Showing posts with label প্রথম আলো. Show all posts
Showing posts with label প্রথম আলো. Show all posts

Tuesday, June 9, 2026

ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়ালে তোমাকে একাই লড়তে হবে, আমরা নেই: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানে আবারও হামলা চালালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত রোববার রাতে ইরান–ইসরায়েল নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর গতকাল সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে এবং পরে ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই কড়া বার্তা দেন।

গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ সংঘাতের (রোববার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত চলা পাল্টাপাল্টি হামলা) পর ইসরায়েল ও ইরান তাদের হামলা সাময়িক বন্ধ করতে সম্মত হয়। এর পরপরই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে এল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উভয় পক্ষকে অবিলম্বে ‘গোলাগুলি’ বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে যাবে, যদি না এতে কোনো ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে হামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি বলেছি, বিবি, সাবধান হওয়া ভালো, অন্যথায় খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে পড়বে (একা লড়তে হবে)।’

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে রোববার এ নতুন উত্তেজনার (ইরান–ইসরায়েল হামলা) সূত্রপাত হয়। লেবাননে চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালায় ইরানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তি লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের ওপর আংশিক নির্ভরশীল বলে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং ওই হামলার পাল্টা জবাব না দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সে অনুরোধ উপেক্ষা করে গতকাল ভোরের দিকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল।

ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আঘাত হানে। এরপর ইরানও ইসরায়েলের হাইফায় একই রকম কারখানা ও দুটি বিমান ঘাঁটি নিশানা করে। অবশ্য ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশই অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশে ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা ইসরায়েলের

দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ‘ইরান যুদ্ধ’ বন্ধে ট্রাম্প চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ আপাতত থামলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে থেমে থেমে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছেই।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা তা প্রয়োগ করছি।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে রণাঙ্গনের আগুণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারণ, তেহরানের “সন্ত্রাসী” সরকারের ওপর আমরা আঘাত হানার পর তারা আমাদের ওপর হামলা বন্ধ করেছে।’ পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘ইরান যদি আবার আমাদের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনার খবরকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’কে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে প্রিয়জনদের মধ্যেও একটু-আধটু ঝগড়া হয়।’

লেইটার বলেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের অনুরোধে ‘পরিস্থিতি শান্ত করার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঠিকই, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টও ‘খুব ভালো করে’ বোঝেন যে ইসরায়েল নিজের দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত কোনো জবাব না দিয়ে মুখ বুজে সহ্য করতে পারে না।

উত্তেজনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য সরাসরি দায়ী। তারা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ। তাই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আটক, ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে হামলা বা অন্য যেকোনো ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সরাসরি দায়ী থাকবে।’

এদিকে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো এ অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নাসর’ বা ‘বিজয়’। এ অভিযান ‘শক্তিশালী ইরানের এক নতুন স্তরের প্রতিরোধ সক্ষমতা’ প্রদর্শন করেছে। এর ফলে ইসরায়েল ‘আরও একবার যুদ্ধবিরতির জন্য ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে’ বলেও তিনি দাবি করেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপি ফাইল ছবি

Monday, March 9, 2026

মোজতবা খামেনির প্রতি আইআরজিসি ও সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য প্রকাশ

প্রকাশ ০৯ মার্চ ২০২৬ঃ ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ‘তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

আইআরজিসি আরও যোগ করেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) দিয়ে খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকে না এবং এই বিপ্লব ও ইসলামি ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’

খামেনির প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানানো সর্বশেষ পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী মোতজবা খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান... ধর্মপ্রাণ ও বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আরও বলেছে, খামেনিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

মোজতবা খামেনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। গত শনিবার ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, মোজতবা খামেনির স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। তবে সেদিন মোজতবা খামেনি হামলাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

কয়েক বছর ধরে বাবার সম্ভাব্য প্রধান উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রায় আট বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তারপর প্রায় ৩৭ বছর যাবৎ দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি

