Showing posts with label নয়া দিগন্ত. Show all posts
Showing posts with label নয়া দিগন্ত. Show all posts
Wednesday, October 14, 2015
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন সরকারের নীল নকশারই বাস্তবায়ন : এমাজ উদ্দীন
দলীয়
প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার মাধ্যমে সরকার নিজেদের নীল নকশারই
বাস্তবায়ন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ
উদ্দীন আহমেদ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত রাজনৈতিক
বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড: পিয়াস করিমের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে
স্মরণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এমাজউদ্দীন বলেন, ‘আমি ভেবে অবাক হই যারা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করছে তাদের মধ্যে কি এমন কেউ নেই যারা বলবে এটা হয় কি করে ? বাংলাদেশে এটা হওয়ার তো কথা নয়। ’
দেশের গ্রাম অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ ভোটকে বিনষ্ট করার জন্যই সরকার এই নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমাজউদ্দীন বলেন,দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ব্যক্তি স্বাধীনতা,নিরপত্তাবোধ,এই সরকারের শাসনামলে আমরা হারিয়েছি, আর হারাতে চাই না। তাই সময় এসেছে সরকারের বিরুদ্ধে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
তিনি বলেন, শহীদ মিনারের মালিকানাধীন এমন হাতে চলে গেছে যেখানে শুধু কিছু চেনা মানুষ যেতে পারছেন। শহীদ মিনারের স্মূতি তো এমনটি হতে পারে না।সেখানে কারোর অবদান দেখা হচ্ছে না দেখা হচ্ছে কেবল অনুসারী।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন,বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জে.(অব:) আ স ম হান্নান শাহ,যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ,ব্যারিষ্টার পারভেজ আহমেদ সাবেক কমিশনার ফরিদউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।
এমাজউদ্দীন বলেন, ‘আমি ভেবে অবাক হই যারা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করছে তাদের মধ্যে কি এমন কেউ নেই যারা বলবে এটা হয় কি করে ? বাংলাদেশে এটা হওয়ার তো কথা নয়। ’
দেশের গ্রাম অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ ভোটকে বিনষ্ট করার জন্যই সরকার এই নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমাজউদ্দীন বলেন,দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ব্যক্তি স্বাধীনতা,নিরপত্তাবোধ,এই সরকারের শাসনামলে আমরা হারিয়েছি, আর হারাতে চাই না। তাই সময় এসেছে সরকারের বিরুদ্ধে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
তিনি বলেন, শহীদ মিনারের মালিকানাধীন এমন হাতে চলে গেছে যেখানে শুধু কিছু চেনা মানুষ যেতে পারছেন। শহীদ মিনারের স্মূতি তো এমনটি হতে পারে না।সেখানে কারোর অবদান দেখা হচ্ছে না দেখা হচ্ছে কেবল অনুসারী।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন,বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জে.(অব:) আ স ম হান্নান শাহ,যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ,ব্যারিষ্টার পারভেজ আহমেদ সাবেক কমিশনার ফরিদউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।
রিভিউ আবেদন নিয়ে মুজাহিদের দুই প্রশ্ন by হাবিবুর রহমান
সুপ্রিম
কোর্টের আপিল রায় রায় পর্যালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রিভিউ আবেদন দায়ের করার জন্য আইনজীবীদেরকে তার
সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছেন। তিনি রিভিউ আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্ন
উত্থাপন করেছেন।
প্রশ্ন দুটি হলো
প্রথম প্রশ্ন : মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, রাজাকার, আলবদর, শান্তি কমিটি কোন তালিকায় মুজাহিদের নাম নেই। হঠাৎ করে ৪২ বছর পর কিভাবে তিনি আলবদরের কমান্ডার হয়ে গেলেন? তিনি আলবদর কমান্ডার হলেন কি করে?
দ্বিতীয় প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে তিনি ২৩ বছর বয়সের একজন ছাত্র ছিলেন। একজন ছাত্র কিভাবে আধা-সামরিক বাহিনীর কমান্ডার হতে পারেন? কে কখন কোথায় তাকে এই পদে নিয়োগ দিলেন এই মর্মে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো মৌখিক বা দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারেনি।
আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে তার পাঁচ আইনজীবীর সাক্ষাতে রিভিউ আবেদনে এই দুটি প্রশ্ন রাখার পরামর্শ দেন।
মুজাহিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: শিশির মনির বলেন, তার এই মতামতগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদনে (রিভিউ পিটিশন) অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আগামীকাল সকালে মহামান্য আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ পিটিশনটি দায়ের করা হবে।
তিনি বলেন, মুজাহিদ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি মনে করেন মহামান্য আপিল বিভাগ তার পুনর্বিবেচনার আবেদনটি মঞ্জুর করবেন এবং দন্ড মওকুফ করে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন।
তিনি দেশবাসীকে সালাম জানিয়েছেন, সবার দোয়া চেয়েছেন।
প্রশ্ন দুটি হলো
প্রথম প্রশ্ন : মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, রাজাকার, আলবদর, শান্তি কমিটি কোন তালিকায় মুজাহিদের নাম নেই। হঠাৎ করে ৪২ বছর পর কিভাবে তিনি আলবদরের কমান্ডার হয়ে গেলেন? তিনি আলবদর কমান্ডার হলেন কি করে?
দ্বিতীয় প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে তিনি ২৩ বছর বয়সের একজন ছাত্র ছিলেন। একজন ছাত্র কিভাবে আধা-সামরিক বাহিনীর কমান্ডার হতে পারেন? কে কখন কোথায় তাকে এই পদে নিয়োগ দিলেন এই মর্মে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো মৌখিক বা দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারেনি।
আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে তার পাঁচ আইনজীবীর সাক্ষাতে রিভিউ আবেদনে এই দুটি প্রশ্ন রাখার পরামর্শ দেন।
মুজাহিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: শিশির মনির বলেন, তার এই মতামতগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদনে (রিভিউ পিটিশন) অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আগামীকাল সকালে মহামান্য আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ পিটিশনটি দায়ের করা হবে।
তিনি বলেন, মুজাহিদ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি মনে করেন মহামান্য আপিল বিভাগ তার পুনর্বিবেচনার আবেদনটি মঞ্জুর করবেন এবং দন্ড মওকুফ করে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন।
তিনি দেশবাসীকে সালাম জানিয়েছেন, সবার দোয়া চেয়েছেন।
কঠোর গোপনীয়তায় কুনিও হোশির লাশ দাফন
রংপুরে
দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত জাপানি নাগরিক কুনিও হোশির লাশ স্থানীয়
মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গতরাত আড়াইটার পর কোনো এক সময় কঠোর
গোপনীয়তার মধ্যে তাকে দাফন করা হয়। জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার খান বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন। তবে কবরস্থানের রেজিস্ট্রারে এখনো পর্যন্ত কুনিও হোশির নাম
অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এর আগে সকালে রংপুরের মেয়র শরফুদ্দিন ঝন্টু রাত আড়াইটার দিকে তার কাছ লাশ দাফনের অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোথায় তাকে দাফন করা হয়েছে তা জানাননি তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, রাত দেড়টায় রংপুর মেডিক্যালের হিমঘর থেকে লাশ নেয় প্রশাসন। এরপর রাত আড়াইটায় সিটি মেয়রেরর কাছে দাফনের অনুমতি চায়। তিনি অনুমতি দেয়ার পর রাতেই তাকে কঠোর গোপনীয়তায় দাফন করা হয়।
এদিকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর কুনিও হোশির লাশ এত কঠোর গোপনীয়তায় দাফন করায় জনমনে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর নগরের উপকণ্ঠে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন কুনিও হোশি। এরপর থেকে তার লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হিমঘরে রাখা হয়। কিন্তু কুনিও হোশির স্বজনদের পক্ষ থেকেও তার লাশ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়নি। আবার বাংলাদেশে দাফন করার ব্যাপারে জাপান সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়। তাই রংপুরের স্থানীয় প্রশাসনকে জাপান দূতাবাসের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে পাঠানো হয়।
এর আগে সকালে রংপুরের মেয়র শরফুদ্দিন ঝন্টু রাত আড়াইটার দিকে তার কাছ লাশ দাফনের অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোথায় তাকে দাফন করা হয়েছে তা জানাননি তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, রাত দেড়টায় রংপুর মেডিক্যালের হিমঘর থেকে লাশ নেয় প্রশাসন। এরপর রাত আড়াইটায় সিটি মেয়রেরর কাছে দাফনের অনুমতি চায়। তিনি অনুমতি দেয়ার পর রাতেই তাকে কঠোর গোপনীয়তায় দাফন করা হয়।
এদিকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর কুনিও হোশির লাশ এত কঠোর গোপনীয়তায় দাফন করায় জনমনে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর নগরের উপকণ্ঠে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন কুনিও হোশি। এরপর থেকে তার লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হিমঘরে রাখা হয়। কিন্তু কুনিও হোশির স্বজনদের পক্ষ থেকেও তার লাশ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়নি। আবার বাংলাদেশে দাফন করার ব্যাপারে জাপান সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়। তাই রংপুরের স্থানীয় প্রশাসনকে জাপান দূতাবাসের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে পাঠানো হয়।
দামেস্কের রুশ দূতাবাসে রকেট হামলা
সিরিয়ার
রাজধানী দামেস্কে রুশ দূতাবাসে মঙ্গলবার দুটি রকেট আঘাত হেনেছে।
প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের
সমর্থন ঘোষণা করার প্রেক্ষাপটে এই হামলা হলো। হামলার পর ব্যাপক আতঙ্কের
সৃষ্টি হয়।
কোন পক্ষ হামলাটি চালিয়েছে তা জানা যায়নি। আসাদবিরোধী গ্রুপগুলো অতীতে রুশ দূতাবাসকে টার্গেট করেছিল। কিন্তু এবার তারাই তা করেছে কি না তা তারা দাবি করেনি।
হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দামেস্কের পূর্ব প্রান্ত থেকে রকেট দুটি নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে।
এছাড়া শত শত সিরিয়ান দূতাবাসের কাছে গিয়ে আসাদের প্রতি রুশ সমর্থনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।
কোন পক্ষ হামলাটি চালিয়েছে তা জানা যায়নি। আসাদবিরোধী গ্রুপগুলো অতীতে রুশ দূতাবাসকে টার্গেট করেছিল। কিন্তু এবার তারাই তা করেছে কি না তা তারা দাবি করেনি।
হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দামেস্কের পূর্ব প্রান্ত থেকে রকেট দুটি নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে।
এছাড়া শত শত সিরিয়ান দূতাবাসের কাছে গিয়ে আসাদের প্রতি রুশ সমর্থনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান দুই কারারক্ষী বরখাস্ত
প্রিজন
সেলে বন্দীর সাথে স্বজনদের কথা বলানো এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের সাথে
কথা বলার অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই প্রধান কারারক্ষীকে সাময়িক
বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রিজন সেলে ঘটনাটি ঘটে। পরে আইজি
প্রিজনের নির্দেশে তাদের দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে কারাগারের একাধিক
সুত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধান কারারক্ষীরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার প্রধান কারারক্ষী নজরুল ইসলামের ডিউটি ছিল বারডেম হাসপাতালে। আরেক কারারক্ষী জসিম হাবিলদারের ডিউটি ছিল প্রিজন সেলে। কিন্তু প্রধান কারারক্ষী নজরুল বারডেমের বন্দীদের দায়িত্ব পালন না করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে এসে দেখা করেন তালিকার্ভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জোফেসের সাথে। ওই সময় প্রিজন সেল ভিজিট করতে যান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার। তিনি জোসেফের সাথে প্রধান কারারক্ষী নজরুলকে কথা বলতে দেখেন। পরে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রধান কারারক্ষী নজরুল ও হাবিলদার জসিমকে কৈফিয়ত তলব করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে আইজি প্রিজন ঘটনটি জানতে পেরে দুজনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধান কারারক্ষীরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার প্রধান কারারক্ষী নজরুল ইসলামের ডিউটি ছিল বারডেম হাসপাতালে। আরেক কারারক্ষী জসিম হাবিলদারের ডিউটি ছিল প্রিজন সেলে। কিন্তু প্রধান কারারক্ষী নজরুল বারডেমের বন্দীদের দায়িত্ব পালন না করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে এসে দেখা করেন তালিকার্ভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জোফেসের সাথে। ওই সময় প্রিজন সেল ভিজিট করতে যান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার। তিনি জোসেফের সাথে প্রধান কারারক্ষী নজরুলকে কথা বলতে দেখেন। পরে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রধান কারারক্ষী নজরুল ও হাবিলদার জসিমকে কৈফিয়ত তলব করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে আইজি প্রিজন ঘটনটি জানতে পেরে দুজনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
Tuesday, September 29, 2015
মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে খ্রিস্টান-মুসলিম দাঙ্গায় নিহত ৭০
মধ্য
আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে খ্রিস্টান-মুসলিম দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭০-এ
দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে কয়েক ডজন ঘরবাড়ি। সংঘর্ষ ও লুটপাট অব্যাহত
রয়েছে।
দেশটির রাজধানী বাঙ্গুইয়ে এক মুসলিম ব্যক্তির লাশ পাওয়ার প্রতিবাদে খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালায় মুসলমানরা। এতে শনিবার ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
এরপর রোববার রাজপথ দখলে নেয় খ্রিস্টান বিদ্রোহীরা। সশস্ত্র খ্রিস্টান জঙ্গিরা রাজধানীর সড়কগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের চলাচল ঠেকাতে তারা রাজধানীর বাঙ্গুইয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে।
যুবকরা বাঙ্গুইয়ের প্রধান সড়কগুলো গাছের গুড়ি ফেলে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শান্তিরক্ষীরা সড়ক অবরোধ ভাঙতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলেও তা কাজে আসেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, শহরে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে লুটপাট চলছে।
দেশটিতে শান্তিরক্ষার কাজে নিয়োজিত আছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী এবং ফরাসি সেনারা।
সরকার রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
সরকার বলছে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বানচাল করার জন্যই এই সংঘাতের সৃষ্টি।
খ্রিস্টান প্রধান দেশটিতে ২০১৩ সালে মুসলিম সেলেকা বিদ্রোহীরা ক্ষমতা দখলের পর দুই বছর ধরে সহিংসতায় হাজার হাজার লোক মারা গেছে।
সূত্র : ইউরো নিউজ ও আল-জাজিরা অনলাইন
দেশটির রাজধানী বাঙ্গুইয়ে এক মুসলিম ব্যক্তির লাশ পাওয়ার প্রতিবাদে খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালায় মুসলমানরা। এতে শনিবার ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
এরপর রোববার রাজপথ দখলে নেয় খ্রিস্টান বিদ্রোহীরা। সশস্ত্র খ্রিস্টান জঙ্গিরা রাজধানীর সড়কগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের চলাচল ঠেকাতে তারা রাজধানীর বাঙ্গুইয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে।
যুবকরা বাঙ্গুইয়ের প্রধান সড়কগুলো গাছের গুড়ি ফেলে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শান্তিরক্ষীরা সড়ক অবরোধ ভাঙতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলেও তা কাজে আসেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, শহরে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে লুটপাট চলছে।
দেশটিতে শান্তিরক্ষার কাজে নিয়োজিত আছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী এবং ফরাসি সেনারা।
সরকার রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
সরকার বলছে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বানচাল করার জন্যই এই সংঘাতের সৃষ্টি।
খ্রিস্টান প্রধান দেশটিতে ২০১৩ সালে মুসলিম সেলেকা বিদ্রোহীরা ক্ষমতা দখলের পর দুই বছর ধরে সহিংসতায় হাজার হাজার লোক মারা গেছে।
সূত্র : ইউরো নিউজ ও আল-জাজিরা অনলাইন
Friday, September 25, 2015
পুলিশের বেআইনি আচরণ করার কারণ : ডয়েচে ভেলের বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আটক, গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আইন ও
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে৷ আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, এ
সব বেআইনি কাজের প্রধান কারণ পুলিশের ওপর সরকারের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা৷
সর্বশেষ ঘটনা : সন্তানের সামনে মা-কে নির্যাতন
১৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন৷ ঐ এলাকায় ছেলের সামনে মাকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ নির্যাতকারীদের পক্ষ নেয়৷ স্বাভাবিকভাবেই এতে জনতা প্রতিবাদী হলে তাদের দমন করতে গুলি চালায় পুলিশ৷
১১ মাসের শিশুকে আটক
১৬ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার একটি মামলায় রাজু আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তার এবং মাত্র ১১ মাস বয়সি শিশুপুত্র রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়৷ থানা হাজতে আটকের ১৯ ঘণ্টা পর ৪২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্তি দেয়া হয়৷
পঙ্গু মানুষের হাতে হাতকড়া
১৫ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে আবুল হোসেন নামে এক পঙ্গু আসামিকে হাতকড়া পড়িয়ে আদালতে নেয় পুলিশ৷ আবুল হোসেনের দুই পা-ই নেই৷
মাদক মামলায় শিশু গ্রেপ্তার
৭ই সেপ্টেম্বর সাগর শেখ (১২) ও রবিন আলী (১৪) নামের দুই শিশুকে মাদক মামলায় হাতকড়া পরিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করে কাফরুল থানা পুলিশ৷
পুলিশের কাছে পদোন্নতিই বড়, জনগণ নগন্য : এলিনা খান
ওপরের চারটি ঘটনাই চলতি সেপ্টেম্বর মাসের৷ তাই এর আগে থেকে হিসেব করলে এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়তেই থাকবে৷
বাংলাদেশে নারী ও শিশু আইনে স্পষ্ট বলা আছে নারী ও শিশুদের প্রতি পুলিশকে কী ধরনের আচরণ করতে হবে৷ কী ধরনের আচরণ করতে হবে পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে৷ অথচ তারপরও পুলিশ কেন আইন লঙ্ঘন করছে?
এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ আইন জেনেও আইনের লঙ্ঘন করছে৷ এর কারণ তাদের অসততা এবং সুবিধা লাভের প্রবণতা৷ আমি বলব তারা জ্ঞানপাপী৷''
পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা-মামলা হওয়া উচিত: জ্যোতির্ময় বড়ুয়া
ওদিকে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ পুলিশ অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না৷ কারণ সরকার অতিমাত্রায় পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়েছে৷ আর পুলিশ এই সুবিধা নিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের কাজ করে চলেছে৷ পেশাদারিত্ব ভুলে গেছে তারা৷''
এ দু'জনই মনে করেন, যদি পুলিশকে রাজনীতির বাইরে রেখে জবাবদিহিতার আওতায় আনা না হয়, তাহলে এ ধরণের বেআইনি ঘটনা আরো বাড়বে৷ বার বার এমন বেআইনি ঘটনা ঘটাবে পুলিশ৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে
সর্বশেষ ঘটনা : সন্তানের সামনে মা-কে নির্যাতন
১৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন৷ ঐ এলাকায় ছেলের সামনে মাকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ নির্যাতকারীদের পক্ষ নেয়৷ স্বাভাবিকভাবেই এতে জনতা প্রতিবাদী হলে তাদের দমন করতে গুলি চালায় পুলিশ৷
১১ মাসের শিশুকে আটক
১৬ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার একটি মামলায় রাজু আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তার এবং মাত্র ১১ মাস বয়সি শিশুপুত্র রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়৷ থানা হাজতে আটকের ১৯ ঘণ্টা পর ৪২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্তি দেয়া হয়৷
পঙ্গু মানুষের হাতে হাতকড়া
১৫ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে আবুল হোসেন নামে এক পঙ্গু আসামিকে হাতকড়া পড়িয়ে আদালতে নেয় পুলিশ৷ আবুল হোসেনের দুই পা-ই নেই৷
মাদক মামলায় শিশু গ্রেপ্তার
৭ই সেপ্টেম্বর সাগর শেখ (১২) ও রবিন আলী (১৪) নামের দুই শিশুকে মাদক মামলায় হাতকড়া পরিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করে কাফরুল থানা পুলিশ৷
পুলিশের কাছে পদোন্নতিই বড়, জনগণ নগন্য : এলিনা খান
ওপরের চারটি ঘটনাই চলতি সেপ্টেম্বর মাসের৷ তাই এর আগে থেকে হিসেব করলে এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়তেই থাকবে৷
বাংলাদেশে নারী ও শিশু আইনে স্পষ্ট বলা আছে নারী ও শিশুদের প্রতি পুলিশকে কী ধরনের আচরণ করতে হবে৷ কী ধরনের আচরণ করতে হবে পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে৷ অথচ তারপরও পুলিশ কেন আইন লঙ্ঘন করছে?
এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ আইন জেনেও আইনের লঙ্ঘন করছে৷ এর কারণ তাদের অসততা এবং সুবিধা লাভের প্রবণতা৷ আমি বলব তারা জ্ঞানপাপী৷''
পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা-মামলা হওয়া উচিত: জ্যোতির্ময় বড়ুয়া
ওদিকে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ পুলিশ অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না৷ কারণ সরকার অতিমাত্রায় পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়েছে৷ আর পুলিশ এই সুবিধা নিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের কাজ করে চলেছে৷ পেশাদারিত্ব ভুলে গেছে তারা৷''
এ দু'জনই মনে করেন, যদি পুলিশকে রাজনীতির বাইরে রেখে জবাবদিহিতার আওতায় আনা না হয়, তাহলে এ ধরণের বেআইনি ঘটনা আরো বাড়বে৷ বার বার এমন বেআইনি ঘটনা ঘটাবে পুলিশ৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে
Thursday, September 24, 2015
মিনায় পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১৭
সৌদি
আরবে হজ পালনের সময় মিনায় পদদলিত হয়ে অন্তত ৭১৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির
টেলিভিশন আল-আখবারিয়া ও সৌদি গেজেট পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে। আজ
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের
বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ টুইটারে জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত
৮০৫ জন। যত সময় যাচ্ছে এ ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। মিনার এই
হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোক প্রকাশ করেছেন। মুজদালিফা থেকে শয়তানের
উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপের জন্য মুসল্লিরা মিনায় যাচ্ছিলেন। এ সময় পদদলিত হয়ে
হতাহতের ঘটনা ঘটে। জায়গাটি মক্কা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনায়
আহতদের স্থানীয় মিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় চার হাজার
উদ্ধারকর্মী ও ২৫০টি অ্যাম্বুলেন্স আহতদের উদ্ধারে নিয়োজিত রয়েছে। বিশ্বের
বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ লক্ষাধিক মানুষ মক্কায় হজ পালন করতে গেছেন। দেশটির
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি
বলেন, ‘মিনায় একটি পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ
তদারকি করছে।’ বিবিসি জানিয়েছে, শয়তানের উদ্দেশে পাথর মারার রীতি পালনের
সময় পদদলনের ঘটনা ঘটে। হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এটি পালন করা প্রত্যেক
সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফরজ। গত ১১ সেপ্টেম্বর হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর
আগের দিন সৌদি আরবের মসজিদ আল-হারামে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবল বাতাসের কারণে
নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ভারি ক্রেন মসজিদের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে শতাধিক
মানুষ নিহত হন। এছাড়া আহত হন প্রায় ২৫০ জন। এর আগে ২০০৬ সালের ১২ জানুয়ারি
মক্কার জামারাত সেতু থেকে নামার সময় পদদলিত হয়ে মারা যান অন্তত ৩৪০ জন
হজযাত্রী। এ সময় আহত হন আরো অন্তত ২৯০ জন।
কাবাঘরের চাবি by আসিফ হাসান
কাবা
আল্লাহর ঘর। এই ঘরকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার চেষ্টা সবসময়ই দেখা গেছে। এই
ঘরের সেবা অত্যন্ত সোয়াবের কাজ বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে অনেকবারই এর সৌন্দয়
বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই কাবাঘরের দরজা সোনা দিয়ে তৈরি করা
হয়েছে।
১৩৯৬ হিজরিতে বাদশাহ খালেদ ২৮৬ কেজি সোনা দিয়ে বর্তমান দরজাটি তৈরি করেছেন। এতে আল্লাহপাকের নাম এবং কোরআনের আয়াত লেখা রয়েছে। কাবা শরিফের দরজাটিতে দুটি অংশ রয়েছে। মাঝখানে তালা আছে।
১৩৯৬ হিজরিতে বাদশাহ খালেদ ২৮৬ কেজি সোনা দিয়ে বর্তমান দরজাটি তৈরি করেছেন। এতে আল্লাহপাকের নাম এবং কোরআনের আয়াত লেখা রয়েছে। কাবা শরিফের দরজাটিতে দুটি অংশ রয়েছে। মাঝখানে তালা আছে।
কাবাঘরের দরজা
এই তালার চাবি কটি বিশেষ বনু তালহা গোত্রের গোত্রের কাছে থাকে। প্রাচীন কাল থেকেই তাদের হাতে রয়েছে কাবাঘরের চাবি। তবে প্রথম আমলের তালা যেমন এখন আর নেই, চাবিও নেই। তবে বর্তমানটির পাশাপাশি পুরান আমলের অনেক চাবি এখনো অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। কাবার বর্তমান চাবিটি ৩৫ সেন্টিমিটার। বিশেষভাবে বানো বাক্সে রাখা হয় এই চাবিটি।

এই তালার চাবি কটি বিশেষ বনু তালহা গোত্রের গোত্রের কাছে থাকে। প্রাচীন কাল থেকেই তাদের হাতে রয়েছে কাবাঘরের চাবি। তবে প্রথম আমলের তালা যেমন এখন আর নেই, চাবিও নেই। তবে বর্তমানটির পাশাপাশি পুরান আমলের অনেক চাবি এখনো অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। কাবার বর্তমান চাবিটি ৩৫ সেন্টিমিটার। বিশেষভাবে বানো বাক্সে রাখা হয় এই চাবিটি।
কাবাঘরের একটি পুরাতন চাবি
এমনকি মক্কা বিজয়ের পর অনেক কিছুতে পরিবর্তন হলেও মহানবি (সা.) এই গোত্রের হাতেই কাবাঘরের চাবিটি রেখে দেন। ফলে তারাই কাবাঘরের আনুষ্ঠানিক সেবক।
মক্কা বিজয়ের দিন তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে কাবাঘরকে পবিত্র করেন। পরে তাদের হাতেই চাবি ফিরিয়ে দেন।
এ সময় তিনি বলেন : ‘হে বনি আবদুদ দুর কিয়ামত পর্যন্ত চির দিনের জন্য এই চাবি গ্রহণ করো। জালেম ছাড়া কেউ তোমাদের কাছ থেকে এই চাবি ছিনিয়ে নেবে না।’
কাবাঘর সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিতদের আরবিতে 'সাদালাতুল কাবা' বলা হয়। বনু তালহা গোত্রের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি কাবার চাবি বহন করেন।

এমনকি মক্কা বিজয়ের পর অনেক কিছুতে পরিবর্তন হলেও মহানবি (সা.) এই গোত্রের হাতেই কাবাঘরের চাবিটি রেখে দেন। ফলে তারাই কাবাঘরের আনুষ্ঠানিক সেবক।
মক্কা বিজয়ের দিন তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে কাবাঘরকে পবিত্র করেন। পরে তাদের হাতেই চাবি ফিরিয়ে দেন।
এ সময় তিনি বলেন : ‘হে বনি আবদুদ দুর কিয়ামত পর্যন্ত চির দিনের জন্য এই চাবি গ্রহণ করো। জালেম ছাড়া কেউ তোমাদের কাছ থেকে এই চাবি ছিনিয়ে নেবে না।’
কাবাঘর সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিতদের আরবিতে 'সাদালাতুল কাবা' বলা হয়। বনু তালহা গোত্রের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি কাবার চাবি বহন করেন।
Wednesday, September 23, 2015
আজ জরুরি বৈঠকে বসছেন ইইউ নেতারা
ইউরোপীয়
ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা আজ বুধবার শরণার্থী সংকট নিয়ে একটি জরুরি সম্মেলন
করবেন। এক লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে ভাগাভাগি করে নিতে একটি বিতর্কিত
চুক্তিতে ইইউ মন্ত্রীরা সম্মত হওয়ার একদিন পর এ সম্মেলন হচ্ছে।
ইইউ’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল মঙ্গলবার ব্রাসেলসে চুক্তির ওপর ভোট দেন। এ চুক্তির আওতায় ইইউভুক্ত দেশগুলোকে অবশ্যই গ্রিস ও ইতালির মতো সম্মুখসারির দেশগুলোতে আসা শরণার্থীদেরকে কোটার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে চুক্তিটি পাস হয়। তবে সর্বসম্মতিক্রমে এটা গৃহীত হয়নি। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো থেকে ব্যাপক বিরোধিতা করা হয়েছে।
রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। রোমানিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ইউরোপ বৃহত্তম শরণার্থী সঙ্কটের মুখে পড়েছে।
লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জ্যাঁ অ্যাসেলবর্ন বলেন, বিরোধিতা সত্ত্বেও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ এখন ‘জরুরি পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে। বর্তমানে ইইউ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে লুক্সেমবার্গ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটা না করলে ইউরোপ আরো বিভক্ত হয়ে যেত।’
ভোটাভুটির পর চেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিলান শোভানেক এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘সাধারণ বোধবুদ্ধি আজ হারিয়ে গেল। আমরা শিগগিরই টের পাব যে রাজাদের জন্য আর কোনো বস্ত্র নেই।’
আর স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেন, প্রস্তাব গ্রহণ করার চেয়ে ইইউ’র আইন ভাঙার জন্য তিনি প্রস্তুত।
বুধবারের জরুরি সম্মেলনে ইইউ নেতারা শরণার্থীদের ভাগাভাগি করে নেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদনের পাশাপাশি জোটের সীমান্তে আরো কড়াকড়ি আরোপ এবং তুরস্ক, জর্ডান, লেবানন ও জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত তহবিল প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেবেন।
তবে সামনে অনেক সমস্যাও রয়েছে। কারণ গ্রিস তার সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাইরের সাহায্য গ্রহণ করতে চাপের মুখে পড়তে পারে এবং এথেন্সে নতুন করে সার্বভৌমত্ব উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
ইউরোপ চলতি বছর হাজার হাজার শরনার্থীর ঢল সামলাচ্ছে। সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরিত্রিয়ায় সংঘর্ষ ও দমনপীড়নের কারণে শরণার্থীদের অনেকে পালিয়ে ইউরোপ যাচ্ছে।
ইইউ’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল মঙ্গলবার ব্রাসেলসে চুক্তির ওপর ভোট দেন। এ চুক্তির আওতায় ইইউভুক্ত দেশগুলোকে অবশ্যই গ্রিস ও ইতালির মতো সম্মুখসারির দেশগুলোতে আসা শরণার্থীদেরকে কোটার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে চুক্তিটি পাস হয়। তবে সর্বসম্মতিক্রমে এটা গৃহীত হয়নি। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো থেকে ব্যাপক বিরোধিতা করা হয়েছে।
রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। রোমানিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ইউরোপ বৃহত্তম শরণার্থী সঙ্কটের মুখে পড়েছে।
লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জ্যাঁ অ্যাসেলবর্ন বলেন, বিরোধিতা সত্ত্বেও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ এখন ‘জরুরি পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে। বর্তমানে ইইউ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে লুক্সেমবার্গ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটা না করলে ইউরোপ আরো বিভক্ত হয়ে যেত।’
ভোটাভুটির পর চেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিলান শোভানেক এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘সাধারণ বোধবুদ্ধি আজ হারিয়ে গেল। আমরা শিগগিরই টের পাব যে রাজাদের জন্য আর কোনো বস্ত্র নেই।’
আর স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেন, প্রস্তাব গ্রহণ করার চেয়ে ইইউ’র আইন ভাঙার জন্য তিনি প্রস্তুত।
বুধবারের জরুরি সম্মেলনে ইইউ নেতারা শরণার্থীদের ভাগাভাগি করে নেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদনের পাশাপাশি জোটের সীমান্তে আরো কড়াকড়ি আরোপ এবং তুরস্ক, জর্ডান, লেবানন ও জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত তহবিল প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেবেন।
তবে সামনে অনেক সমস্যাও রয়েছে। কারণ গ্রিস তার সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাইরের সাহায্য গ্রহণ করতে চাপের মুখে পড়তে পারে এবং এথেন্সে নতুন করে সার্বভৌমত্ব উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
ইউরোপ চলতি বছর হাজার হাজার শরনার্থীর ঢল সামলাচ্ছে। সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরিত্রিয়ায় সংঘর্ষ ও দমনপীড়নের কারণে শরণার্থীদের অনেকে পালিয়ে ইউরোপ যাচ্ছে।
নামাজ নিয়ে কটাক্ষ করে বিচারের মুখোমুখি ফরাসী রাজনীতিক
মুসলমানদের
প্রকাশ্যে নামাজ পড়াকে নাৎসি দখলদারিত্বের সঙ্গে তুলনা করে বিচারের
সম্মুখীন হচ্ছেন মেরিন লি পেন নামে এক ফরাসি নারী রাজনীতিক। লি পেনের দল
এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিয়নের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।
লিয়নের প্রসিকিউটর অফিস হতে বলা হয়, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর বৈষম্য উস্কে দেয়ার অভিযোগে লি পেনকে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে। লি পেনের বিচারের জন্য অক্টোবরের ২০ তারিখ দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি নিউজ চ্যানেল ফ্রান্স২৪।
লি পেন আল্ট্রা-কনজারভেটিভ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এফএন) পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন। এটি তার পিতা জাঁ-মারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২০১০ সালে একটি জনসভায় তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। মসজিদ জনাকীর্ণ হওয়ার কারণে ফরাসি মুসলিমদের রাস্তায় নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয় বলে তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। তিনি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, ‘আমরা যদি পেশার বিষয়ে কথা বলি, তাহলে আমরা রাস্তায় নামাজ সম্পর্কে বলতে পারি। কারণ এটি নিশ্চিতভাবেই একটি আঞ্চলিক পেশা।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোন ট্যাংক নেই, কোন সৈন্য নেই, তথাপিও এটি একটি পেশা এবং এটি মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’
লি পেনের এই মন্তব্যের প্রাথমিক তদন্ত ২০১১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরের বছর দেশটির একটি মানবাধিকার গ্রুপের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবার শুরু হয়। লি পেন এই বিচারকে একটি কলঙ্ক বলে অভিহিত করে এর নিন্দা জানান।
লিয়নের প্রসিকিউটর অফিস হতে বলা হয়, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর বৈষম্য উস্কে দেয়ার অভিযোগে লি পেনকে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে। লি পেনের বিচারের জন্য অক্টোবরের ২০ তারিখ দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি নিউজ চ্যানেল ফ্রান্স২৪।
লি পেন আল্ট্রা-কনজারভেটিভ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এফএন) পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন। এটি তার পিতা জাঁ-মারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২০১০ সালে একটি জনসভায় তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। মসজিদ জনাকীর্ণ হওয়ার কারণে ফরাসি মুসলিমদের রাস্তায় নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয় বলে তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। তিনি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, ‘আমরা যদি পেশার বিষয়ে কথা বলি, তাহলে আমরা রাস্তায় নামাজ সম্পর্কে বলতে পারি। কারণ এটি নিশ্চিতভাবেই একটি আঞ্চলিক পেশা।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোন ট্যাংক নেই, কোন সৈন্য নেই, তথাপিও এটি একটি পেশা এবং এটি মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’
লি পেনের এই মন্তব্যের প্রাথমিক তদন্ত ২০১১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরের বছর দেশটির একটি মানবাধিকার গ্রুপের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবার শুরু হয়। লি পেন এই বিচারকে একটি কলঙ্ক বলে অভিহিত করে এর নিন্দা জানান।
নাটোরে ১ মাসে শিক্ষকসহ অপহৃত ১০॥ নিখোঁজ ৩ by মোঃ শহীদুল হক সরকার
![]() |
| প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হককে এভাবেই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে অপহরণকারীরা। পরে র্যাব তাকে উদ্ধার করে |
