। চৌদ্দ বছর বয়সী সুরাইয়া আক্তার রিশা উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম রমজান, বাসা পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে। গত বুধবার দুপুরে স্কুলের সামনে ফুটওভার ব্রিজের উপরে রিশার পেট ও হাতে ছুরি মেরে পালিয়ে যায় এক ‘বখাটে যুবক’। রিশার মা তানিয়া বেগমের বরাত দিয়ে রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান সেদিন জানিয়েছিলেন, কয়েক মাস আগে ইস্টার্ন মল্লিকার বৈশাখী টেইলার্সে একটি জামা বানাতে দিয়েছিলেন তিনি। যোগাযোগের জন্য সেখানে তিনি নিজের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। ওবায়েদ নামে ওই দোকানের এক কর্মচারী ফোন করে রিশাকে বিরক্ত করছিল। এ কারণে রিশার মা ওই মোবাইল সিমটি বন্ধ করে দেন। তার ধারণা, ওবায়েদই রিশাকে ছুরি মেরেছে। পরে ওই টেইলার্সে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওবায়েদ দুই মাস আগে চাকরি ছেড়ে সেখান থেকে চলে গেছে। এ ঘটনায় রিশার মা ওবায়েদকে আসামি করে বুধবার রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে, ওবায়েদকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ।

Friday, September 25, 2015

পুলিশের বেআইনি আচরণ করার কারণ : ডয়েচে ভেলের বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আটক, গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে৷ আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, এ সব বেআইনি কাজের প্রধান কারণ পুলিশের ওপর সরকারের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা৷
সর্বশেষ ঘটনা : সন্তানের সামনে মা-কে নির্যাতন
১৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন৷ ঐ এলাকায় ছেলের সামনে মাকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ নির্যাতকারীদের পক্ষ নেয়৷ স্বাভাবিকভাবেই এতে জনতা প্রতিবাদী হলে তাদের দমন করতে গুলি চালায় পুলিশ৷
১১ মাসের শিশুকে আটক
১৬ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার একটি মামলায় রাজু আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তার এবং মাত্র ১১ মাস বয়সি শিশুপুত্র রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়৷ থানা হাজতে আটকের ১৯ ঘণ্টা পর ৪২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্তি দেয়া হয়৷
পঙ্গু মানুষের হাতে হাতকড়া
১৫ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে আবুল হোসেন নামে এক পঙ্গু আসামিকে হাতকড়া পড়িয়ে আদালতে নেয় পুলিশ৷ আবুল হোসেনের দুই পা-ই নেই৷
মাদক মামলায় শিশু গ্রেপ্তার
৭ই সেপ্টেম্বর সাগর শেখ (১২) ও রবিন আলী (১৪) নামের দুই শিশুকে মাদক মামলায় হাতকড়া পরিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করে কাফরুল থানা পুলিশ৷
পুলিশের কাছে পদোন্নতিই বড়, জনগণ নগন্য : এলিনা খান
ওপরের চারটি ঘটনাই চলতি সেপ্টেম্বর মাসের৷ তাই এর আগে থেকে হিসেব করলে এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়তেই থাকবে৷
বাংলাদেশে নারী ও শিশু আইনে স্পষ্ট বলা আছে নারী ও শিশুদের প্রতি পুলিশকে কী ধরনের আচরণ করতে হবে৷ কী ধরনের আচরণ করতে হবে পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে৷ অথচ তারপরও পুলিশ কেন আইন লঙ্ঘন করছে?
এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ আইন জেনেও আইনের লঙ্ঘন করছে৷ এর কারণ তাদের অসততা এবং সুবিধা লাভের প্রবণতা৷ আমি বলব তারা জ্ঞানপাপী৷''
পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা-মামলা হওয়া উচিত: জ্যোতির্ময় বড়ুয়া
ওদিকে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ পুলিশ অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না৷ কারণ সরকার অতিমাত্রায় পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়েছে৷ আর পুলিশ এই সুবিধা নিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের কাজ করে চলেছে৷ পেশাদারিত্ব ভুলে গেছে তারা৷''
এ দু'জনই মনে করেন, যদি পুলিশকে রাজনীতির বাইরে রেখে জবাবদিহিতার আওতায় আনা না হয়, তাহলে এ ধরণের বেআইনি ঘটনা আরো বাড়বে৷ বার বার এমন বেআইনি ঘটনা ঘটাবে পুলিশ৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে

Thursday, September 24, 2015

মিনায় পদদলিত হয়ে ৭১৭ হাজির মৃত্যু

সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হতাহত হাজিদের
উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ছবি: ফেরদৌস ফয়সাল, মিনা থেকে
সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হতাহত হাজিদের
উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ছবি: ফেরদৌস ফয়সাল, মিনা থেকে
সৌদি আরবের মিনায় পবিত্র হজ পালনকালে আজ বৃহস্পতিবার পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ৭১৭ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সের পরিচালকের দপ্তর এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা
সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিচালকের দপ্তর জানিয়েছে, হজের শেষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা মিনার বড় জামারাকে (বড় শয়তান) লক্ষ্য করে কঙ্কর মারতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পদদলিত হয়ে ৭১৯ জন হাজি আহত হয়েছেন।
সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আহতদের উদ্ধার করে মিনা অঞ্চলের চারটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। উদ্ধারকাজে চার হাজারের মতো কর্মী অংশ নিচ্ছেন। ঘটনাস্থলে ২২০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক মিনা থেকে জানিয়েছেন, শয়তানকে পাথর মারতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মিনা থেকে আমাদের প্রতিবেদক ফেরদৌস ফয়সাল জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিনার ২০৪ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র গরম ও হাজিদের তাড়াহুড়োর কারণে এমনটি ঘটেছে। ঘটনাস্থল দেখে তাঁর মনে হয়েছে, বয়স্ক ও নারী হাজিরা দুর্ঘটনায় বেশি হতাহত হয়েছেন। এই সড়কটি মূলত আরব ও আফ্রিকান হাজিরা ব্যবহার করে থাকেন। বাংলাদেশিরা সাধারণত এই সড়কে চলাচল করেন না।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশি হাজির সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। এঁদের মধ্যে একজন ভিড়ের মধ্যে পড়ে সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান। তবে পরিবার দুশ্চিন্তা করবে বিবেচনায় তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার ধরে তাঁরা হাঁটছিলেন। তীব্র গরমে বয়স্ক ও নারীদের হাঁটার গতি কমে আসছিল। কিন্তু পেছনের অনেকেই স্বাভাবিক গতিতেই সামনে এগোচ্ছিলেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে ওই সড়কের ৮/২০৪ থেকে ১২/২০৪ নম্বর তাঁবুর স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের প্রতিনিধি আবদুল রহমান আল-ওসামি মিনা থেকে জানিয়েছেন, ২০৪ নম্বর সড়কের কাছে জামারাত সেতুর প্রবেশমুখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। সড়কে হতাহত হাজিরা পড়ে আছেন।
কেন্দ্রীয় হজ কমিটির প্রধান প্রিন্স খালেদ আল-ফয়সাল এ দুর্ঘটনার জন্য ‘কিছু আফ্রিকান জাতীয়তার’ হাজিদের দায়ী করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল-আরবিয়া টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এবার ২০ লাখের মতো মুসলমান হজ পালন করছেন। এর আগেও হজ পালন করতে গিয়ে নানা সময়ে পদদলিত হয়ে হাজিরা মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯০ সালে মক্কায় পদদলিত হয়ে ১ হাজার ৪২৬ জন হাজির মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে মিনায় (বড় শয়তান) লক্ষ্য করে কঙ্কর ছুড়ে মারার সময় পদদলিত হয়ে ১৮০ জন হাজির মৃত্যু হয়। ২০০১ সালে মিনায় পদদলিত হয়ে মারা যান ৩৫ জন। ২০০৬ সালে মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় দুর্ঘটনায় ৩৬০ জনের বেশি হাজির মৃত্যু হয়।
এ বছরের ১১ সেপ্টেম্বর হজ চলাকালে মক্কায় মসজিদুল হারামে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ে ১১১ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ৪০০ জন।
সৌদির সিভিল ডিফেন্সের টুইটারে প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর জানায়।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের প্রতিনিধি আবদুল রহমান আল-ওসামি মিনা থেকে জানিয়েছেন, ২০৪ নম্বর সড়কের কাছে জামারাত সেতুর প্রবেশমুখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেনি।