Tuesday, June 21, 2016

সাহসই সম্বল তাঁদের

‘জীবনে বহু ঘূর্ণিঝড় দেখেছি। হারিয়েছি অনেক স্বজন, কিন্তু মনোবল হারাইনি। রোয়ানুর আঘাতে কিরণপাড়ার শতাধিক ঘর ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। সাহসকে সম্বল করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।’
বলছিলেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলীআকবরডেইল ইউনিয়নের কিরণপাড়ার জেলে শাহ আলম (৬৩)।
গত বৃহস্পতিবার সমুদ্রতীরবর্তী আলীআকবরডেইল ইউনিয়নের কিরণপাড়া, সাগরপাড়া ও গহরপাড়া ঘুরে এ রকম আরও সাহসী মানুষের সঙ্গে কথা হয়।
শাহ আলমের পাশের ঘরের কাঞ্চন মিয়া (৫২) বলেন, ‘২৫ বছর আগের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে এই দ্বীপের ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় নারিকেলগাছ ধরে টানা চার ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রাণ রক্ষা করেছি। অথচ এখন আমরা ভাঙা বেড়িবাঁধের সংস্কারের জন্য সরকারের দিকে চেয়ে আছি।’
কিরণপাড়ার পশ্চিমে পাথরের ব্লক দিয়ে তৈরি লম্বা বেড়িবাঁধ। পানি থেকে ১০ ফুট দূরত্বে বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়িঘরে বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার।
একটি ঘরের বাসিন্দা গৃহবধূ সালমা খাতুন (৪৪) বলেন, ‘রাতে যখন ঘুমাতে যাচ্ছিলাম, তখন সমুদ্র তিন হাত দূরে। জানা ছিল, এর বেশি পানি উঠবে না। কিন্তু নিম্নচাপের কারণে এখন সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল। তাই একটু সতর্ক থাকতে হবে।’
কিরণপাড়ার উত্তরে বেড়িবাঁধের কিছু অংশ ভাঙা। এই ভাঙা অংশ দিয়ে সাগরের পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
একই পরিস্থিতি দেখা গেল উত্তর ধুরুং ইউনিয়নেও। রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে ইউনিয়নে সাত হাজারের মতো ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। কিন্তু মনোবল হারাননি এলাকার বাসিন্দারা।
ইউনিয়নের আকবরবলীপাড়ার গৃহবধূ রশিদা বেগম (৪৫) ভাঙা বেড়িবাঁধ দেখিয়ে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা বললে গ্রামের হাজারো মানুষ বেড়িবাঁধ সংস্কারে নেমে যাবে। তাহলে অন্তত ঘরবাড়িতে জোয়ারের পানি ঢুকে যাওয়া ঠেকানো যাবে। কিন্তু সাহসী মানুষগুলোকে মাঠে নামানোর কেউ নেই। সাহস আছে বলেই আমরা জন্মভিটায় পড়ে আছি।’
উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু এই টাকায় ভাঙা বেড়িবাঁধের কিছু অংশ সংস্কার করলে মানুষ বেশি লাভবান হতো। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ নেই বলেই শ্রমজীবী মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারছে না।
শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, এখানকার মানুষ সাহসী। কিন্তু আর্থিক সংকটে অনেকে বিপর্যস্ত। আগে স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙা বেড়িবাঁধের সংস্কার হলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ লোকজন টাকা ছাড়া কাজ করতে রাজি হচ্ছে না। তা ছাড়া স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ১০ কিলোমিটারের ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার মোটেও সম্ভব নয়।
এই ইউনিয়নের আজম সড়কের দুপাশে ঝুপড়িঘর তৈরি করে বসবাস করছে গৃহহীন শতাধিক পরিবার। অধিকাংশ ঘরে কোনো পুরুষের দেখা মেলেনি। তাঁরা আয়-রোজগারের জন্য কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাড়ি জমিয়েছেন।
একটি ঘরের বাসিন্দা আলেয়া বেগম (৩৫) বলেন, ‘সমুদ্র উপকূলেই আমাদের জন্ম। সমুদ্রের গর্জন আমাদের সাহসী করে তোলে। কিন্তু নানা অবহেলায় আমরা দুর্বল হয়ে পড়ছি। গত ২৫ বছরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে শত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী বেড়িবাঁধ হচ্ছে না।’

Wednesday, October 14, 2015

নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হতেই ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভোলায় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। গত রোববার পর্যন্ত মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশ শিকার করেছেন তাঁরা।
মা ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ৯ অক্টোবর। রাত ১২টায় সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ওই রাতেই জেলেরা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নামেন।
দৌলতখান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝি সিরাজুল ইসলাম বলেন, অমাবস্যার প্রভাবে মাছ ভালোই পড়ছে জালে। তবে বড় ইলিশ কম। সবই মাঝারি আকারের। পেটে ডিমও নাই; যেগুলোর আছে, সেগুলো ছোট। এক হালি মাছ এক হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের রফিক মাঝি বলেন, নদীতে নেমে দুই জোতে (জোয়ার) ৭৫ হাজার টাকার ইলিশ পেয়েছেন তিনি।
একই ইউনিয়নের আনন্দবাজারের খালেদ মাঝি, তজুমদ্দিন উপজেলার স্লুইসগেট মাছঘাটের আলমগীর মাঝি ও সদর উপজেলার বিশ্বরোডের মাথার সফি মাঝি বলেন, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকে তাঁরা প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছেন।
সদর উপজেলার মাছঘাট চডারমাথা, বিশ্বরোড, তুলাতুলি, ভোলা খাল ঘাটে; দৌলতখান উপজেলার পাতার খাল, চৌকিঘাটা, ভবানীপুর; তজুমদ্দিন উপজেলার স্লুইসগেট, লালমোহনের বাত্তিরখাল ও চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাট ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইলিশের বাজার আবার জমজমাট হয়ে উঠেছে।
পাতারখাল নতুন মাছঘাটের আড়তদার আলমগীর হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার মৌসুম শেষ হওয়ার পরের দুই দিন ভালোই মাছ ধরা পড়েছে।
ভোলার দৌলতখানের মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার ও চরফ্যাশন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানবলেন, ধরা পড়া মাছের বেশির ভাগ ১১ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা আর ৪০০-৬০০ গ্রাম ওজনের।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিশ কুমার মল্লিক বলেন, তিনি নদীর তীরে গিয়ে দেখেছেন জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাচ্ছেন।