নাটোরে
গত এক মাসে ছাত্র-শিক্ষকসহ ১০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এক মাদরাসা
ছাত্রকে মৃত ও ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে দুই মাদরাসা
ছাত্র ও এক বাক প্রতিবন্ধী। এসব ঘটনায় নাটোরের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
র্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগষ্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসে নাটোর জেলায় চার মাদরাসা ছাত্র, এক মাদরাসা ছাত্রী, এক প্রধান শিক্ষক, দুই ব্যবসায়ী, এক নারী ও এক বাক প্রতিবন্ধী নিমার্ণ শ্রমিকসহ ১০টি অপহরনের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনার মধ্যে প্রধান শিক্ষককে র্যাব ও দুই ব্যবসায়ীকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। মাদরাসা ছাত্র আমিনুল হককে (১২) মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। নাটোর শহরের আলাইপুরের কওমী মাদরাসা ছাত্র তানভীর হোসেনের (১১) লাশ মাদরাসার পাশের সেপটিক ট্র্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। অপহৃত নারীকে গণধর্ষণের পর অপহরণকারীরাই ছেড়ে দেয়। এ ছাড়া বড়াইগ্রামের রাজাপুর কওমী মাদরাসার অপহৃত ছাত্র সাইফুল্লাহ (১২), নাটোর সদরের লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া কওমী মাদরাসার ছাত্র কাজল (১১) এবং নাটোর সদরের গৌরিপুর গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী নিমার্ণ শ্রমিক হায়দার আলী মোল্লা (৩৬) এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
অপহৃতদের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগষ্ট নাটোর সদরের গৌরিপুর গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী নিমার্ণ শ্রমিক হায়দার আলীকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরে কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুম করা হয়। এঘটনার তার স্ত্রী মিনা বেগম আব্দুস সালাম, রাজু ও আবু তাহের নামে তিনজনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে মামলা করলেও কোনো অভিযুক্তকেই পুলিশ এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারে নাই।
২৫ আগষ্ট পাশের আত্রাই পতিসর থেকে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে নৌকায় অপহরণ করে নাটোরের সিংড়ায় এনে গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় বর্তমানে পাঁচজন জেল হাজতে রয়েছে। একই দিন নাটোর শহরের আলাইপুরের কওমী মাদরাসা ছাত্র তানভীর হোসেন (১১) নিখোঁজ হয়। ছয়দিন পর ৩১ আগষ্ট তার লাশ মাদরাসার পাশের সেপটিক ট্র্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একই সময়ে র্যাব নিহতের তিন সহপাঠিকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করেছে। আটককৃত তিন কিশোর ইতোমধ্যে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে, ভারতীয় টিভি চ্যানেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা দেখেই তারা সহপাটিকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ নেয়ার চেষ্টা করেছিল।
২৮ আগষ্ট নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ক্ষিদ্র মালঞ্চি গ্রামের আতাহার আলীর বাড়ি থেকে মারজানা (৯) নামে ঢাকা রায়ের বাজারের কদমতলি এলাকার তালিম উদ্দিন মহিলা মাদরাসার অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ অপহরণকারী চক্রের সদস্য আতাহার আলীর আত্মীয় আব্দুল মালেককে আটক করেছে। এর দুদিন আগে মাদরাসার পাশ থেকে সে অপহৃত হয়েছিল।
৩ সেপ্টেম্বর নাটোর সদরের লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া কওমী মাদরাসার ছাত্র কাজল (১১) বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরের মাদরাসায় যাওয়ার সময় অপহরণ হয়। ভ্যান চালক বাবা দেলোয়ার হোসেন মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় আজো তার ছেলে মুক্তি পায়নি।
৫ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে অপহরণ হয় বড়াইগ্রামের রাজাপুর কওমী মাদরাসার অপহৃত ছাত্র আমিনুল হক (১২) ও সাইফুল্লাহ (১২)। পরের দিন বিকাশে চাহিদা মতো মুক্তিপণের টাকা দেয়ার পর অপহরণকারীরা একটি চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে আমিনুল হককে স্থানীয় মুলাডুলি বাজারের পাশে নামিয়ে দিলেও আজ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি অপর মাদরাসা ছাত্র সাইফুল্লাহ।
৯ সেপ্টেম্বর অপহরণেরর ১১দিন পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলাঞ্চলের আধঘোলা গ্রাম থেকে শিকল দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণকারীদের দূর্গম এলাকার একটি ঘর থেকে র্যাব উদ্ধার করে অপহৃত রাজশাহী বাঘার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হককে (৫৫)। পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে মোবাইলে নাটোরে ডেকে নিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। র্যাব এ ঘটনায় মুল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে আটক করেছে।
১৬ সেপ্টেম্বর নাটোর শহরের মীরপাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন (৩৫) ও ভবানীপুর গ্রামের প্রাণ মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ পারভেজ (৩৭) অপহৃত হন। দুই লাখ টাকা মুক্তিপন দাবির পর বিকাশে প্রথমে ৬০ হাজার টাকা দেয় অপহৃতদের পরিবার। পরের দিন মোবাইল ট্র্যাকিং করে সকালে পুলিশ পাবনার চাটমোহর থেকে দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও চার অপহরণকারীকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী নয়া দিগন্তের এই প্রতিবেদকে বলেছেন, প্রতিটিই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তারপরও পুলিশ সব ঘটনাই আন্তরিকতার সাথে তদন্ত করে নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ উদ্ধারও হয়েছে। যে তিনজন এখনো উদ্ধার হয়নি তাদের উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
র্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগষ্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসে নাটোর জেলায় চার মাদরাসা ছাত্র, এক মাদরাসা ছাত্রী, এক প্রধান শিক্ষক, দুই ব্যবসায়ী, এক নারী ও এক বাক প্রতিবন্ধী নিমার্ণ শ্রমিকসহ ১০টি অপহরনের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনার মধ্যে প্রধান শিক্ষককে র্যাব ও দুই ব্যবসায়ীকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। মাদরাসা ছাত্র আমিনুল হককে (১২) মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। নাটোর শহরের আলাইপুরের কওমী মাদরাসা ছাত্র তানভীর হোসেনের (১১) লাশ মাদরাসার পাশের সেপটিক ট্র্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। অপহৃত নারীকে গণধর্ষণের পর অপহরণকারীরাই ছেড়ে দেয়। এ ছাড়া বড়াইগ্রামের রাজাপুর কওমী মাদরাসার অপহৃত ছাত্র সাইফুল্লাহ (১২), নাটোর সদরের লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া কওমী মাদরাসার ছাত্র কাজল (১১) এবং নাটোর সদরের গৌরিপুর গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী নিমার্ণ শ্রমিক হায়দার আলী মোল্লা (৩৬) এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
অপহৃতদের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগষ্ট নাটোর সদরের গৌরিপুর গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী নিমার্ণ শ্রমিক হায়দার আলীকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরে কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুম করা হয়। এঘটনার তার স্ত্রী মিনা বেগম আব্দুস সালাম, রাজু ও আবু তাহের নামে তিনজনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে মামলা করলেও কোনো অভিযুক্তকেই পুলিশ এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারে নাই।
২৫ আগষ্ট পাশের আত্রাই পতিসর থেকে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে নৌকায় অপহরণ করে নাটোরের সিংড়ায় এনে গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় বর্তমানে পাঁচজন জেল হাজতে রয়েছে। একই দিন নাটোর শহরের আলাইপুরের কওমী মাদরাসা ছাত্র তানভীর হোসেন (১১) নিখোঁজ হয়। ছয়দিন পর ৩১ আগষ্ট তার লাশ মাদরাসার পাশের সেপটিক ট্র্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একই সময়ে র্যাব নিহতের তিন সহপাঠিকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করেছে। আটককৃত তিন কিশোর ইতোমধ্যে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে, ভারতীয় টিভি চ্যানেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা দেখেই তারা সহপাটিকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ নেয়ার চেষ্টা করেছিল।
২৮ আগষ্ট নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ক্ষিদ্র মালঞ্চি গ্রামের আতাহার আলীর বাড়ি থেকে মারজানা (৯) নামে ঢাকা রায়ের বাজারের কদমতলি এলাকার তালিম উদ্দিন মহিলা মাদরাসার অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ অপহরণকারী চক্রের সদস্য আতাহার আলীর আত্মীয় আব্দুল মালেককে আটক করেছে। এর দুদিন আগে মাদরাসার পাশ থেকে সে অপহৃত হয়েছিল।
৩ সেপ্টেম্বর নাটোর সদরের লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া কওমী মাদরাসার ছাত্র কাজল (১১) বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরের মাদরাসায় যাওয়ার সময় অপহরণ হয়। ভ্যান চালক বাবা দেলোয়ার হোসেন মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় আজো তার ছেলে মুক্তি পায়নি।
৫ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে অপহরণ হয় বড়াইগ্রামের রাজাপুর কওমী মাদরাসার অপহৃত ছাত্র আমিনুল হক (১২) ও সাইফুল্লাহ (১২)। পরের দিন বিকাশে চাহিদা মতো মুক্তিপণের টাকা দেয়ার পর অপহরণকারীরা একটি চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে আমিনুল হককে স্থানীয় মুলাডুলি বাজারের পাশে নামিয়ে দিলেও আজ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি অপর মাদরাসা ছাত্র সাইফুল্লাহ।
৯ সেপ্টেম্বর অপহরণেরর ১১দিন পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলাঞ্চলের আধঘোলা গ্রাম থেকে শিকল দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণকারীদের দূর্গম এলাকার একটি ঘর থেকে র্যাব উদ্ধার করে অপহৃত রাজশাহী বাঘার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হককে (৫৫)। পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে মোবাইলে নাটোরে ডেকে নিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। র্যাব এ ঘটনায় মুল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে আটক করেছে।
১৬ সেপ্টেম্বর নাটোর শহরের মীরপাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন (৩৫) ও ভবানীপুর গ্রামের প্রাণ মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ পারভেজ (৩৭) অপহৃত হন। দুই লাখ টাকা মুক্তিপন দাবির পর বিকাশে প্রথমে ৬০ হাজার টাকা দেয় অপহৃতদের পরিবার। পরের দিন মোবাইল ট্র্যাকিং করে সকালে পুলিশ পাবনার চাটমোহর থেকে দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও চার অপহরণকারীকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী নয়া দিগন্তের এই প্রতিবেদকে বলেছেন, প্রতিটিই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তারপরও পুলিশ সব ঘটনাই আন্তরিকতার সাথে তদন্ত করে নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ উদ্ধারও হয়েছে। যে তিনজন এখনো উদ্ধার হয়নি তাদের উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাতীবান্ধায় বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ব্যাংক ত্রাণ বিতরণ
![]() |
| বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরন করছেন হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু ও শাখা ব্যবস্থাপক এ কে এম মোজাহারুল ইসলাম |
ইসলামী
ব্যাংক পাটগ্রাম শাখার উদ্যেগে সোমবার হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চত্বরে
বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ
গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বুলু।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক এ কে এম মোজাহারুল ইসলাম বিনিয়োগ ইনচার্জ আজাহারুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনোয়ার হোসেন দুলু, সিন্দুর্না সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরন্নবী ইউপি সদস্য জাকির হোসেন হাফিজুল্লাহ টাইফেন মাহফুজুল্লাহ কায়েফ প্রমুখ।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক এ কে এম মোজাহারুল ইসলাম বিনিয়োগ ইনচার্জ আজাহারুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনোয়ার হোসেন দুলু, সিন্দুর্না সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরন্নবী ইউপি সদস্য জাকির হোসেন হাফিজুল্লাহ টাইফেন মাহফুজুল্লাহ কায়েফ প্রমুখ।
মেডিকেলে ভর্তির প্রশ্নপত্র ফাঁস : শহীদ মিনারে পরীক্ষার্থীরা
প্রশ্নপত্র
ফাঁসের প্রতিবাদে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে শহীদ মিনারের
সামনে অবস্থান নিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার
সকাল ১০টার দিকে অবস্থান নেয়ার কথা থাকলেও স্থান পরিবর্তন করে বেলা ১১টায়
শহীদ মিনারে অবস্থান নেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক নিয়ন বলেন, ‘আমরা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছি। এখানেই বিক্ষোভ করব।’
শুক্রবার সারাদেশে একযোগে ২৩টি কেন্দ্রে এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। তবে পরীক্ষা চলাকালেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে অভিযান চালিয়ে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে র্যাব। এর আগে একই ঘটনায় বুধবার রাজধানীর মহাখালী থেকে চিকিৎসকসহ ৪ জনকে আটক করেছিল র্যাব।
এদিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পরীক্ষার আগের রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ এনে কিছু নমুনা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
পরে পরীক্ষা বাতিল চেয়ে শনিবার দেশব্যাপী আন্দোলন করেন তারা। এ ছাড়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতর তড়িঘড়ি করে ফলাফল প্রকাশ করলে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক নিয়ন বলেন, ‘আমরা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছি। এখানেই বিক্ষোভ করব।’
শুক্রবার সারাদেশে একযোগে ২৩টি কেন্দ্রে এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। তবে পরীক্ষা চলাকালেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে অভিযান চালিয়ে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে র্যাব। এর আগে একই ঘটনায় বুধবার রাজধানীর মহাখালী থেকে চিকিৎসকসহ ৪ জনকে আটক করেছিল র্যাব।
এদিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পরীক্ষার আগের রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ এনে কিছু নমুনা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
পরে পরীক্ষা বাতিল চেয়ে শনিবার দেশব্যাপী আন্দোলন করেন তারা। এ ছাড়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতর তড়িঘড়ি করে ফলাফল প্রকাশ করলে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে।
কান ব্যথার ওষুধ আপনার রান্নাঘরেই
প্রায়ই
ছোট-বড় অনেকের কান ব্যথা করার কথা শোনা যায়? সমস্যা নেই আপনার রান্নাঘরেই
রয়েছে এর সমাধান৷ অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই এই ব্যথা সারতে পারে পেঁয়াজের
গরম ভাঁপ দিয়ে৷ চলুন জানা যাক কিভাবে৷
কী কী কারণে কান ব্যথা হয়?