কাবাঘরের চাবি by আসিফ হাসান

কাবা আল্লাহর ঘর। এই ঘরকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার চেষ্টা সবসময়ই দেখা গেছে। এই ঘরের সেবা অত্যন্ত সোয়াবের কাজ বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে অনেকবারই এর সৌন্দয় বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই কাবাঘরের দরজা সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
১৩৯৬ হিজরিতে বাদশাহ খালেদ ২৮৬ কেজি সোনা দিয়ে বর্তমান দরজাটি তৈরি করেছেন। এতে আল্লাহপাকের নাম এবং কোরআনের আয়াত লেখা রয়েছে। কাবা শরিফের দরজাটিতে দুটি অংশ রয়েছে। মাঝখানে তালা আছে।
কাবাঘরের দরজা
এই তালার চাবি কটি বিশেষ বনু তালহা গোত্রের গোত্রের কাছে থাকে। প্রাচীন কাল থেকেই তাদের হাতে রয়েছে কাবাঘরের চাবি। তবে প্রথম আমলের তালা যেমন এখন আর নেই, চাবিও নেই। তবে বর্তমানটির পাশাপাশি পুরান আমলের অনেক চাবি এখনো অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। কাবার বর্তমান চাবিটি ৩৫ সেন্টিমিটার। বিশেষভাবে বানো বাক্সে রাখা হয় এই চাবিটি।
কাবাঘরের একটি পুরাতন চাবি
এমনকি মক্কা বিজয়ের পর অনেক কিছুতে পরিবর্তন হলেও মহানবি (সা.) এই গোত্রের হাতেই কাবাঘরের চাবিটি রেখে দেন। ফলে তারাই কাবাঘরের আনুষ্ঠানিক সেবক।
মক্কা বিজয়ের দিন তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে কাবাঘরকে পবিত্র করেন। পরে তাদের হাতেই চাবি ফিরিয়ে দেন।
এ সময় তিনি বলেন : ‘হে বনি আবদুদ দুর কিয়ামত পর্যন্ত চির দিনের জন্য এই চাবি গ্রহণ করো। জালেম ছাড়া কেউ তোমাদের কাছ থেকে এই চাবি ছিনিয়ে নেবে না।’
কাবাঘর সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিতদের আরবিতে 'সাদালাতুল কাবা' বলা হয়। বনু তালহা গোত্রের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি কাবার চাবি বহন করেন।

Wednesday, September 23, 2015

মেডিকেলে ভর্তির প্রশ্নপত্র ফাঁস : শহীদ মিনারে পরীক্ষার্থীরা

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে অবস্থান নেয়ার কথা থাকলেও স্থান পরিবর্তন করে বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক নিয়ন বলেন, ‘আমরা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছি। এখানেই বিক্ষোভ করব।’
শুক্রবার সারাদেশে একযোগে ২৩টি কেন্দ্রে এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। তবে পরীক্ষা চলাকালেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে অভিযান চালিয়ে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে র‌্যাব। এর আগে একই ঘটনায় বুধবার রাজধানীর মহাখালী থেকে চিকিৎসকসহ ৪ জনকে আটক করেছিল র‌্যাব।
এদিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পরীক্ষার আগের রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ এনে কিছু নমুনা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
পরে পরীক্ষা বাতিল চেয়ে শনিবার দেশব্যাপী আন্দোলন করেন তারা। এ ছাড়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতর তড়িঘড়ি করে ফলাফল প্রকাশ করলে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে।

বাসেত মজুমদার বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, আমীরের পদত্যাগের ঘোষণা

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নতুন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। গতকাল বিকালে বার কাউন্সিলের প্রথম  বৈঠকে তিনি নির্বাচিত হন। গত ২৬শে আগস্ট বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪টি পদের মধ্যে সরকার সমর্থকরা ১১টি এবং বাকি তিনটিতে বিএনপি সমর্থকরা জয়লাভ করেন। গতকালের বৈঠকে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না।  বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বাসেত মজুমদার এর আগেও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকও ছিলেন। বাসেত মজুমদার আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য।
ওদিকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুল বাসেত মজুমদার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় বার কাউন্সিল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। ১৫ সদস্যের কাউন্সিলের প্রথম সভায় অনুপস্থিত ব্যারিস্টার আমীর রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার) আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুনের বাসায় এক সভায় আমাকে ভাইস চেয়ারম্যান করার সিন্ধান্ত হয়। এ সময় আইনমন্ত্রী তাকে (সাহারা খাতুন) টেলিফোনে বলেন, যিনি বেশি ভোট পেয়েছেন, তিনি ভাইস চেয়ারম্যান হবেন। বার কাউন্সিলের উষালগ্ন থেকেই যিনি প্যানেলের নেতৃত্বে থাকেন তিনিই ভাইস চেয়ারম্যান হয়ে আসছেন, এটা প্রচলিত রীতি। এ অবস্থায় আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য চিঠিও পাঠিয়েছি।