দূরে বাতিঘর... by মোহাম্মদ বদরুজ্জামান

কুতুবদিয়ার বাতিঘর
এখানে শরতের সকালে যেন অন্য রকম এক আয়োজন চলছে। নদীর বুকে ঠিকরে পড়ছে কোমল আলো। যাত্রীরা পড়িমরি করে উঠছে সমুদ্রগামী ট্রলারে। খুব ভোরে চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি ঘাটে পৌঁছালাম তড়িঘড়ি। চলেছি সমুদ্রভ্রমণে। ট্রলারের লোকজনের হাঁকডাক দেখে বুঝলাম, ঘাট চিনতে ভুল হয়নি আমাদের। হাঁসফাঁস করে আমরাও উঠলাম সেই ট্রলারের ছাদে।
কর্ণফুলীর বুকে নোঙর করা অসংখ্য জাহাজ, ট্রলার আর কার্গো দৃষ্টি কেড়ে নিল আমাদের। বাস্তবে এত দৈত্যাকৃতির নৌযান তো দেখিনি আগে। কর্ণফুলীর মোহনায় যেতে না যেতেই কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোট এসে থামিয়ে দিল আমাদের ট্রলার। কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা ট্রলারের মাঝিমাল্লাদের শাসিয়ে দিলেন এবং চোখ রাঙিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা অন্যায়। যা হোক, ক্রমেই বঙ্গোপসাগরের অসীম জলরাশির মধ্যে ঢুকে পড়ল আমাদের ট্রলার। আর বাতিঘরের কুতুবদিয়া আমার মধ্যে কৌতূহলও বাড়িয়ে দিল সেই সঙ্গে।
কুতুবদিয়ার বাতিঘর সেই প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়েই আমাকে রোমাঞ্চিত করেছিল। নাবিকেরা রাতের বেলায় বাতি দেখে জাহাজের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে নাবিকেরা কুতুবদিয়ার ঘূর্ণমান বাতি দেখতে পান। ব্যাপারটা কী দারুণ! কিন্তু পাহাড়-পর্বত ভ্রমণে ঝোঁক বেশি থাকায় কুতুবদিয়ার কথা হয়তো ভুলেই বসেছিলাম। এবার ঈদের পর বেড়াতে যাওয়ার বায়না ধরে বসলেন বন্ধু এহসান। সমুদ্রপথে কুতুবদিয়া ভ্রমণের কথা শুনে এহসান নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে ছাড়লেন না।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করে উঠল। ট্রলারে খাবারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পড়লাম বিপদে। উপকূল ধরে চলছে আমাদের নৌযান। কোথাও বড় বড় ঢেউয়ের সঙ্গে চলে উথাল-পাতাল খেলা। একেক করে কেটে গেল কয়েক ঘণ্টা। এদিকে প্রচণ্ড তাপে অস্থির হয়ে উঠল যাত্রীরা। আনোয়ারা-বাঁশখালীর উপকূল ছেড়ে গভীরে চলে গেলাম ক্রমে। অপেক্ষার যেন শেষ নেই, কুতুবদিয়ারও কূলকিনারা নেই। অবশেষে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বঙ্গোপসাগরের মাঝে যেন জেগে উঠল অচেনা এক দ্বীপ। বেলা একটার সময় নামলাম দরবার ঘাটে। তারপর জিপে চেপে বড় ঘোপ বাজার।
উত্তর-দক্ষিণে লম্বা কুতুবদিয়া দ্বীপের যোগাযোগব্যবস্থা একেবারে খারাপ না। তবে নিম্নাঞ্চল ও উপকূলের অনেক জায়গায় কাঠ ও বাঁশের সেতু দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের চাঁদের গাড়ির আদলে চলাচলের জন্য এখানে আছে ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি (জিপ নামেই বেশি পরিচিত)। টেম্পো আর রিকশাও আছে পর্যাপ্ত। হাতিয়া দ্বীপেও দেখেছিলাম এ রকম যাত্রীবাহী জিপ। মহেশখালী আর সোনাদিয়ার মতো এ দ্বীপেও চলার পথে চোখে পড়ল বড় বড় লবণখেত। নাবিকদের পথ দেখানোর সুবিধার্থে ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার কুতুবদিয়ায় নির্মাণ করে বাতিঘরটি। দ্বীপটির মধ্যাঞ্চলীয় দক্ষিণ ধুরমং এলাকার পশ্চিম উপকূলে এটি অবস্থিত। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এ বাতিঘর ১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হারিয়ে যায় সমুদ্রগর্ভে। ষাটের দশকেই পুনরায় আরেকটি বাতিঘর নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধের ভেতরে। তবে ভাটার সময় পুরোনো বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ এখনো দেখা যায়।
হোটেলের বারান্দা থেকে সাগরের অসীম জলরাশি চোখে লাগাল ভেলকি। কুতুবদিয়া দ্বীপের পশ্চিম কূলজুড়ে সমুদ্রতট। তবে মূল সৈকত বড় ঘোপ আর ধুরুং এলাকাজুড়ে। কোথাও কোথাও ঝাউবন ঘেরা সৌন্দর্যের হাতছানি। সুন্দর তটে ফুটবল আর ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠেন এখানকার তরুণেরা। সূর্যাস্তের আগেই নেমে পড়লাম সৈকতে। বালুহীন সমুদ্রতটে পা ছোঁয়াতেই ভিন্ন রকম এক অনুভূতি। সূর্যাস্তের পর গোধূলির আলো স্মিত হওয়ার আগেই বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের আলো ছড়িয়ে পড়ল পানিতে। সে এক অসাধারণ দৃশ্য!
রাতের সৈকত অন্য রকম রূপ নিয়ে হাজির। পূর্ণিমার জোছনাস্নাত তটে বসে জোয়ারের গর্জন রোমাঞ্চিত করল আমাদের। সাগরের বুকে নোঙর করা আলোকময় জাহাজে ভাসতে ইচ্ছে করল। দক্ষিণ ধুরুংয়ের বাতিঘরের আলো উদ্দীপনা জাগাল বেশ। যার আলোয় নাবিকদের দুচোখ চিকচিক করে ওঠে।
সকালে আবার গেলাম সৈকতে। একেবারে নির্জন ও শান্ত-কোমল সাগর পাড়। ভেজা তটে হাঁটলাম ঘণ্টা খানেক। লাল কাঁকড়ার খেলা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না। সোনাদিয়া সৈকতের মতো এখানেও প্রচুর লাল কাঁকড়ার বিচরণ। সোনাদিয়ায় দেখা যায় এদের দলবদ্ধভাবে চলতে। এখানে বিচ্ছিন্নভাবে।
বড় ঘোপ স্টিমার ঘাটে মানুষের ভিড়। ফেরার অপেক্ষায় আছি, এমন সময় গোঁ গোঁ শব্দ করে একটি স্পিডবোট ঘাটে এসে ভিড়ল। দ্রুতগামী সে যানে চেপে পাড়ি দিলাম কুতুবদিয়া চ্যানেল। মগনামা ঘাটে এসে মনে হলো, ওপারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি কীভাবে যেন গড়ে দিল মনের মধ্যে এক সেতু।
সূর্য নেমে যায় যেন সমুদ্রে। ছবি: সোলাইমান হোসেন
যেভাবে যাবেন
কয়েকটি রুটে যাওয়া যায় দ্বীপ কুতুবদিয়ায়। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামে এসে ফিরিঙ্গি ঘাটে কুতুবদিয়াগামী ট্রলার ধরতে হবে। সকাল ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে দুটি ট্রলার ছেড়ে যায় কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে। কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ স্টিমার ঘাটে নেমে উপজেলা সদরে যেতে পারবেন রিকশায় চেপে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট পর্যন্ত এস আলম পরিবহনের মিনি বাস যাতায়াত করে। বহদ্দারহাট কিংবা শাহ আমানত সেতুর কাছ থেকে উঠতে পারবেন বাসে। মগনামা ঘাট থেকে স্পিডবোট কিংবা ট্রলারে চেপে পার হবেন কুতুবদিয়া চ্যানেল।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসে চেপে নামতে পারেন চকরিয়া বাজারে। চকরিয়া থেকে মগনামা ঘাট যাওয়া যায় জিপ কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। এটাই অপেক্ষাকৃত সহজ পথ। তবে যাদের পানিভীতি কম, ট্রলারে সমুদ্র ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
প্রয়োজনীয় তথ্য
কুতুবদিয়া দ্বীপ ভ্রমণের জন্য শীতকাল বেছে নিন। কারণ, এ দ্বীপে শীতকালে লবণ চাষ হয়। শুঁটকির প্রক্রিয়াকরণও চলে শীত মৌসুমে। আর মাছও পাওয়া যায় পর্যাপ্ত। এ ছাড়া তাপ কম থাকায় সমুদ্রপথে ট্রলার ভ্রমণটাও হবে আরামদায়ক। ট্রলারে যাওয়ার সময় সকালের নাশতা সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। কুতুবদিয়ার সৈকত পরীক্ষিত না। তাই জোয়ার ছাড়া অন্য সময়ে পানিতে নামা নিরাপদ নয়। বড় ঘোপ বাজারে থাকা ও খাওয়ার হোটেল আছে।
দ্বীপ কুতুবদিয়া