বাইরের কোনো সংক্রমণ থেকে কানের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস জন্মালে কানে ব্যথা হতে পারে৷ যেমন সাতাঁর কাটা, ঠাণ্ডা লাগা, কানের পর্দায় আঘাত লাগা বা কোনো ধরনের অ্যালার্জি, কানে ময়লা বা খৈল জমা, এমনকি দাঁত বা চোয়ালের সমস্যা থেকেও কানে ব্যথা হতে পারে৷ তবে কার কী কারণে কান ব্যথা হচ্ছে, তা ডাক্তারের কাছ থেকেই জেনে নেয়া উচিত৷
কানব্যথা এড়িয়ে চলতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হচ্ছে- গাড়ি, বাস বা ট্রেনে যাতায়াতের সময় অবশ্যই মাথা এবং কান ঢেকে রাখবেন, বন্ধ করে দেবেন জানালা৷ কারণ ‘দুই দিকের জানালা খোলা থাকলে ঠাণ্ডা বাতাস এবং ধুলোবালি কানে লাগে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা থেকেই কান ব্যথা বা কানে সংক্রমণ হয়৷’ এই সাবধানবাণী জার্মানির নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মিশায়েল বনডর্ফের৷
সাবধান হতে বাথক্যাপ পরে নিন
ডাক্তারের আরো পরামর্শ, সাঁতার কাটার সময় অবশ্যই বাথক্যাপ পরে নেবেন৷ কারণ গোছল করা বা সাঁতার কাটার সময় কানে পানি ঢুকে গেলেও কানে সংক্রমণ হতে পারে৷ তাই সাঁতার বা গোসলের পর ভালো করে কান মুছে ‘হেয়ায়ড্রায়ার’ দিয়ে চুল শুকিয়ে নেয়াও ভালো৷ ডা. বনডর্ফ জানান, সাধারণত কানে পানি ঢুকে ‘ইনফেশন’ হয় গ্রীষ্মকালে৷
ব্যথা সারতে পেঁয়াজের পুটলি
পেঁয়াজে রয়েছে সংক্রমণ দমনকারী এক পদার্থ, যা কানের ব্যথা বা সংক্রমণে বেশ উপকারী৷ কীভাবে করবেন? প্রথমে একটি বা দু’টি পেঁয়াজ ছোটছোট করে কেটে নিন, তারপর গরম করুন এবং গরম পেঁয়াজের টুকরোগুলো একটি পরিষ্কার কাপড়ে ঢেলে পুটলি করে নিন৷ লক্ষ্য রাখবেন পেঁয়াজ যেন অতিরিক্ত গরম না হয়৷ পুটলিটাকে যেখানে ব্যথা বা ফোলা সেখানে আধঘণ্টা ধরে রাখুন৷
কানের ব্যথায় অলিভ ওয়েল
আরো একটি উপায় হচ্ছে, কানে ব্যাথা হলে গরম অলিভ ওয়েলে একটি ছোট নরম কাপড় ভিজিয়ে সেটা কানের ঠিক পেছনে কয়েক মিনিট চাপ দিয়ে রাখুন৷ দেখবেন এতে অনেক আরাম বোধ করছেন এবং ব্যথাও কমে গেছে৷
সাথে জ্বর হলে পেপারমিন্ট বা মেন্থল
কানব্যথা সারাতে পেপারমিন্ট বা মেন্থল যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে৷ তবে কানব্যথার সাথে যদি জ্বরও থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ তাছাড়া ‘ভেষজ ওষুধে যারা বিশ্বাসী নন, তাদের ডাক্তারের পরমর্শ না নিয়ে তা ব্যবহার করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়’ – এ কথা বলেন জার্মানির ড্যুসেলডর্ফ শহরের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডা. বনডর্ফ৷
নিজে কান পরিষ্কার না করাই ভালো
‘অনেকে নিজে কান পরিষ্কার করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে থাকে’ – নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন ডা. বনডর্ফ৷ এছাড়াও তার বিশেষ পরামর্শ, ‘দিনে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন৷ কারণ এতে কানের ত্বক বা পর্দার ভেতরে লুকিয়ে থাকা জীবাণুগুলো বেরিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়৷'
কী কী কারণে কান ব্যথা হয়?
বাইরের কোনো সংক্রমণ থেকে কানের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস জন্মালে কানে ব্যথা হতে পারে৷ যেমন সাতাঁর কাটা, ঠাণ্ডা লাগা, কানের পর্দায় আঘাত লাগা বা কোনো ধরনের অ্যালার্জি, কানে ময়লা বা খৈল জমা, এমনকি দাঁত বা চোয়ালের সমস্যা থেকেও কানে ব্যথা হতে পারে৷ তবে কার কী কারণে কান ব্যথা হচ্ছে, তা ডাক্তারের কাছ থেকেই জেনে নেয়া উচিত৷
কানব্যথা এড়িয়ে চলতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হচ্ছে- গাড়ি, বাস বা ট্রেনে যাতায়াতের সময় অবশ্যই মাথা এবং কান ঢেকে রাখবেন, বন্ধ করে দেবেন জানালা৷ কারণ ‘দুই দিকের জানালা খোলা থাকলে ঠাণ্ডা বাতাস এবং ধুলোবালি কানে লাগে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা থেকেই কান ব্যথা বা কানে সংক্রমণ হয়৷’ এই সাবধানবাণী জার্মানির নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মিশায়েল বনডর্ফের৷
সাবধান হতে বাথক্যাপ পরে নিন
ডাক্তারের আরো পরামর্শ, সাঁতার কাটার সময় অবশ্যই বাথক্যাপ পরে নেবেন৷ কারণ গোছল করা বা সাঁতার কাটার সময় কানে পানি ঢুকে গেলেও কানে সংক্রমণ হতে পারে৷ তাই সাঁতার বা গোসলের পর ভালো করে কান মুছে ‘হেয়ায়ড্রায়ার’ দিয়ে চুল শুকিয়ে নেয়াও ভালো৷ ডা. বনডর্ফ জানান, সাধারণত কানে পানি ঢুকে ‘ইনফেশন’ হয় গ্রীষ্মকালে৷
ব্যথা সারতে পেঁয়াজের পুটলি
পেঁয়াজে রয়েছে সংক্রমণ দমনকারী এক পদার্থ, যা কানের ব্যথা বা সংক্রমণে বেশ উপকারী৷ কীভাবে করবেন? প্রথমে একটি বা দু’টি পেঁয়াজ ছোটছোট করে কেটে নিন, তারপর গরম করুন এবং গরম পেঁয়াজের টুকরোগুলো একটি পরিষ্কার কাপড়ে ঢেলে পুটলি করে নিন৷ লক্ষ্য রাখবেন পেঁয়াজ যেন অতিরিক্ত গরম না হয়৷ পুটলিটাকে যেখানে ব্যথা বা ফোলা সেখানে আধঘণ্টা ধরে রাখুন৷
কানের ব্যথায় অলিভ ওয়েল
আরো একটি উপায় হচ্ছে, কানে ব্যাথা হলে গরম অলিভ ওয়েলে একটি ছোট নরম কাপড় ভিজিয়ে সেটা কানের ঠিক পেছনে কয়েক মিনিট চাপ দিয়ে রাখুন৷ দেখবেন এতে অনেক আরাম বোধ করছেন এবং ব্যথাও কমে গেছে৷
সাথে জ্বর হলে পেপারমিন্ট বা মেন্থল
কানব্যথা সারাতে পেপারমিন্ট বা মেন্থল যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে৷ তবে কানব্যথার সাথে যদি জ্বরও থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ তাছাড়া ‘ভেষজ ওষুধে যারা বিশ্বাসী নন, তাদের ডাক্তারের পরমর্শ না নিয়ে তা ব্যবহার করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়’ – এ কথা বলেন জার্মানির ড্যুসেলডর্ফ শহরের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডা. বনডর্ফ৷
নিজে কান পরিষ্কার না করাই ভালো
‘অনেকে নিজে কান পরিষ্কার করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে থাকে’ – নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন ডা. বনডর্ফ৷ এছাড়াও তার বিশেষ পরামর্শ, ‘দিনে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন৷ কারণ এতে কানের ত্বক বা পর্দার ভেতরে লুকিয়ে থাকা জীবাণুগুলো বেরিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়৷'
কারাগারে থেকেই চেয়ারম্যান হলেন জামায়াত নেতা by আরফাত হোছাইন বিপ্লব
কারাগারে
থেকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন
জামায়াতের সভাপতি হাফেজ কাজী মাওলানা নুরুল আলম চৌধুরী। পাগড়ী প্রতীক নিয়ে
তিনি পেয়েছেন ৪৪৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বীর মুক্তিযোদ্ধা
মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবী টুপি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭৩৩ ভোট। ৭১৭ ভোটের
ব্যাবধানে বেসরকারীভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে কারারুদ্ধ এ জামায়াত নেতাকে।
এদিকে কারাগারে থেকে জামায়াত নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তা ‘টক অব দ্য চিটাগাং’য়ে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে এটাই যেন আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে। বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর। অনেকে মন্তব্য করে বসেন, ‘লোহাগাড়া নয় শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রাখবে জামায়াত।’
রাজনৈতিক মামলা-হামলার কারণে লোহাগাড়া সাতকানিয়ার সাবেক এমপি মাওলানা শামশুল ইসলাম দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে। অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের বেশিরভাগ জেলে অথবা আত্মগোপনে। এমতাবস্থায় মাত্র একটি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হওয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিজয়কে অনেকেই বড় বিজয় বলেই দেখছেন। নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. ছাবের আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, জামায়াত প্রার্থী দিলেই বিজয়ী হয় এ ধারাবাহিকতা এখনো অক্ষুন্ন আছে লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায়। আমরা যে সৎলোকের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি জনগণ তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এস এম লুৎফর রহমান দাবি করেন, অন্য দুই ইউনিয়নে প্রার্থী দিলেও একই ফলাফল হতো বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত: ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লোহাগাড়া সদর ও আধুনগরে প্রার্থী না দিলেও আমিরাবাদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। তফসীল ঘোষণার পরপরই গ্রেফতার হন মাওলানা নুরুল আলম।
এদিকে কারাগারে থেকে জামায়াত নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তা ‘টক অব দ্য চিটাগাং’য়ে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে এটাই যেন আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে। বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর। অনেকে মন্তব্য করে বসেন, ‘লোহাগাড়া নয় শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রাখবে জামায়াত।’
রাজনৈতিক মামলা-হামলার কারণে লোহাগাড়া সাতকানিয়ার সাবেক এমপি মাওলানা শামশুল ইসলাম দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে। অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের বেশিরভাগ জেলে অথবা আত্মগোপনে। এমতাবস্থায় মাত্র একটি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হওয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিজয়কে অনেকেই বড় বিজয় বলেই দেখছেন। নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. ছাবের আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, জামায়াত প্রার্থী দিলেই বিজয়ী হয় এ ধারাবাহিকতা এখনো অক্ষুন্ন আছে লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায়। আমরা যে সৎলোকের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি জনগণ তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এস এম লুৎফর রহমান দাবি করেন, অন্য দুই ইউনিয়নে প্রার্থী দিলেও একই ফলাফল হতো বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত: ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লোহাগাড়া সদর ও আধুনগরে প্রার্থী না দিলেও আমিরাবাদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। তফসীল ঘোষণার পরপরই গ্রেফতার হন মাওলানা নুরুল আলম।
Tuesday, September 22, 2015
শওকত মাহমুদের ওপর কেন এই নিষ্ঠুরতা by সৈয়দ আবদাল আহমদ
আশির
দশকের শুরুতে ১৯৮২ সালে দেশের মর্যাদাশীল পত্রিকা দৈনিক বাংলায়
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিই। তখন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন
দেশবরেণ্য কবি শামসুর রাহমান। নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক
আহমেদ হুমায়ুন। ওই বছর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের
বিএনপি সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তৎকালীন
সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ। দেশ ছিল সামরিক শাসনের কবলে। পত্রপত্রিকার ওপর