কারাগারে থেকেই চেয়ারম্যান হলেন জামায়াত নেতা by আরফাত হোছাইন বিপ্লব

কারাগারে থেকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাফেজ কাজী মাওলানা নুরুল আলম চৌধুরী। পাগড়ী প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪৪৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবী টুপি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭৩৩ ভোট। ৭১৭ ভোটের ব্যাবধানে বেসরকারীভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে কারারুদ্ধ এ জামায়াত নেতাকে।
এদিকে কারাগারে থেকে জামায়াত নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তা ‘টক অব দ্য চিটাগাং’য়ে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে এটাই যেন আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে। বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর। অনেকে মন্তব্য করে বসেন, ‘লোহাগাড়া নয় শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রাখবে জামায়াত।’
রাজনৈতিক মামলা-হামলার কারণে লোহাগাড়া সাতকানিয়ার সাবেক এমপি মাওলানা শামশুল ইসলাম দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে। অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের বেশিরভাগ জেলে অথবা আত্মগোপনে। এমতাবস্থায় মাত্র একটি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হওয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিজয়কে অনেকেই বড় বিজয় বলেই দেখছেন। নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. ছাবের আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, জামায়াত প্রার্থী দিলেই বিজয়ী হয় এ ধারাবাহিকতা এখনো অক্ষুন্ন আছে লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায়। আমরা যে সৎলোকের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি জনগণ তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এস এম লুৎফর রহমান দাবি করেন, অন্য দুই ইউনিয়নে প্রার্থী দিলেও একই ফলাফল হতো বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত: ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লোহাগাড়া সদর ও আধুনগরে প্রার্থী না দিলেও আমিরাবাদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। তফসীল ঘোষণার পরপরই গ্রেফতার হন মাওলানা নুরুল আলম।

Tuesday, September 22, 2015

দেশে এখন মাছির চেয়ে মানুষ মারা সহজ : এরশাদ

দেশে এখন মাছি মারার চেয়েও মানুষ মারা সহজ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, দেশে সুশাসনের অভাবের কারণেই এমনটি হচ্ছে। কিন্তু কারোর কিছুই করার নেই। এভাবেই দেশ চলবে। আমাদের তা মেনে নিতে হবে।
তিনি রংপুরে পাঁচদিনের সফরে এসে পল্লী নিবাসে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন।
এরশাদ বলেন, কালিহাতিতে ওদের কী অপরাধ ছিল? ওরা তো পেট্রোল বোমার মারে নি। গাড়িতে হামলাও করেনি। ওরা মাকে অপমানের প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। সেটাই ওদের অপরাধ। ওদেরকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হলো। এখন কিছুই করার নেই। যেভাবে দেশ চলছে, সেভাবেই আমাদের মেনে নিতে হবে। আমাদের কিছুই করার নেই। কিছুই বলার নেই। এদেশে আর আইনের শাসন নেই। একথা আমি বার বার বলছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
এরশাদ বলেন, মেডিক্যালের প্রশ্নপত্র ফাঁস কারা করেছে, সরকার তা জানে। কিন্তু সরকার বলেছে পরীক্ষা ঠিকঠাক হয়েছে। তাই আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্য দিয়ে অমেধাবীরা চিকিৎসক হলে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। অপচিকিৎসায় তাদের হাতে মানুষ মরবে বলেও মন্তব্য করেন এরশাদ। এরশাদ বলেন, কিন্তু এসব বলা যাবে না।
পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার রংপুর এসেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। এসময় তার সাথে ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, মহানগর আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা সদস্য সচিব সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার, মহানগর সদস্য সচিব এসএম ইয়ামির প্রমুখ। পবিত্র ঈদ পালন করে ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় যাবেন।