Thursday, September 24, 2015

মিনায় পদদলিত হয়ে ৭১৭ হাজির মৃত্যু

সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হতাহত হাজিদের
উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ছবি: ফেরদৌস ফয়সাল, মিনা থেকে
সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হতাহত হাজিদের
উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ছবি: ফেরদৌস ফয়সাল, মিনা থেকে
সৌদি আরবের মিনায় পবিত্র হজ পালনকালে আজ বৃহস্পতিবার পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ৭১৭ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সের পরিচালকের দপ্তর এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা
সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিচালকের দপ্তর জানিয়েছে, হজের শেষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা মিনার বড় জামারাকে (বড় শয়তান) লক্ষ্য করে কঙ্কর মারতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পদদলিত হয়ে ৭১৯ জন হাজি আহত হয়েছেন।
সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আহতদের উদ্ধার করে মিনা অঞ্চলের চারটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। উদ্ধারকাজে চার হাজারের মতো কর্মী অংশ নিচ্ছেন। ঘটনাস্থলে ২২০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক মিনা থেকে জানিয়েছেন, শয়তানকে পাথর মারতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মিনা থেকে আমাদের প্রতিবেদক ফেরদৌস ফয়সাল জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিনার ২০৪ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র গরম ও হাজিদের তাড়াহুড়োর কারণে এমনটি ঘটেছে। ঘটনাস্থল দেখে তাঁর মনে হয়েছে, বয়স্ক ও নারী হাজিরা দুর্ঘটনায় বেশি হতাহত হয়েছেন। এই সড়কটি মূলত আরব ও আফ্রিকান হাজিরা ব্যবহার করে থাকেন। বাংলাদেশিরা সাধারণত এই সড়কে চলাচল করেন না।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশি হাজির সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। এঁদের মধ্যে একজন ভিড়ের মধ্যে পড়ে সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান। তবে পরিবার দুশ্চিন্তা করবে বিবেচনায় তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার ধরে তাঁরা হাঁটছিলেন। তীব্র গরমে বয়স্ক ও নারীদের হাঁটার গতি কমে আসছিল। কিন্তু পেছনের অনেকেই স্বাভাবিক গতিতেই সামনে এগোচ্ছিলেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে ওই সড়কের ৮/২০৪ থেকে ১২/২০৪ নম্বর তাঁবুর স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের প্রতিনিধি আবদুল রহমান আল-ওসামি মিনা থেকে জানিয়েছেন, ২০৪ নম্বর সড়কের কাছে জামারাত সেতুর প্রবেশমুখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। সড়কে হতাহত হাজিরা পড়ে আছেন।
কেন্দ্রীয় হজ কমিটির প্রধান প্রিন্স খালেদ আল-ফয়সাল এ দুর্ঘটনার জন্য ‘কিছু আফ্রিকান জাতীয়তার’ হাজিদের দায়ী করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল-আরবিয়া টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এবার ২০ লাখের মতো মুসলমান হজ পালন করছেন। এর আগেও হজ পালন করতে গিয়ে নানা সময়ে পদদলিত হয়ে হাজিরা মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯০ সালে মক্কায় পদদলিত হয়ে ১ হাজার ৪২৬ জন হাজির মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে মিনায় (বড় শয়তান) লক্ষ্য করে কঙ্কর ছুড়ে মারার সময় পদদলিত হয়ে ১৮০ জন হাজির মৃত্যু হয়। ২০০১ সালে মিনায় পদদলিত হয়ে মারা যান ৩৫ জন। ২০০৬ সালে মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় দুর্ঘটনায় ৩৬০ জনের বেশি হাজির মৃত্যু হয়।
এ বছরের ১১ সেপ্টেম্বর হজ চলাকালে মক্কায় মসজিদুল হারামে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ে ১১১ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ৪০০ জন।
সৌদির সিভিল ডিফেন্সের টুইটারে প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর জানায়।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের প্রতিনিধি আবদুল রহমান আল-ওসামি মিনা থেকে জানিয়েছেন, ২০৪ নম্বর সড়কের কাছে জামারাত সেতুর প্রবেশমুখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেনি।