আরোপ করা হয়েছিল কঠোর সেন্সরশিপ। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা
রাজনীতিবিষয়ক রিপোর্ট ও লেখালেখির ওপর ছিল বিশেষ বিধিনিষেধ। ফলে
পত্রপত্রিকায় গুরুত্ব পেত রাজনীতির বাইরে সামাজিক বিষয়ভিত্তিক খবর। তখন এত
পত্রিকা ছিল না। স্বনামধন্য পত্রিকার মধ্যে ছিল দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক
বাংলা, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক দেশ, দৈনিক আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভার, বাংলাদেশ
টাইমস ও বাংলার বাণী। সার্কুলেশন কম হলেও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সাহসী রিপোর্টের
জন্য দৈনিক সংবাদ ছিল আলোচিত পত্রিকা। প্রায় বিজ্ঞাপনশূন্য এ পত্রিকাটি
থাকত রিপোর্টে ঠাসা। তখন সাংবাদিকতা জগতে দৈনিক সংবাদের একজন স্টাফ
রিপোর্টার হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। পত্রিকা খুললেই পাওয়া যেত তার সাড়াজাগানো
রিপোর্ট। একেক দিন একেক ধরনের রিপোর্ট। এক দিন হয়তো সামাজিক রিপোর্ট; পরের
দিন অর্থনীতির রিপোর্ট। এমনিভাবে প্রশাসনের ভেতরের অনুসন্ধানী রিপোর্ট-
ঘুষ, দুর্নীতি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় নিয়ে রিপোর্ট। রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও
রাজনীতির ওপরও কৌশলী রিপোর্ট করতেন তিনি। পত্রিকার প্রথম পাতায় বিশেষ
ট্রিটমেন্টে রিপোর্টগুলো ছাপা হতো। ফলে সহজেই তা সবার দৃষ্টি কাড়ত।
শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক আহমেদ হুমায়ুন যিনি সাংবাদিকদের কাছে হুমায়ুন ভাই হিসেবে পরিচিত, তিনি আমাদের প্রায়ই ওই রিপোর্টারের উদাহরণ দিতেন। দৈনিক বাংলার বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষকও ছিলেন হুমায়ুন ভাই। ওই রিপোর্টার ছিলেন তার প্রিয় ছাত্র। তিনি প্রায়ই বলতেন ছাত্র হিসেবে সে অত্যন্ত মেধাবী, সাংবাদিকতায় এসেও মেধার স্বাক্ষর রাখছে। আমাদের তিনি উপদেশ দিতেন- ‘তাকে ফলো করো, তার রিপোর্টগুলো পড়ো এবং সেভাবে রিপোর্টের পেছনে দৌড়াও।
আলোচিত এই রিপোর্টার শওকত মাহমুদ। তার রিপোর্ট যে-কাউকেই নাড়া দিত। অনুসন্ধানী রিপোর্ট যাকে বলে, হৃদয়গ্রাহী রিপোর্ট যাকে বলে, ডেপথ রিপোর্ট যাকে বলে শওকত মাহমুদের রিপোর্ট তার অনন্য উদাহরণ। শওকত মাহমুদের সাথে তখনো পরিচয় হয়নি। তবে দৈনিক সংবাদে তার রিপোর্ট পড়তে কখনো মিস করিনি। এভাবে তার ভক্ত হয়ে যাই। তার মতো রিপোর্ট লেখা ও বিচিত্র বিষয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করার আগ্রহ হয়।।
দৈনিক বাংলায় আমার সহকর্মী মুকুল ভাই (বর্তমানে এনটিভির হেড অব নিউজ খায়রুল আনোয়ার) এক দিন বললেন, শওকত মাহমুদ আমার রিপোর্টের খুব প্রশংসা করেছে। জানতে চেয়েছেন, ছেলেটি কে? বিজ্ঞান ও পরিবেশ নিয়ে আমার রিপোর্ট ব্যতিক্রমধর্মী বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। মুকুল ভাই তাকে আমার পরিচয় দিয়ে বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্র আমি। শওকত মাহমুদের প্রশংসার কথা শুনে আনন্দে মন ভরে যায়। মুকুল ভাইকে অনুরোধ করি তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। শওকত মাহমুদ মুকুল ভাইয়ের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
এক দিন ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে একটি কর্মশালা ছিল। এর ওপর রিপোর্ট করার জন্য দৈনিক বাংলা থেকে আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়। কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন হুমায়ুন ভাই। কয়েক দিন আগে সংবাদ পত্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে শওকত মাহমুদের সাড়াজাগানো সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। অনুসন্ধানী এই রিপোর্টটির আদ্যোপান্ত পড়েছিলাম। সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক কর্মশালায় গিয়ে দেখি সেখানে শওকত মাহমুদও উপস্থিত। সংবাদ থেকে তিনিও কর্মশালা কভার করতে এসেছেন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করার কারণে সেখানে তাকে বক্তব্য দেয়ারও সুযোগ দেয়া হয়। কর্মশালা শেষে তার কাছে গিয়ে পরিচিত হলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব প্রশংসা করলেন। বললেন, মুকুল আপনার কথা বলেছে। মনে হলো তিনি আমার অনেক দিনের চেনা। সেই থেকে তার সাথে হৃদ্যতা। বড় ভাই হিসেবে দেখি, শ্রদ্ধা করি।
২০১১ সালের দিকে হার্টের চিকিৎসার জন্য শওকত ভাই আমাকে ব্যাংককে নিয়ে যান। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করার পর প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা: আরাম সুচিত জানালেন, আমার হার্টে পাঁচটি ব্লক। তিনি জরুরিভাবে বাইপাস বা স্ট্যান্টিং করার জন্য পরামর্শ দেন। হার্টে পাঁচটি ব্লকের কথা শুনে ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু শওকত ভাই সাহস দিয়ে বললেন, হার্টের চিকিৎসা এখন মামুলি ব্যাপার, ঝুঁকি নেই। তাই ভয় প্ওায়ার কিছু নেই। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে অপারেশন ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন ব্যাংকক হাসপাতালের প্রখ্যাত হার্ট সার্জন অধ্যাপক ডা: কোসিনের কাছে। তিনি সদ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই হাসপাতালে এসে যোগদান করেছেন। ডা: কোসিন আমার এনজিওগ্রামের সিডি দেখে বললেন, বাইপাসের জন্য উপযুক্ত কেস। ব্যাংকক হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য তৈরি হলাম, অপারেশনের তারিখ ঠিক হলো। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলল। এরই মধ্যে হাইপো-থাইরয়েড সমস্যা ধরা পড়ায় অপারেশনের তারিখ পিছিয়ে যায়। এ অবস্থায় থার্ড ওপিনিয়নের জন্য আরেকজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের তরুণ কার্ডিওলজিস্ট ডা: সোয়াদচাই পরীক্ষা করে আমাকে স্ট্যান্টিং বা রিং লাগানোর পরামর্শ দিলেন। ফলে বাইপাসের চিন্তা বাদ দিয়ে ওই হাসপাতালেই ডা: আরামের কাছে স্ট্যন্টিংয়ের জন্য যাই। আমার চিকিৎসার জন্য শওকত ভাই ১৫ দিন ব্যাংককে ছিলেন। এরপর সুস্থ হয়ে দেশে ফিরি।
সাড়ে তিন বছর পর আবার হার্টে সমস্যা দেখা দেয়। এবার লেফট মেইন আর্টারির অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় ব্লক ধরা পড়ে। ডাক্তার বলেছেন, অতিরিক্ত স্ট্রেচের কারণে এ অবস্থা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু শওকত ভাই দেশে নেই। ১৫ আগস্ট দুপুরে ফ্লাইট। আগের রাতে হঠাৎ শওকত ভাইয়ের ফোন, ঢাকায় ফিরেছেন। বললেন, তিনি ব্যাংককে ছিলেন। আমার যাওয়ার বিষয়টি জানা থাকলে তিনি সেখানে থেকে যেতেন। যা হোক, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাকে সব কিছু জানাতে বললেন। এবার চিকিৎসার জন্য গেলাম ব্যাংককের মহিদুল ইউনিভার্সিটির সিরিরাজ হাসপাতালে। সরকারি এ হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন- সিরিরাজ প্রিয়মহারাজা কারুন হাসপাতালের কার্ডিয়াক সেন্টারের বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা: ধামরাজ আমাকে দেখলেন এবং ১৯ আগস্ট রাতে আমার এনজিওগ্রাফি ও ওসিটি এনজিওপ্লাস্টি করবেন বলে জানালেন। ভর্তি হলাম সিরিরাজ হাসপাতালের হিজ ম্যাজিস্ট্রি কার্ডিয়াক সেন্টারে। শওকত ভাইকে ১৮ আগস্ট একের পর এক ফোন করি। কিন্তু ফোনে তাকে পেলাম না। অবশেষে শুনলাম একটি দুঃসংবাদÑ তাকে ঢাকার বসুন্ধরা শপিংমলের সামনে থেকে ওই দিনই গ্রেফতার করা হয়েছে। খবরটি শুনে মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। ইচ্ছে হচ্ছিল তখনই ঢাকায় চলে আসি। কিন্তু এসে কী করব, তাকে তো মুক্ত করা যাবে না। দেশে চলছে জংলি শাসন। আইনকানুন বলতে কিছু নেই।
তবে শওকত ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে শঙ্কিত হয়ে পড়ি। তার হার্ট বাইপাস করা। আবার হার্টে তিনটি রিংও লাগানো আছে। তিনি উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস রোগী। প্রায় দুই বছর আগে তার ফুসফুসে পানি জমে এবং হার্ট ফেইলিওর হয়ে মরণাপন্ন অবস্থা হয়েছিল। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিকিৎসার সময় সাথে ছিলাম। প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে দেশে আসেন। বর্তমানে তিনি হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিস ছাড়াও পিত্তথলিতে পাথর, ব্যাকপেইন এবং চোখ ও দাঁতের সমস্যায় ভুগছেন। তার সাথে সব সময় বলতে গেলে ওষুধের একটি ডিসপেনসারি থাকে। এমন অসুস্থ একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে জেলে নেয়া চরম নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছু নয়।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে শওকত মাহমুদ একটি পরিচিত নাম। একজন মেধাবী ও সৃজনশীল সাংবাদিক হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। অগ্রজদের কাছে তিনি যেমন প্রিয়, তেমনি অনুজদের কাছেও শ্রদ্ধেয়। লিখেন ভালো, বলেন ভালো। যুক্তি ও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কথা বলেন না। যেকোনো বিষয়ে তার বিশ্লেষণ উড়িয়ে দেয়া যায় না। বর্তমানে তিনি সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ফোরাম বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের দু’বার সভাপতি ও চারবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের খ্যাতি ও আধুনিকায়নে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের রুটি-রুজির আন্দোলন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আন্দোলন এবং মিডিয়া আক্রান্ত হওয়ার বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার থেকেছেন। টিভি টকশোগুলোতে যুক্তির মাধ্যমে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। সাংবাদিকদের যেকোনো বিপদ-আপদেও তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে সহযোগিতা করেছেন। সত্যিকার অর্থেই তিনি দেশের সম্পদ। কিন্তু তাকে অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তার কণ্ঠ স্তব্ধ করা জন্য ইতঃপূর্বে উদ্দেশ্যমূলক মামলায় জড়ানো হয়। পেট্রল বোমা হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এ মামলাগুলো দেয়া হয়। একজন পেশাজীবী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের উদ্দেশ্যমূলক মামলা নজিরবিহীন। টিভি টকশো, লেখালেখি এবং পেশাজীবীদের বিভিন্ন সভা সমাবেশ, গোলটেবিল বৈঠক ও মানববন্ধনে তিনি অংশ নিয়েছেন, বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে তার কোনো তৎপরতা ছিল না। রাজপথে তিনি গাড়িতে বোমা হামলা কিংবা ভাঙচুর করেছেন এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পাগলেও এ কথা বিশ্বাস করবে না। শওকত মাহমুদ কি এ কাজ করতে পারেন? কখনোই নয়।
শওকত মাহমুদকে কেন গ্রেফতার করা হলো? তার অপরাধ কী? অন্যায়ের প্রতিবাদ করা একজন নাগরিকের নৈতিক অধিকার। তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। এটাই কি তার অপরাধ? তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। এটাই কি তার অপরাধ? একজন নাগরিক হিসেবে তার কি রাজনীতি করার অধিকার নেই? এ জন্য কি গ্রেফতার করতে হবে? রিমান্ডে নিতে হবে? নির্যাতন করতে হবে?