শওকত মাহমুদের ওপর কেন এই নিষ্ঠুরতা by সৈয়দ আবদাল আহমদ

আশির দশকের শুরুতে ১৯৮২ সালে দেশের মর্যাদাশীল পত্রিকা দৈনিক বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিই। তখন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দেশবরেণ্য কবি শামসুর রাহমান। নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক আহমেদ হুমায়ুন। ওই বছর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বিএনপি সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ। দেশ ছিল সামরিক শাসনের কবলে। পত্রপত্রিকার ওপর আরোপ করা হয়েছিল কঠোর সেন্সরশিপ। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা রাজনীতিবিষয়ক রিপোর্ট ও লেখালেখির ওপর ছিল বিশেষ বিধিনিষেধ। ফলে পত্রপত্রিকায় গুরুত্ব পেত রাজনীতির বাইরে সামাজিক বিষয়ভিত্তিক খবর। তখন এত পত্রিকা ছিল না। স্বনামধন্য পত্রিকার মধ্যে ছিল দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক দেশ, দৈনিক আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভার, বাংলাদেশ টাইমস ও বাংলার বাণী। সার্কুলেশন কম হলেও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সাহসী রিপোর্টের জন্য দৈনিক সংবাদ ছিল আলোচিত পত্রিকা। প্রায় বিজ্ঞাপনশূন্য এ পত্রিকাটি থাকত রিপোর্টে ঠাসা। তখন সাংবাদিকতা জগতে দৈনিক সংবাদের একজন স্টাফ রিপোর্টার হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। পত্রিকা খুললেই পাওয়া যেত তার সাড়াজাগানো রিপোর্ট। একেক দিন একেক ধরনের রিপোর্ট। এক দিন হয়তো সামাজিক রিপোর্ট; পরের দিন অর্থনীতির রিপোর্ট। এমনিভাবে প্রশাসনের ভেতরের অনুসন্ধানী রিপোর্ট- ঘুষ, দুর্নীতি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় নিয়ে রিপোর্ট। রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও রাজনীতির ওপরও কৌশলী রিপোর্ট করতেন তিনি। পত্রিকার প্রথম পাতায় বিশেষ ট্রিটমেন্টে রিপোর্টগুলো ছাপা হতো। ফলে সহজেই তা সবার দৃষ্টি কাড়ত।
শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক আহমেদ হুমায়ুন যিনি সাংবাদিকদের কাছে হুমায়ুন ভাই হিসেবে পরিচিত, তিনি আমাদের প্রায়ই ওই রিপোর্টারের উদাহরণ দিতেন। দৈনিক বাংলার বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষকও ছিলেন হুমায়ুন ভাই। ওই রিপোর্টার ছিলেন তার প্রিয় ছাত্র। তিনি প্রায়ই বলতেন ছাত্র হিসেবে সে অত্যন্ত মেধাবী, সাংবাদিকতায় এসেও মেধার স্বাক্ষর রাখছে। আমাদের তিনি উপদেশ দিতেন- ‘তাকে ফলো করো, তার রিপোর্টগুলো পড়ো এবং সেভাবে রিপোর্টের পেছনে দৌড়াও।
আলোচিত এই রিপোর্টার শওকত মাহমুদ। তার রিপোর্ট যে-কাউকেই নাড়া দিত। অনুসন্ধানী রিপোর্ট যাকে বলে, হৃদয়গ্রাহী রিপোর্ট যাকে বলে, ডেপথ রিপোর্ট যাকে বলে শওকত মাহমুদের রিপোর্ট তার অনন্য উদাহরণ। শওকত মাহমুদের সাথে তখনো পরিচয় হয়নি। তবে দৈনিক সংবাদে তার রিপোর্ট পড়তে কখনো মিস করিনি। এভাবে তার ভক্ত হয়ে যাই। তার মতো রিপোর্ট লেখা ও বিচিত্র বিষয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করার আগ্রহ হয়।।
দৈনিক বাংলায় আমার সহকর্মী মুকুল ভাই (বর্তমানে এনটিভির হেড অব নিউজ খায়রুল আনোয়ার) এক দিন বললেন, শওকত মাহমুদ আমার রিপোর্টের খুব প্রশংসা করেছে। জানতে চেয়েছেন, ছেলেটি কে? বিজ্ঞান ও পরিবেশ নিয়ে আমার রিপোর্ট ব্যতিক্রমধর্মী বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। মুকুল ভাই তাকে আমার পরিচয় দিয়ে বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্র আমি। শওকত মাহমুদের প্রশংসার কথা শুনে আনন্দে মন ভরে যায়। মুকুল ভাইকে অনুরোধ করি তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। শওকত মাহমুদ মুকুল ভাইয়ের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
এক দিন ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে একটি কর্মশালা ছিল। এর ওপর রিপোর্ট করার জন্য দৈনিক বাংলা থেকে আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়। কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন হুমায়ুন ভাই। কয়েক দিন আগে সংবাদ পত্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে শওকত মাহমুদের সাড়াজাগানো সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। অনুসন্ধানী এই রিপোর্টটির আদ্যোপান্ত পড়েছিলাম। সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক কর্মশালায় গিয়ে দেখি সেখানে শওকত মাহমুদও উপস্থিত। সংবাদ থেকে তিনিও কর্মশালা কভার করতে এসেছেন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করার কারণে সেখানে তাকে বক্তব্য দেয়ারও সুযোগ দেয়া হয়। কর্মশালা শেষে তার কাছে গিয়ে পরিচিত হলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব প্রশংসা করলেন। বললেন, মুকুল আপনার কথা বলেছে। মনে হলো তিনি আমার অনেক দিনের চেনা। সেই থেকে তার সাথে হৃদ্যতা। বড় ভাই হিসেবে দেখি, শ্রদ্ধা করি।