Wednesday, September 23, 2015

শরণার্থীরা হতে পারে জার্মানির জনশক্তি

দলবেঁধে আসা শরণার্থীদের একধরনের বাড়তি বোঝা বলে মনে করে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ। কাঁটাতারের বেড়া, পুলিশের পিটুনি, কাঁদানে গ্যাস দিয়ে এই জনস্রোত আটকে রাখছে। ঢুকতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম জার্মানি। তুরস্কের সাগরতীরে সিরীয় শরণার্থী তিন বছরের শিশু আয়লানের নিথর দেহ ভেসে আসার পর জার্মানিই প্রথম সাহস দেখায়। দুয়ার খুলে দেয় শরণার্থীদের জন্য। ফুল, চকলেট, গরম কাপড় দিয়ে মিউনিখ স্টেশনে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানায় শরণার্থীদের। তবে আট লাখ শরণার্থী নেওয়ার পর অনেকটা কঠোর হয় তাঁরা। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শরণার্থী নিয়ে এত বড় সংকটে আর পড়েনি ইউরোপ-এ কথা স্বীকার করেছে জার্মানি। এ বছর তাই দেশটি আট লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেন, তাঁদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমান, এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
অন্য দেশগুলো যেখানে শরণার্থীদের বোঝা মনে করে, জার্মানি সেখানে তাদের কাজে লাগাতে চায়। নিজেদের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে চায়। শ্রমবাজারকে গতিশীল করতে চায়। কারণটা খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এদের নিয়ে জার্মানির ভাবনা সুদূরপ্রসারী।
বার্লিনে গত কয়েক বছরে জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে। দেশটিতে জনসংখ্যার জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুহার বেশি। হিসেব করে দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বার্লিনে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ৬০ লাখ কমে যাবে। দেশটির ভাইস চ্যান্সেলর অর্থমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে বলেন, যদি জার্মানি দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে শরণার্থীদের কর্মসংস্থান করতে পারে, তাহলে অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো সম্ভব। তারাই তখন অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। শরণার্থীদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা জার্মান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
এ বছর আসা আট লাখ শরণার্থীকে ঘিরে এর মধ্যেই জার্মানিতে ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে উঠেছে। ব্যবসার ক্ষেত্র আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জার্মানির ডর্টমুন্ড শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ড্যানিয়েল কক। তিনি গৃহনির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা করেন। শরণার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যবসার কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বাণিজ্যিক সংস্থার পরামর্শে এ উদ্যোগ নেন কক। আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার শরণার্থী তেসভাজেব্রিয়েল আবরাহা নির্মাণকাজের কলাকৌশল জানতেন না। দুই সপ্তাহ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তিনি দক্ষতা অর্জন করেন। তবে শরণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো দক্ষ লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয় বলে জানান কক।
জার্মানির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিআইডব্লিউয়ের প্রধান মার্সেল ফ্রাৎজশার বলেন, গত পাঁচ বছরে ইউরোপে প্রায় দেড় লাখ নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন চাকরির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পূরণ করেছে শরণার্থীরা। ফ্রাৎজশার বলেন, জার্মানির অর্থনীতিকে গতিশীল করতে তাঁদের আরও নতুন কর্মী দরকার। ডর্টমুন্ডের স্থানীয় বাণিজ্যিক সংস্থা এইচডব্লিউকের মুখপাত্র বলেছেন, এই শহরে অনেক শিল্প কারখানায় চাকরির সুযোগ আছে। কিন্তু যোগ্য কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। জার্মানরা সাধারণত উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী। শিক্ষাজীবন শেষ করার আগে তাঁরা কোনো কাজ জড়াতে চান না। এতে শিল্প কারখানাগুলোর অনেক পদই শূন্য থাকে। এসব ক্ষেত্রে জার্মানি শরণার্থীদের কাজে লাগাতে চায়।
জার্মানির জনবহুল নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে শরণার্থীদের এক-পঞ্চমাংস আশ্রয় নিয়েছেন। এই রাজ্যের শহর ডর্টমুন্ডে প্রায় চার হাজার শরণার্থী এসেছে। তাঁদের কর্মসংস্থানের কথা ভাবা হচ্ছে। এ বছরের শুরুতে সিরিয়া, আফ্রিকার কঙ্গো ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা ৮৫ জন শরণার্থীর অঙ্ক ও ভাষা বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এর পরে তাঁদের বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক, ধাতব পদার্থ ও নির্মাণসামগ্রীর কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এইচডব্লিউকের মুখপাত্র বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এসব শিক্ষানবিশ শরণার্থীদের খুব কম বেতনে কাজ করানো হয়। প্রতি ঘণ্টায় নির্ধারিত সর্বনিম্ন বেতন ৮ দশমিক ৫০ ইউরোরও কম পান তাঁরা। তাদের বেতনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। ডর্টমুন্ডে এইচডব্লিউকের প্রধান বার্টহোল্ড শ্রোয়েডার শরণার্থীদের জনশক্তিতে কাজে লাগানোর এই পাইলট প্রকল্পের উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের কাজ দেয় তাঁরা নানাভাবে সহায়তা করে। অনেক সময় থাকার বন্দোবস্তও করে দেয়। তবে একেবারে অদক্ষ ও অশিক্ষিত শরণার্থীরা জার্মানির জন্য গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডি মেজিয়র বলেন, সিরীয় শরণার্থীদের অনেকে উচ্চশিক্ষিত। আবার অনেকে স্বল্প শিক্ষিত। এরা দেশের জন্য একধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। শ্রমমন্ত্রী আন্দ্রে নাহলেস বলেন, আট লাখ শরণার্থীর মধ্যে চার লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে জার্মানি কাজে লাগাতে পারবে। দক্ষতার অভাবের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, আবহাওয়া, সংস্কার কাজে শ্রমিকদের কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আবার যেসব শরণার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে ভালো কাজ করছে, তাদের স্থায়িত্ব সম্পর্কে একধরনের শঙ্কা রয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর দ্য ফিউচার অব ওয়ার্কের গবেষণা বিভাগের উপপরিচালক উলফ রাইন বলেন, প্রশিক্ষণের পর শরণার্থীরা অন্য কোথাও চলে যেতে পারে। যারা দীর্ঘ বা মধ্য মেয়াদে কাজ করবে, তারা শ্রমবাজারকে গতিশীল করতে পারবে। রয়টার্স অবলম্বনে