জাতীয় প্রেস ক্লাব ৬০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারবিরোধী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এ ক্লাবের ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবকে অভিহিত করা হতো-‘গণতন্ত্রের একখণ্ড দ্বীপ’ হিসেবে। ক্লাবটি সব সময়ই গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবার সেই ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। ক্লাবের নির্বাচন বানচাল করে দিয়ে আওয়ামী দখলীকরণ করা হয়েছে। নির্বাচন ছাড়া, সদস্যদের ভোট ছাড়া একটি ঘোষিত দখলদার কমিটি রাতের অন্ধকারে তালা ভেঙে ক্লাব দখল করে নিয়েছে। সেই দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন শওকত মাহমুদ। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন করতে হবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্যরা যাকে খুশি তাকে ক্লাবের দায়িত্বে নির্বাচিত করতে পারেন। সেই নির্বাচিত কমিটিই ক্লাব পরিচালনা করবে। এটাই তার অপরাধ।
শওকত মাহমুদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব দলীয়করণের প্রতিবাদ করায় সরকার তাকে গ্রেফতার করেছে। তার এই বক্তব্য যথার্থ। কিন্তু এ বক্তব্যে প্রেস ক্লাব দখলদারদের গাত্রদাহ হয়েছে। দখলদার কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদা জিয়ার বিবৃতির প্রতিবাদ করার স্পর্ধা পর্যন্ত দেখিয়েছেন। অথচ তাকে সাংবাদিক মোজাম্মেল হক ও শওকত মাহমুদের সুপারিশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯২-৯৩ সালে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস-এ চাকরি দেন। বাসস থেকে প্রধানমন্ত্রীর রিপোর্ট করার জন্য তাকে সংযুক্তও করা হয়। অসংখ্য দেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে তার হাত এতটুকু কাঁপেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে ১৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদকসহ ৭০০ সাংবাদিক বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
হঠাৎ শওকত মাহমুদকে কেন গ্রেফতার? অনেকেরই ধারণা তার গ্রেফতারের পেছনে স্বার্থান্বেষী কিছু সাংবাদিক নেতারও ইন্ধন থাকতে পারে। তার মেধা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তাদের ঈর্ষার কারণ। তাই এই সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে। তার ওপর যে নিষ্ঠুর জুলুম হচ্ছে তা এক কথায় অবর্ণনীয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বন্দী। গ্রেফতারের আগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা ছিল। এখন তাকে আরো মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলার সংখ্যা এখন ২১টি। আরো ১১টি মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। একের পর এক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। আদালতের কাছে পুলিশ ১২টি মামলায় তার ১২০ দিনের রিমান্ড চায়। আদালত বিভিন্ন মামলায় তাকে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মতিঝিল থানা, পল্টন থানা ও ডিবি অফিসে ১৪ দিন তাকে রিমান্ডে নিয়ে রাখা হয়েছে। রিমান্ডের চেয়েও কোর্টে হাজিরার জন্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে তাকে হয়রানি-নির্যাতন বেশি করা হচ্ছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আনা-নেয়া করা হয়। এই গরম এবং তীব্র যানজটের মধ্যে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা তাকে প্রিজন ভ্যানে আলো-বাতাসহীন দমবন্ধ অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে। একজন গুরুতর হার্টের রোগী হলেও তাকে আদালতের আটতলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানো-নামানো হচ্ছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অসুস্থ শরীরে এই নিষ্ঠুর নির্যাতন এখন তার প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা। একজন মেধাবী সাংবাদিক বিনা কারণেই এই নির্যাতন ভোগ করছেন। জামিন চাইলেও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যে তার ১০ কেজি ওজন কমে গেছে। বুকের সাথে পিঠ লেগে গেছে। চেহারা ভেঙে গেছে। তার সাথে কী নির্দয় আচরণ করা হচ্ছে কোর্টে হাজিরা দিতে আসা তার ছবিই প্রমাণ।
পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে আদালতের আদেশও আমলে নিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। কারাবিধি মোতাবেক সম্মানিত নাগরিক হিসেবে ডিভিশন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তাকে ডিভিশন না দিয়ে সাধারণ হাজতি হিসেবে রাখা হচ্ছে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসার খাবার তাকে দিতে দেয়া হচ্ছে না। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শওকত মাহমুদের মতো একজন মেধাবী সাংবাদিকের ওপর এই নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা বন্ধ হোক। এই কলমসৈনিককে অবলিম্বে মুক্তি দিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়া হোক। হ
লেখক :সৈয়দ আবদাল আহমদ। সাংবাদিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক
শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক আহমেদ হুমায়ুন যিনি সাংবাদিকদের কাছে হুমায়ুন ভাই হিসেবে পরিচিত, তিনি আমাদের প্রায়ই ওই রিপোর্টারের উদাহরণ দিতেন। দৈনিক বাংলার বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষকও ছিলেন হুমায়ুন ভাই। ওই রিপোর্টার ছিলেন তার প্রিয় ছাত্র। তিনি প্রায়ই বলতেন ছাত্র হিসেবে সে অত্যন্ত মেধাবী, সাংবাদিকতায় এসেও মেধার স্বাক্ষর রাখছে। আমাদের তিনি উপদেশ দিতেন- ‘তাকে ফলো করো, তার রিপোর্টগুলো পড়ো এবং সেভাবে রিপোর্টের পেছনে দৌড়াও।
আলোচিত এই রিপোর্টার শওকত মাহমুদ। তার রিপোর্ট যে-কাউকেই নাড়া দিত। অনুসন্ধানী রিপোর্ট যাকে বলে, হৃদয়গ্রাহী রিপোর্ট যাকে বলে, ডেপথ রিপোর্ট যাকে বলে শওকত মাহমুদের রিপোর্ট তার অনন্য উদাহরণ। শওকত মাহমুদের সাথে তখনো পরিচয় হয়নি। তবে দৈনিক সংবাদে তার রিপোর্ট পড়তে কখনো মিস করিনি। এভাবে তার ভক্ত হয়ে যাই। তার মতো রিপোর্ট লেখা ও বিচিত্র বিষয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করার আগ্রহ হয়।।
দৈনিক বাংলায় আমার সহকর্মী মুকুল ভাই (বর্তমানে এনটিভির হেড অব নিউজ খায়রুল আনোয়ার) এক দিন বললেন, শওকত মাহমুদ আমার রিপোর্টের খুব প্রশংসা করেছে। জানতে চেয়েছেন, ছেলেটি কে? বিজ্ঞান ও পরিবেশ নিয়ে আমার রিপোর্ট ব্যতিক্রমধর্মী বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। মুকুল ভাই তাকে আমার পরিচয় দিয়ে বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্র আমি। শওকত মাহমুদের প্রশংসার কথা শুনে আনন্দে মন ভরে যায়। মুকুল ভাইকে অনুরোধ করি তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। শওকত মাহমুদ মুকুল ভাইয়ের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
এক দিন ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে একটি কর্মশালা ছিল। এর ওপর রিপোর্ট করার জন্য দৈনিক বাংলা থেকে আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়। কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন হুমায়ুন ভাই। কয়েক দিন আগে সংবাদ পত্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে শওকত মাহমুদের সাড়াজাগানো সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। অনুসন্ধানী এই রিপোর্টটির আদ্যোপান্ত পড়েছিলাম। সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক কর্মশালায় গিয়ে দেখি সেখানে শওকত মাহমুদও উপস্থিত। সংবাদ থেকে তিনিও কর্মশালা কভার করতে এসেছেন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করার কারণে সেখানে তাকে বক্তব্য দেয়ারও সুযোগ দেয়া হয়। কর্মশালা শেষে তার কাছে গিয়ে পরিচিত হলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব প্রশংসা করলেন। বললেন, মুকুল আপনার কথা বলেছে। মনে হলো তিনি আমার অনেক দিনের চেনা। সেই থেকে তার সাথে হৃদ্যতা। বড় ভাই হিসেবে দেখি, শ্রদ্ধা করি।
২০১১ সালের দিকে হার্টের চিকিৎসার জন্য শওকত ভাই আমাকে ব্যাংককে নিয়ে যান। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করার পর প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা: আরাম সুচিত জানালেন, আমার হার্টে পাঁচটি ব্লক। তিনি জরুরিভাবে বাইপাস বা স্ট্যান্টিং করার জন্য পরামর্শ দেন। হার্টে পাঁচটি ব্লকের কথা শুনে ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু শওকত ভাই সাহস দিয়ে বললেন, হার্টের চিকিৎসা এখন মামুলি ব্যাপার, ঝুঁকি নেই। তাই ভয় প্ওায়ার কিছু নেই। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে অপারেশন ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন ব্যাংকক হাসপাতালের প্রখ্যাত হার্ট সার্জন অধ্যাপক ডা: কোসিনের কাছে। তিনি সদ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই হাসপাতালে এসে যোগদান করেছেন। ডা: কোসিন আমার এনজিওগ্রামের সিডি দেখে বললেন, বাইপাসের জন্য উপযুক্ত কেস। ব্যাংকক হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য তৈরি হলাম, অপারেশনের তারিখ ঠিক হলো। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলল। এরই মধ্যে হাইপো-থাইরয়েড সমস্যা ধরা পড়ায় অপারেশনের তারিখ পিছিয়ে যায়। এ অবস্থায় থার্ড ওপিনিয়নের জন্য আরেকজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের তরুণ কার্ডিওলজিস্ট ডা: সোয়াদচাই পরীক্ষা করে আমাকে স্ট্যান্টিং বা রিং লাগানোর পরামর্শ দিলেন। ফলে বাইপাসের চিন্তা বাদ দিয়ে ওই হাসপাতালেই ডা: আরামের কাছে স্ট্যন্টিংয়ের জন্য যাই। আমার চিকিৎসার জন্য শওকত ভাই ১৫ দিন ব্যাংককে ছিলেন। এরপর সুস্থ হয়ে দেশে ফিরি।
সাড়ে তিন বছর পর আবার হার্টে সমস্যা দেখা দেয়। এবার লেফট মেইন আর্টারির অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় ব্লক ধরা পড়ে। ডাক্তার বলেছেন, অতিরিক্ত স্ট্রেচের কারণে এ অবস্থা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু শওকত ভাই দেশে নেই। ১৫ আগস্ট দুপুরে ফ্লাইট। আগের রাতে হঠাৎ শওকত ভাইয়ের ফোন, ঢাকায় ফিরেছেন। বললেন, তিনি ব্যাংককে ছিলেন। আমার যাওয়ার বিষয়টি জানা থাকলে তিনি সেখানে থেকে যেতেন। যা হোক, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাকে সব কিছু জানাতে বললেন। এবার চিকিৎসার জন্য গেলাম ব্যাংককের মহিদুল ইউনিভার্সিটির সিরিরাজ হাসপাতালে। সরকারি এ হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন- সিরিরাজ প্রিয়মহারাজা কারুন হাসপাতালের কার্ডিয়াক সেন্টারের বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা: ধামরাজ আমাকে দেখলেন এবং ১৯ আগস্ট রাতে আমার এনজিওগ্রাফি ও ওসিটি এনজিওপ্লাস্টি করবেন বলে জানালেন। ভর্তি হলাম সিরিরাজ হাসপাতালের হিজ ম্যাজিস্ট্রি কার্ডিয়াক সেন্টারে। শওকত ভাইকে ১৮ আগস্ট একের পর এক ফোন করি। কিন্তু ফোনে তাকে পেলাম না। অবশেষে শুনলাম একটি দুঃসংবাদÑ তাকে ঢাকার বসুন্ধরা শপিংমলের সামনে থেকে ওই দিনই গ্রেফতার করা হয়েছে। খবরটি শুনে মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। ইচ্ছে হচ্ছিল তখনই ঢাকায় চলে আসি। কিন্তু এসে কী করব, তাকে তো মুক্ত করা যাবে না। দেশে চলছে জংলি শাসন। আইনকানুন বলতে কিছু নেই।