২০১১ সালের দিকে হার্টের চিকিৎসার জন্য শওকত ভাই আমাকে ব্যাংককে নিয়ে যান। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করার পর প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা: আরাম সুচিত জানালেন, আমার হার্টে পাঁচটি ব্লক। তিনি জরুরিভাবে বাইপাস বা স্ট্যান্টিং করার জন্য পরামর্শ দেন। হার্টে পাঁচটি ব্লকের কথা শুনে ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু শওকত ভাই সাহস দিয়ে বললেন, হার্টের চিকিৎসা এখন মামুলি ব্যাপার, ঝুঁকি নেই। তাই ভয় প্ওায়ার কিছু নেই। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে অপারেশন ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন ব্যাংকক হাসপাতালের প্রখ্যাত হার্ট সার্জন অধ্যাপক ডা: কোসিনের কাছে। তিনি সদ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই হাসপাতালে এসে যোগদান করেছেন। ডা: কোসিন আমার এনজিওগ্রামের সিডি দেখে বললেন, বাইপাসের জন্য উপযুক্ত কেস। ব্যাংকক হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য তৈরি হলাম, অপারেশনের তারিখ ঠিক হলো। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলল। এরই মধ্যে হাইপো-থাইরয়েড সমস্যা ধরা পড়ায় অপারেশনের তারিখ পিছিয়ে যায়। এ অবস্থায় থার্ড ওপিনিয়নের জন্য আরেকজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের তরুণ কার্ডিওলজিস্ট ডা: সোয়াদচাই পরীক্ষা করে আমাকে স্ট্যান্টিং বা রিং লাগানোর পরামর্শ দিলেন। ফলে বাইপাসের চিন্তা বাদ দিয়ে ওই হাসপাতালেই ডা: আরামের কাছে স্ট্যন্টিংয়ের জন্য যাই। আমার চিকিৎসার জন্য শওকত ভাই ১৫ দিন ব্যাংককে ছিলেন। এরপর সুস্থ হয়ে দেশে ফিরি।
সাড়ে তিন বছর পর আবার হার্টে সমস্যা দেখা দেয়। এবার লেফট মেইন আর্টারির অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় ব্লক ধরা পড়ে। ডাক্তার বলেছেন, অতিরিক্ত স্ট্রেচের কারণে এ অবস্থা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু শওকত ভাই দেশে নেই। ১৫ আগস্ট দুপুরে ফ্লাইট। আগের রাতে হঠাৎ শওকত ভাইয়ের ফোন, ঢাকায় ফিরেছেন। বললেন, তিনি ব্যাংককে ছিলেন। আমার যাওয়ার বিষয়টি জানা থাকলে তিনি সেখানে থেকে যেতেন। যা হোক, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাকে সব কিছু জানাতে বললেন। এবার চিকিৎসার জন্য গেলাম ব্যাংককের মহিদুল ইউনিভার্সিটির সিরিরাজ হাসপাতালে। সরকারি এ হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন- সিরিরাজ প্রিয়মহারাজা কারুন হাসপাতালের কার্ডিয়াক সেন্টারের বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা: ধামরাজ আমাকে দেখলেন এবং ১৯ আগস্ট রাতে আমার এনজিওগ্রাফি ও ওসিটি এনজিওপ্লাস্টি করবেন বলে জানালেন। ভর্তি হলাম সিরিরাজ হাসপাতালের হিজ ম্যাজিস্ট্রি কার্ডিয়াক সেন্টারে। শওকত ভাইকে ১৮ আগস্ট একের পর এক ফোন করি। কিন্তু ফোনে তাকে পেলাম না। অবশেষে শুনলাম একটি দুঃসংবাদÑ তাকে ঢাকার বসুন্ধরা শপিংমলের সামনে থেকে ওই দিনই গ্রেফতার করা হয়েছে। খবরটি শুনে মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। ইচ্ছে হচ্ছিল তখনই ঢাকায় চলে আসি। কিন্তু এসে কী করব, তাকে তো মুক্ত করা যাবে না। দেশে চলছে জংলি শাসন। আইনকানুন বলতে কিছু নেই।
তবে শওকত ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে শঙ্কিত হয়ে পড়ি। তার হার্ট বাইপাস করা। আবার হার্টে তিনটি রিংও লাগানো আছে। তিনি উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস রোগী। প্রায় দুই বছর আগে তার ফুসফুসে পানি জমে এবং হার্ট ফেইলিওর হয়ে মরণাপন্ন অবস্থা হয়েছিল। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিকিৎসার সময় সাথে ছিলাম। প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে দেশে আসেন। বর্তমানে তিনি হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিস ছাড়াও পিত্তথলিতে পাথর, ব্যাকপেইন এবং চোখ ও দাঁতের সমস্যায় ভুগছেন। তার সাথে সব সময় বলতে গেলে ওষুধের একটি ডিসপেনসারি থাকে। এমন অসুস্থ একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে জেলে নেয়া চরম নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছু নয়।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে শওকত মাহমুদ একটি পরিচিত নাম। একজন মেধাবী ও সৃজনশীল সাংবাদিক হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। অগ্রজদের কাছে তিনি যেমন প্রিয়, তেমনি অনুজদের কাছেও শ্রদ্ধেয়। লিখেন ভালো, বলেন ভালো। যুক্তি ও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কথা বলেন না। যেকোনো বিষয়ে তার বিশ্লেষণ উড়িয়ে দেয়া যায় না। বর্তমানে তিনি সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ফোরাম বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের দু’বার সভাপতি ও চারবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের খ্যাতি ও আধুনিকায়নে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের রুটি-রুজির আন্দোলন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আন্দোলন এবং মিডিয়া আক্রান্ত হওয়ার বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার থেকেছেন। টিভি টকশোগুলোতে যুক্তির মাধ্যমে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। সাংবাদিকদের যেকোনো বিপদ-আপদেও তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে সহযোগিতা করেছেন। সত্যিকার অর্থেই তিনি দেশের সম্পদ। কিন্তু তাকে অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তার কণ্ঠ স্তব্ধ করা জন্য ইতঃপূর্বে উদ্দেশ্যমূলক মামলায় জড়ানো হয়। পেট্রল বোমা হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এ মামলাগুলো দেয়া হয়। একজন পেশাজীবী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের উদ্দেশ্যমূলক মামলা নজিরবিহীন। টিভি টকশো, লেখালেখি এবং পেশাজীবীদের বিভিন্ন সভা সমাবেশ, গোলটেবিল বৈঠক ও মানববন্ধনে তিনি অংশ নিয়েছেন, বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে তার কোনো তৎপরতা ছিল না। রাজপথে তিনি গাড়িতে বোমা হামলা কিংবা ভাঙচুর করেছেন এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পাগলেও এ কথা বিশ্বাস করবে না। শওকত মাহমুদ কি এ কাজ করতে পারেন? কখনোই নয়।