Monday, October 6, 2014

মানুষের বানানো প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম পানিপথ

চীনের ইতিহাসে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা কমই আছে: মানুষের বানানো পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে প্রাচীনতম পানিপথ এটা, যা সুয়েজ খালের চেয়ে ৯ গুণ দীর্ঘ। এই খাল কাটা না হলে বেইজিং হয়তো কখনোই চীনের রাজধানী হয়ে উঠত না। আর এই খাল ছাড়া হয়তো চীন-ই চীন হয়ে উঠত না! এমন আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ‘বেইজিং গ্র্যান্ড ক্যানাল’ বা ‘বেইজিংয়ের বড় খাল’-কে এ বছরের জুন মাসে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিয়েছে ইউনেসকো। সরেজমিন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে এক ফটো ফিচারে এ সম্পর্কে জানিয়েছেন বিবিসির আমান্দা রুগেরি।

এ প্রজন্মের ‘বেইজিংগার’ বা বেইজিংয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে অল্প কিছু লোক যদিও বা বড় খাল ঘুরে দেখে থাকেন, তাহলে তার চেয়ে আরও কম পর্যটকই তা দেখেছেন। অবশ্য এই বড় খাল দক্ষিণ চীনে তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। সেখানে প্রমোদতরি আর বার্জগুলো এখনো ২ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো এই নৌপথে চলাচল করে। কিন্তু অনেক বেইজিংগারই জানেন না যে, তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ৩৫ কিলোমিটার দূরে বেইজিংয়ের তোংঝু উপশহর থেকে শুরু হওয়া এই হাতে কাটা খাল ১ হাজার ৭৯৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব-চীনের ঝেইজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হাংঝোও পর্যন্ত বিস্তৃত।

বেইজিংয়ের এই বড় খাল কাটতে কাটতে পেরিয়ে গেছে প্রায় ১৮০০ বছর। যে লাখ লাখ শ্রমিক এই খাল কাটতে গিয়ে জীবনতিপাত করেছেন, দুনিয়ার আর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভবত এত মানবসম্পদ কাজে লাগাতে হয়নি। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮৬ সালে এই খাল কাটার কাজ শুরু হয়। ৬০৫ সালের দিকে চীনের এক সাবেক রাজধানী লুয়োইয়াং থেকে কিংঝিয়াং পর্যন্ত এক হাজার কিলোমিটারের মতো খাল কাটা শেষ হয়েছিল। এর পাঁচ বছর পর ঝেনজিয়াং থেকে হাংঝোও পর্যন্ত আরও ৪০০ কিলোমিটার খাল কাটা শেষ হয়।

মানুষের বানানো এই দীর্ঘতম পানিপথে আরও জল গড়ানো বাকি ছিল তখনো। ৬১০ সালের দিকে এই খাল পৌঁছে যায় প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে। অন্ততপক্ষে ৩০ লাখ কৃষককে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়েছিল এখানে। ধারণা করা হয়ে থাকে, এই কৃষক-শ্রমিকদের অর্ধেকেরও বেশি কঠোর পরিশ্রম আর অনাহারে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু কুবলাই খান যখন ১২৭১ সালে কাইফেং বা লুয়োইয়াং থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে বেইজিংয়ে নিয়ে আসেন, তখন আগের চেয়ে আরও বেশি কৃষক-শ্রমিককে জীবন উৎসর্গ করতে হয় এই খাল কাটার জন্য। এখনকার বেইজিং-হাংঝোও নৌপথের রূপ দিতে আরও ৪০০ কিলোমিটার খাল কাটতে হয়। সে সময় ১০ বছরে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন কুবলাই খানের নতুন রাজধানীকে আরও সরাসরি এই খালে যুক্ত করতে। ইউনেসকোর ভাষ্য অনুযায়ী, বেইজিং গ্র্যান্ড ক্যানাল ‘শিল্প বিপ্লবের আগে বাস্তবায়িত দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এবং সুপরিসর পুর-কৌশল প্রকল্প’।

