Showing posts with label মধ্যপ্রাচ্য. Show all posts
Showing posts with label মধ্যপ্রাচ্য. Show all posts

Monday, March 9, 2026

মোজতবা খামেনির প্রতি আইআরজিসি ও সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য প্রকাশ

প্রকাশ ০৯ মার্চ ২০২৬ঃ ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ‘তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

আইআরজিসি আরও যোগ করেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) দিয়ে খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকে না এবং এই বিপ্লব ও ইসলামি ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’

খামেনির প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানানো সর্বশেষ পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী মোতজবা খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান... ধর্মপ্রাণ ও বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আরও বলেছে, খামেনিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

মোজতবা খামেনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। গত শনিবার ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, মোজতবা খামেনির স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। তবে সেদিন মোজতবা খামেনি হামলাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

কয়েক বছর ধরে বাবার সম্ভাব্য প্রধান উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রায় আট বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তারপর প্রায় ৩৭ বছর যাবৎ দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি

Wednesday, November 19, 2025

নিরাপত্তা পরিষদে গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন

গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিকল্পনা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে নিরাপত্তা দেয়ার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেয়। ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাব্য পথেরও ইঙ্গিত দেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিবিএস নিউজ। এতে বলা হয়, রাশিয়া এর একটি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ভোটে বিরত থাকে। ১৫ সদস্যের পরিষদে ১৩-০ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয় সোমবার। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ আশা করেছিল রাশিয়া ভেটো ব্যবহার করে প্রস্তাবটি আটকে দেবে না।

এই ভোট ছিল ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশ আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন তাদের অংশগ্রহণের জন্য অত্যাবশ্যক। যুদ্ধবিরতি ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়। কিন্তু হামাস ও ইসরাইলের পারস্পরিক অভিযোগ, তারা শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।

চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী, হামাসকে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। বিনিময়ে ইসরাইলের হাতে থাকা প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে। জীবিত জিম্মিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত এলেও বাকি মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ পুরোপুরি হস্তান্তর করা যায়নি। হামাস ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই জানিয়েছে যে গাজার ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপের কারণে দেহাবশেষ উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দাবি করেছেন।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা ঘটেছে। এর মধ্যে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ইসরাইল প্রতিশ্রুত সব মানবিক সাহায্য গাজায় পৌঁছে দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে অনুমোদন করে। এতে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি অন্তর্বর্তী বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর প্রধান থাকবেন ট্রাম্প নিজে। এটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা প্রদান এবং গাজাকে সামরিকভাবে নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। বোর্ড ও বাহিনীর অনুমোদনের মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত।

mzamin


Wednesday, October 14, 2015

দামেস্কের রুশ দূতাবাসে রকেট হামলা

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে রুশ দূতাবাসে মঙ্গলবার দুটি রকেট আঘাত হেনেছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থন ঘোষণা করার প্রেক্ষাপটে এই হামলা হলো। হামলার পর ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
কোন পক্ষ হামলাটি চালিয়েছে তা জানা যায়নি। আসাদবিরোধী গ্রুপগুলো অতীতে রুশ দূতাবাসকে টার্গেট করেছিল। কিন্তু এবার তারাই তা করেছে কি না তা তারা দাবি করেনি।
হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দামেস্কের পূর্ব প্রান্ত থেকে রকেট দুটি নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে।
এছাড়া শত শত সিরিয়ান দূতাবাসের কাছে গিয়ে আসাদের প্রতি রুশ সমর্থনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।

Wednesday, September 23, 2015

শরণার্থী সমস্যা পশ্চিমাসৃষ্ট -ইনডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণ

ইরাক ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসানে পশ্চিমা বিশ্ব তেমন কিছুই করেনি। এ গৃহযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গণ-দেশত্যাগের ঘটনার সূত্রপাত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলমান শরণার্থী সংকটের কারণও এটাই।
সিরিয়ার মোট দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের অর্ধেকের বেশি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ মানুষ দেশের বাইরে শরণার্থী হয়েছে। ইরাকেও ঘরবাড়িছাড়া লোকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশটির প্রায় ৩০ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই উপলব্ধি করতে শুরু করছে যে এই যুদ্ধ সহজে শেষ হচ্ছে না। এ কারণে তারা নিজের দেশে নিরাপদে বেঁচে থাকার আশা আর রাখছে না।
ইরাক ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ সংকটকে ক্রমেই গভীরতর করছে। ইরাকের ভেতরে জঙ্গিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর রণাঙ্গনে যে সমরসজ্জা, তা এখন সীমান্তে মোতায়েন সেনা ও অস্ত্রসরঞ্জামের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে চলছে চরম অস্থিতিশীলতা। এ ছাড়া ইরাক ও সিরিয়ায় শিয়া মিলিশিয়া, কট্টর সুন্নি বাহিনী, বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী একে অপরকে নির্মূল করতে লড়ছে। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতিদিন হামলা চালিয়ে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে তুলছে কট্টর সুন্নি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। উগ্র শিয়ারাও প্রতিশোধ নিতে সীমা লঙ্ঘন করছে। তবে গৃহযুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটি সম্প্রদায়ই এতটা ভীতসন্ত্রস্ত যে সহায়-সম্পদ বেদখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও পালিয়ে যাচ্ছে তারা। সিরিয়ার কুর্দি কর্তৃপক্ষ তাদের পুরো এলাকা জনশূন্য হওয়া নিয়ে চিন্তিত। কেননা কুর্দি বাসিন্দারাও ঘরবাড়ি ছেড়ে ইউরোপের পথে ছুটছে।
দৃশ্যত এক শতাব্দী আগের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মতোই দীর্ঘ হচ্ছে ইরাক ও সিরিয়ার লড়াই। ২০১১ সালে পশ্চিমা শক্তি যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স এবং এর আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের হিসাবে ব্যাপক ভুল হয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতোই দ্রুত হবে।
সাম্প্রদায়িক সংঘাতে ইরাক ও সিরিয়া ছিন্নভিন্ন হলেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে অদ্ভুত বিচ্ছিন্নতা দেখা যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু করার তাগিদ অন্তত এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নে শরণার্থীদের অবিশ্রান্ত ঢলের কারণে পাশ্চাত্যের নির্লিপ্ত আচরণের পরিবর্তন হয়েছে—এটা বলারও সময় এখনো আসেনি।
পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কমপক্ষে নয়টির বেশি আদিবাসী, উপজাতি বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় চলছে বোকো হারামের সন্ত্রাসী তৎপরতা। আছে আফগান যুদ্ধ। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালেও এত বেশি দেশে গৃহযুদ্ধ দেখা যায়নি। কারণ, তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়ন জানত, এ ধরনের অস্থিরতা অন্য বিশ্বশক্তিকে সুযোগ এনে দেবে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর লিবিয়া বা ইরাকের মতো দেশগুলোর সমস্যায় পড়ার মধ্যে আর কোনো স্বার্থ দেখছে না পশ্চিমা শক্তিগুলো। এটাও লক্ষণীয় যে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ওই দুটি দেশের সরকার পতনে তেলের দামেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বিশ্বায়ন ও নব্য-উদার, মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পেয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু থাকায় সরকার জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রচেষ্টা এড়িয়ে যাওয়ার মতাদর্শগত ন্যায্যতা পেয়েছে। এখানে শক্তি ও সম্পদ একচেটিয়াভাবে ক্ষমতাসীন অভিজাতদের হাতে।
২০১১ সালের আগেও সিরিয়ার রাজধানীর দামেস্কের মধ্যাঞ্চল জীবনযাপনের জন্য বেশ ভালো জায়গা ছিল। সেখানে ছিল দারুণ সব রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতান। একই সময় উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় চলছিল বিপর্যয়কর খরা। কিন্তু সেখানকার জনসাধারণের জন্য সরকার কিছুই করেনি। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে ওই এলাকার প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে শহরের বস্তি এলাকায় আশ্রয় নিতে হয়। ওই স্থানগুলোই পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গত ২৫ বছরে বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আধুনিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, জাতিরাষ্ট্র ও জাতীয়তার বোধ হ্রাসের পর এর স্থানে ভালো কিছু প্রতিস্থাপিত হয়নি। বরং আইএসের মতো মৌলবাদী শক্তিগুলোর জন্য দুয়ার খুলে গেছে।