শওকত মাহমুদকে কেন গ্রেফতার করা হলো? তার অপরাধ কী? অন্যায়ের প্রতিবাদ করা একজন নাগরিকের নৈতিক অধিকার। তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। এটাই কি তার অপরাধ? তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। এটাই কি তার অপরাধ? একজন নাগরিক হিসেবে তার কি রাজনীতি করার অধিকার নেই? এ জন্য কি গ্রেফতার করতে হবে? রিমান্ডে নিতে হবে? নির্যাতন করতে হবে?
জাতীয় প্রেস ক্লাব ৬০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারবিরোধী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এ ক্লাবের ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবকে অভিহিত করা হতো-‘গণতন্ত্রের একখণ্ড দ্বীপ’ হিসেবে। ক্লাবটি সব সময়ই গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবার সেই ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। ক্লাবের নির্বাচন বানচাল করে দিয়ে আওয়ামী দখলীকরণ করা হয়েছে। নির্বাচন ছাড়া, সদস্যদের ভোট ছাড়া একটি ঘোষিত দখলদার কমিটি রাতের অন্ধকারে তালা ভেঙে ক্লাব দখল করে নিয়েছে। সেই দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন শওকত মাহমুদ। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন করতে হবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্যরা যাকে খুশি তাকে ক্লাবের দায়িত্বে নির্বাচিত করতে পারেন। সেই নির্বাচিত কমিটিই ক্লাব পরিচালনা করবে। এটাই তার অপরাধ।
শওকত মাহমুদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব দলীয়করণের প্রতিবাদ করায় সরকার তাকে গ্রেফতার করেছে। তার এই বক্তব্য যথার্থ। কিন্তু এ বক্তব্যে প্রেস ক্লাব দখলদারদের গাত্রদাহ হয়েছে। দখলদার কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদা জিয়ার বিবৃতির প্রতিবাদ করার স্পর্ধা পর্যন্ত দেখিয়েছেন। অথচ তাকে সাংবাদিক মোজাম্মেল হক ও শওকত মাহমুদের সুপারিশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯২-৯৩ সালে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস-এ চাকরি দেন। বাসস থেকে প্রধানমন্ত্রীর রিপোর্ট করার জন্য তাকে সংযুক্তও করা হয়। অসংখ্য দেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে তার হাত এতটুকু কাঁপেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে ১৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদকসহ ৭০০ সাংবাদিক বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
হঠাৎ শওকত মাহমুদকে কেন গ্রেফতার? অনেকেরই ধারণা তার গ্রেফতারের পেছনে স্বার্থান্বেষী কিছু সাংবাদিক নেতারও ইন্ধন থাকতে পারে। তার মেধা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তাদের ঈর্ষার কারণ। তাই এই সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে। তার ওপর যে নিষ্ঠুর জুলুম হচ্ছে তা এক কথায় অবর্ণনীয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বন্দী। গ্রেফতারের আগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা ছিল। এখন তাকে আরো মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলার সংখ্যা এখন ২১টি। আরো ১১টি মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। একের পর এক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। আদালতের কাছে পুলিশ ১২টি মামলায় তার ১২০ দিনের রিমান্ড চায়। আদালত বিভিন্ন মামলায় তাকে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মতিঝিল থানা, পল্টন থানা ও ডিবি অফিসে ১৪ দিন তাকে রিমান্ডে নিয়ে রাখা হয়েছে। রিমান্ডের চেয়েও কোর্টে হাজিরার জন্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে তাকে হয়রানি-নির্যাতন বেশি করা হচ্ছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আনা-নেয়া করা হয়। এই গরম এবং তীব্র যানজটের মধ্যে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা তাকে প্রিজন ভ্যানে আলো-বাতাসহীন দমবন্ধ অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে। একজন গুরুতর হার্টের রোগী হলেও তাকে আদালতের আটতলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানো-নামানো হচ্ছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অসুস্থ শরীরে এই নিষ্ঠুর নির্যাতন এখন তার প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা। একজন মেধাবী সাংবাদিক বিনা কারণেই এই নির্যাতন ভোগ করছেন। জামিন চাইলেও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যে তার ১০ কেজি ওজন কমে গেছে। বুকের সাথে পিঠ লেগে গেছে। চেহারা ভেঙে গেছে। তার সাথে কী নির্দয় আচরণ করা হচ্ছে কোর্টে হাজিরা দিতে আসা তার ছবিই প্রমাণ।
পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে আদালতের আদেশও আমলে নিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। কারাবিধি মোতাবেক সম্মানিত নাগরিক হিসেবে ডিভিশন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তাকে ডিভিশন না দিয়ে সাধারণ হাজতি হিসেবে রাখা হচ্ছে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসার খাবার তাকে দিতে দেয়া হচ্ছে না। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শওকত মাহমুদের মতো একজন মেধাবী সাংবাদিকের ওপর এই নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা বন্ধ হোক। এই কলমসৈনিককে অবলিম্বে মুক্তি দিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়া হোক। হ
লেখক :সৈয়দ আবদাল আহমদ। সাংবাদিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইসলাম বিতর্ক