তবে শওকত ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে শঙ্কিত হয়ে পড়ি। তার হার্ট বাইপাস করা। আবার হার্টে তিনটি রিংও লাগানো আছে। তিনি উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস রোগী। প্রায় দুই বছর আগে তার ফুসফুসে পানি জমে এবং হার্ট ফেইলিওর হয়ে মরণাপন্ন অবস্থা হয়েছিল। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিকিৎসার সময় সাথে ছিলাম। প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে দেশে আসেন। বর্তমানে তিনি হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিস ছাড়াও পিত্তথলিতে পাথর, ব্যাকপেইন এবং চোখ ও দাঁতের সমস্যায় ভুগছেন। তার সাথে সব সময় বলতে গেলে ওষুধের একটি ডিসপেনসারি থাকে। এমন অসুস্থ একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে জেলে নেয়া চরম নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছু নয়।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে শওকত মাহমুদ একটি পরিচিত নাম। একজন মেধাবী ও সৃজনশীল সাংবাদিক হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। অগ্রজদের কাছে তিনি যেমন প্রিয়, তেমনি অনুজদের কাছেও শ্রদ্ধেয়। লিখেন ভালো, বলেন ভালো। যুক্তি ও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কথা বলেন না। যেকোনো বিষয়ে তার বিশ্লেষণ উড়িয়ে দেয়া যায় না। বর্তমানে তিনি সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ফোরাম বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের দু’বার সভাপতি ও চারবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের খ্যাতি ও আধুনিকায়নে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের রুটি-রুজির আন্দোলন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আন্দোলন এবং মিডিয়া আক্রান্ত হওয়ার বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার থেকেছেন। টিভি টকশোগুলোতে যুক্তির মাধ্যমে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। সাংবাদিকদের যেকোনো বিপদ-আপদেও তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে সহযোগিতা করেছেন। সত্যিকার অর্থেই তিনি দেশের সম্পদ। কিন্তু তাকে অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তার কণ্ঠ স্তব্ধ করা জন্য ইতঃপূর্বে উদ্দেশ্যমূলক মামলায় জড়ানো হয়। পেট্রল বোমা হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এ মামলাগুলো দেয়া হয়। একজন পেশাজীবী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের উদ্দেশ্যমূলক মামলা নজিরবিহীন। টিভি টকশো, লেখালেখি এবং পেশাজীবীদের বিভিন্ন সভা সমাবেশ, গোলটেবিল বৈঠক ও মানববন্ধনে তিনি অংশ নিয়েছেন, বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে তার কোনো তৎপরতা ছিল না। রাজপথে তিনি গাড়িতে বোমা হামলা কিংবা ভাঙচুর করেছেন এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পাগলেও এ কথা বিশ্বাস করবে না। শওকত মাহমুদ কি এ কাজ করতে পারেন? কখনোই নয়।
শওকত মাহমুদকে কেন গ্রেফতার করা হলো? তার অপরাধ কী? অন্যায়ের প্রতিবাদ করা একজন নাগরিকের নৈতিক অধিকার। তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। এটাই কি তার অপরাধ? তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। এটাই কি তার অপরাধ? একজন নাগরিক হিসেবে তার কি রাজনীতি করার অধিকার নেই? এ জন্য কি গ্রেফতার করতে হবে? রিমান্ডে নিতে হবে? নির্যাতন করতে হবে?
জাতীয় প্রেস ক্লাব ৬০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারবিরোধী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এ ক্লাবের ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবকে অভিহিত করা হতো-‘গণতন্ত্রের একখণ্ড দ্বীপ’ হিসেবে। ক্লাবটি সব সময়ই গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবার সেই ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। ক্লাবের নির্বাচন বানচাল করে দিয়ে আওয়ামী দখলীকরণ করা হয়েছে। নির্বাচন ছাড়া, সদস্যদের ভোট ছাড়া একটি ঘোষিত দখলদার কমিটি রাতের অন্ধকারে তালা ভেঙে ক্লাব দখল করে নিয়েছে। সেই দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন শওকত মাহমুদ। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন করতে হবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্যরা যাকে খুশি তাকে ক্লাবের দায়িত্বে নির্বাচিত করতে পারেন। সেই নির্বাচিত কমিটিই ক্লাব পরিচালনা করবে। এটাই তার অপরাধ।
শওকত মাহমুদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব দলীয়করণের প্রতিবাদ করায় সরকার তাকে গ্রেফতার করেছে। তার এই বক্তব্য যথার্থ। কিন্তু এ বক্তব্যে প্রেস ক্লাব দখলদারদের গাত্রদাহ হয়েছে। দখলদার কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদা জিয়ার বিবৃতির প্রতিবাদ করার স্পর্ধা পর্যন্ত দেখিয়েছেন। অথচ তাকে সাংবাদিক মোজাম্মেল হক ও শওকত মাহমুদের সুপারিশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯২-৯৩ সালে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস-এ চাকরি দেন। বাসস থেকে প্রধানমন্ত্রীর রিপোর্ট করার জন্য তাকে সংযুক্তও করা হয়। অসংখ্য দেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে তার হাত এতটুকু কাঁপেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে ১৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদকসহ ৭০০ সাংবাদিক বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
হঠাৎ শওকত মাহমুদকে কেন গ্রেফতার? অনেকেরই ধারণা তার গ্রেফতারের পেছনে স্বার্থান্বেষী কিছু সাংবাদিক নেতারও ইন্ধন থাকতে পারে। তার মেধা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তাদের ঈর্ষার কারণ। তাই এই সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে। তার ওপর যে নিষ্ঠুর জুলুম হচ্ছে তা এক কথায় অবর্ণনীয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বন্দী। গ্রেফতারের আগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা ছিল। এখন তাকে আরো মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলার সংখ্যা এখন ২১টি। আরো ১১টি মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। একের পর এক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। আদালতের কাছে পুলিশ ১২টি মামলায় তার ১২০ দিনের রিমান্ড চায়। আদালত বিভিন্ন মামলায় তাকে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মতিঝিল থানা, পল্টন থানা ও ডিবি অফিসে ১৪ দিন তাকে রিমান্ডে নিয়ে রাখা হয়েছে। রিমান্ডের চেয়েও কোর্টে হাজিরার জন্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে তাকে হয়রানি-নির্যাতন বেশি করা হচ্ছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আনা-নেয়া করা হয়। এই গরম এবং তীব্র যানজটের মধ্যে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা তাকে প্রিজন ভ্যানে আলো-বাতাসহীন দমবন্ধ অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে। একজন গুরুতর হার্টের রোগী হলেও তাকে আদালতের আটতলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানো-নামানো হচ্ছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অসুস্থ শরীরে এই নিষ্ঠুর নির্যাতন এখন তার প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা। একজন মেধাবী সাংবাদিক বিনা কারণেই এই নির্যাতন ভোগ করছেন। জামিন চাইলেও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যে তার ১০ কেজি ওজন কমে গেছে। বুকের সাথে পিঠ লেগে গেছে। চেহারা ভেঙে গেছে। তার সাথে কী নির্দয় আচরণ করা হচ্ছে কোর্টে হাজিরা দিতে আসা তার ছবিই প্রমাণ।
পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে আদালতের আদেশও আমলে নিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। কারাবিধি মোতাবেক সম্মানিত নাগরিক হিসেবে ডিভিশন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তাকে ডিভিশন না দিয়ে সাধারণ হাজতি হিসেবে রাখা হচ্ছে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসার খাবার তাকে দিতে দেয়া হচ্ছে না। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শওকত মাহমুদের মতো একজন মেধাবী সাংবাদিকের ওপর এই নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা বন্ধ হোক। এই কলমসৈনিককে অবলিম্বে মুক্তি দিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়া হোক। হ
লেখক :সৈয়দ আবদাল আহমদ। সাংবাদিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক
Subscribe to:
Posts (Atom)
eKutubdia Special
-
গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ১০, মোট মৃত্যু ৭৩,৪১৭ - গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশে...1 minute ago
Recent Posts
Popular Posts
-
কুতুবদিয়ার বাতিঘর এখানে শরতের সকালে যেন অন্য রকম এক আয়োজন চলছে। নদীর বুকে ঠিকরে পড়ছে কোমল আলো। যাত্রীরা পড়িমরি করে উঠছে সমুদ্রগা...
-
স্বপ্নপূরণ হলো না কবিতার। লেখাপড়া শিখে দেশের সেবা করার স্বপ্ন ছিল তার। এ কারণেই পিতার বাড়ি ছেড়ে নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করতো। কিন্তু ব...
-
বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আটক, গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে৷ আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মী...
-
সুপ্রিম কোর্টের আপিল রায় রায় পর্যালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রিভিউ আবেদন দায়ের করার জন্য...
-
ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভোলায় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। গত রোববার পর্যন্ত মাঝারি ও ছোট আকারের ...

