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির একজন সম্ভাব্য প্রার্থী বেন কারসন বলেছেন, ইসলাম ধর্ম মার্কিন সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আমেরিকার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মি. কারসন বলেছেন, একজন মুসলিমকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মানতে রাজি নন।
তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির মুসলিম গ্রুপগুলো বলছে, এমন বক্তব্য দিয়ে মি. কারসন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন পাবার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
মাত্র আগের দিনই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে মুসলমান বলার প্রতিবাদ না করায়, রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখন প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন লাভের লড়াইয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। কেন এ প্রচারণায় ইসলাম বা মুসলমানদের নিয়ে এসব বক্তব্য আসছে?
বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াশিংটনে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম ভীতি আছে। সেই ভীতিটা আসলে রক্ষণশীলদের তৈরি করা একটা ভীতি।
তিনি বলছেন রক্ষণশীলা ধর্মের ভিত্তিতেই বিভক্তি করার চেষ্টা করে।
তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান। এটা রিপাবলিকান দলের অত্যন্ত রক্ষণশীলদের একটি অংশ চাচ্ছেন এটাকে ব্যবহার করে রিপাবলিকান দলের মধ্যে তাদের সমর্থন তৈরি করতে। এই দলটির বাইরে এর কোন আবেদন আছে বলে মনে হয়না।
বেন কারসন বলেছেন ইসলামি মূল্যবোধ মার্কিন সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।কি আছে সেদেশের সংবিধানে ?
এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রিয়াজ বলেন, “আর্টিক্যাল ৬-এ বলা হয়েছে ধর্ম কোন ধরনের সরকারি রাষ্ট্রীয় বা জনস্বার্থ পদে অধিষ্ঠিত হবার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারেনা। ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সংবিধানের বিরোধ কোথায় সেটা বেন কারসন বলেননি। এটা আসলে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা। ইসলাম বিরোধিতাকে জাগিয়ে তোলা বা ব্যবহারের জন্যেই এসব বলা হচ্ছে”।
কিন্তু ইসলাম বিরোধিতায় কি ভোট আসবে ?
এ প্রশ্নের জবাবে মি. রিয়াজ বলেন রক্ষণশীলদের মধ্যে পারবে। এখন প্রাথমিক পর্যায়ের নির্বাচন কিন্তু যিনি প্রার্থী হবেন তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ বিতর্কটা আসলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই রয়েছে। নির্বাচিত হবার ক্ষেত্রে এগুলো কাজে লাগবেনা।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমান ভোটার কতো ও রাজনীতিতে তাদের প্রভাব কতো জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রায় তিন মিলিয়ন মুসলমান রয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে মুসলমানদের প্রভাব রয়েছে। কিন্তু তারচেয়ে বড় বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থা ও সাম্যের জন্যে এটা ক্ষতিকর।
ফলে বেন কারসনের বক্তব্য রিপাবলিকান পার্টির জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্রঃ বিবিসি