প্রাচীন চীন সাম্রাজ্যের জন্য নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই এত সাধনায় বাস্তবায়ন করা হয়েছিল এই খাল কাটা। নাগরিকদের খাদ্যনিরাপত্তা তার মধ্যে অন্যতম। ইয়াংসি অববাহিকা চীনের রুটির ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত হলেও খোদ ইয়াংসি নদীই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত। কিন্তু শাসকেরা জানেন, ক্ষুধার্ত জনগণই বিদ্রোহ করে বসে আর না-খাওয়া সৈনিকেরা কোনো কাজে আসে না। ফলে এই খাল কাটার মধ্য দিয়ে চীনের শাসকেরা ইয়াংসি থেকে হলুদ নদী হোয়াংহো পর্যন্ত চাল বোঝাই নৌকা চলাচলের সুযোগ করে দিতে পেরেছিলেন। এই অববাহিকায় উৎপাদিত চালের মতোই উত্তর চীনে উৎপাদিত গমও এই নৌপথ দিয়েই দক্ষিণ চীনে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি আরও কিছু ছোট ছোট খাল-নদীতে যুক্ত হয়ে এই নৌ-পথ রাজধানী বেইজিংকে ঘিরে চীনে উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান অবলম্বন হয়ে ওঠে।
যেকোনোও মহৎ সৃষ্টিই যেমন সৃজনের পথকে আরও প্রসারিত করে, ঠিক তেমনটাই ঘটেছে বেইজিং বড় খালের ক্ষেত্রে। ৫৮৭ সালেই সুই সাম্রাজ্যের শাসনামলে এই খালে দুনিয়ার প্রথম ‘লক গেট’ বানানো হয়েছিল। হোয়াংহো নদীর সঙ্গে এই খালের সংযোগ পথে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন গেট বসিয়েছিলেন প্রকৌশলী লিয়াং রুই। ৯৮৪ সালে আরেক প্রকৌশলী কিয়াও উইয়েও এই খালে প্রথম ‘পাউন্ড লক’ বানান। আধুনিক পানি-প্রযুক্তিতে অনেক খালেই আমরা এমন ধরনের ব্যবস্থা দেখি। এতে দুই পাশে ঘের দিয়ে একটা নিরাপদ পুকুরের মতো তৈরি করা হয় এবং পানির উচ্চতা কমে-বেড়ে স্থির না হওয়া পর্যন্ত নৌকাগুলো সেখানে অপেক্ষা করতে পারে। ১৯৭৩ সালে ইউরোপে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় নেদারল্যান্ডসের ভ্রিসভিকে।

১৯ শতকে চীনে রেলপথের প্রসারের পর থেকেই এই নৌপথের গুরুত্ব কমতে থাকে। গ্র্যান্ড ক্যানালের অনেক ছোট ছোট সংযোগ খালের সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৯৫৮ সালে মূল খালে একটা বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়। সে সময় থেকেই দক্ষিণ চীনে গুরুত্বের সঙ্গে নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা। অতি সম্প্রতি বেইজিং নগর হয়তো নতুন করে আবিষ্কার করতে শুরু করেছে ভুলে যাওয়া এই খালকে। ২০০৮ সালের অলিম্পিক গেমসের সময় এই খালের পাড় ধরে একটা অলিম্পিক পার্ক গড়ে তোলা হয়। গত বছর এই খালের পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘গ্র্যান্ড ক্যানাল ফরেস্ট পার্ক’। গাছ-গাছালি আর পাখ-পাখালিতে ভরা খাল পাড়ের এই উদ্যান এখন অনেক বেইজিংবাসীরই নজর কাড়ছে।


বেইজিং গ্র্যান্ড ক্যানাল কেবল মানুষের বানানো দীর্ঘতম ও প্রাচীনতম পানিপথ কিংবা এককালের সবচেয়ে বড় পুরকৌশল প্রকল্পই নয়, এটা আমাদের ধীরগতির পরিবেশবান্ধব উন্নয়নেরও একটা নমুনা। আজকের দিনে বেইজিংয়ের বুলেট ট্রেন, কিংবা আকাশছোঁয়া সব অট্টালিকা আর পশ্চিমা ধাঁচের উন্নয়নের জোয়ারের আগে সভ্যতার অগ্রযাত্রায় চীনের অনন্য পথচলার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে মানুষের বানানো এই খাল। এই নৌপথ যথাযথভাবে সংস্কার করে এখানকার প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করা গেলে মানুষের বানানো এই খালও হয়তো আগামী দুনিয়ায় চীনের বিশাল প্রাচীরের মতোই চীনের গর্ব হয়ে থাকবে।

Saturday, August 16, 2014

নওয়াজ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন: ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। এই দাবিতে তিনি আজ শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসবেন। পাকিস্তানের ডন অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
২০১৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খান।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ইমরান খান আজ সকালে রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান করব। কারচুপি করে ক্ষমতায় বসা প্রধানমন্ত্রীকে আমরা মেনে নেব না।’
ইমরান খানের নেতৃত্বে তাঁর দল পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের লাহোর থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘আজাদি মার্চ’ শুরু করেন। গতকাল শুক্রবার তাঁদের গাড়িবহর গুজরানওয়ালা শহরে পৌঁছালে সেখানে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) নেতা-কর্মীরা আজাদি মার্চে জুতা ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন।

>>পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইমরান খান। ছবিটি গতকাল শুক্রবার তোলা। ছবি: এএফপি
ইমরানের অভিযোগ, তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রী জানান, তিনি গুলি ছোড়ার মতো কোনো শব্দ শোনেননি।

ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র অনিশ্চিত- আজমেরীসহ জড়িত ১১, ৯ জনই এখন বিদেশে by তানভীর সোহেল ও আসিফ হোসেন

নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘটনায় জড়িত হিসেবে আজমেরী ওসমানসহ ১১ আসামির মধ্যে নয়জনই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। একজন অন্য মামলায় কারাগারে আছেন। আরেকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের তদন্ত দলের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

র‌্যাবের সূত্র আরও বলছে, তদন্ত গুছিয়ে এনে তারা একটি খসড়া অভিযোগপত্রও তৈরি করেছে। তবে কবে নাগাদ অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত করে আদালতে জমা দেওয়া হবে, তা কেউই বলতে পারছে না। মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওসমান পরিবার এই হত্যায় জড়িত থাকায় সরকারের উচ্চপর‌্যায় থেকে মামলাটির কার্যক্রম বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
গত ৬ মার্চ ত্বকী হত্যার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে র‌্যাবের সহকারী মহাপরিচালক (এডিজি) জিয়াউল আহসান বলেছিলেন, শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। অবশ্য এরপর সাড়ে চার মাস পার হলেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।
র‌্যাবের সূত্র জানায়, তদন্তে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আজমেরীর বাবা প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান। আর তার দুই চাচা হলেন বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান।
তদন্তে পাওয়া তথ্যমতে, ত্বকী হত্যায় অংশ নেওয়া বাকি ১০ জন হলেন রাজীব, কালাম শিকদার, মামুন, অপু, কাজল, শিপন, জামশেদ হোসেন, ইউসুফ হোসেন ওরফে লিটন, সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর ও তায়েবউদ্দিন ওরফে জ্যাকি। র‌্যাব ও পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে মাদক মামলায় লিটন কারাগারে আছেন। আর কালাম শিকদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন। র‌্যাবের সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিহত হয়েছেন এবং তাঁর লাশ গুম করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি আজমেরী ওসমান এখন কলকাতায় আছেন। এই হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া একমাত্র আসামি সুলতান শওকত আছেন দুবাইয়ে। বাকি সাতজন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পালিয়ে আছেন বলে র‌্যাব ও পুলিশ জানতে পেরেছে।
অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে প্রথম আলো ছয়জনের পরিবারের সদস্য ও দুজনের ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে কথা বলেছে। এর মধ্যে সাতজনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁদের বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে র‌্যাবের মহাপরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন, মামলার তদন্তে র‌্যাব অনেকটাই এগিয়েছে। কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক, কিছু সম্ভাব্য আসামি দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর তাঁদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।’
তবে পলাতকদের মধ্যে কালাম, শিপন, জামশেদ, লিটন, সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর ও তায়েবউদ্দিন ওরফে জ্যাকি বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে আটক বা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এদের মধ্যে শিপন ও জামশেদকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভ্রমর ও ও জ্যাকি আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোপনে দেশ ত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে ভ্রমর গত মার্চে এবং জ্যাকি গত জুনে জামিন পান। র‌্যাব সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
মামলার প্রধান আসামি আজমেরী গত ১ মে নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। ওই দিন তিনি বাবা নাসিম ওসমানের জানাজায় ও দাফনে অংশ নেন। এরপর আবারও তিনি কলকাতায় পালিয়ে যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন। হত্যার পর কিংবা বাবার মৃত্যুর পর কলকাতা থেকে দেশে ঢুকলেও তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বা র‌্যাব কোনো উদ্যোগই নেয়নি।
র‌্যাবের তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, হত্যায় অভিযুক্ত ইউসুফ হোসেন সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং আজমেরীর ঘনিষ্ঠজন। সুলতান শওকত নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভানেত্রীর ছেলে। অপরাধজগতে আজমেরীর ডান হাত বলে পরিচিত তিনি। অভিযুক্ত তায়েবউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে ওসমান পরিবারের রয়েছে পুরোনো সম্পর্ক। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসেরও অভিযোগ আছে। অভিযুক্ত কালাম শিকদার আজমেরী ওসমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন ও চাঁদাবাজ। আরেক অভিযুক্ত মামুন আজমেরী ওসমানের খালাতো বোনের জামাই। কাজলকে চাঁদাবাজ ও আজমেরীর অন্যতম ঘনিষ্ঠজন বলে বর্ণনা করা হয়েছে নথিতে। তাঁর ভাই স্থানীয় যুবলীগের একজন নেতা। অভিযুক্ত অপু আজমেরীর তথ্যদাতা। রাজীব ও শিপন আজমেরীর বেতনভুক্ত ক্যাডার। অভিযুক্ত জামশেদ আজমেরীর গাড়িচালক।
এই হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও র‌্যাব দাবি করেছে, তারা তাঁর সম্পৃক্ততা পায়নি। অয়নের দুই সহযোগী সালেহ রহমান ওরফে সীমান্ত ও রিফাত বিন ওসমান বিষয়েও র‌্যাব একই কথা বলেছে। এই দুজন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। এর মধ্যে সীমান্ত এখনো কারাগারে আছেন।
মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাবের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের এখন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো খুবই কঠিন হবে। কেননা, মূল আসামিদের কেউই দেশে নেই। বিদেশ থেকে আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রায় অসম্ভব।
মামলার বাদী ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তকারী সংস্থা খুনিদের চিহ্নিত করেছে। অভিযোগপত্র দেওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, হত্যায় ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমান জড়িত থাকায় বিচার পাওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী চাইলেই এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া সম্ভব হবে। নয়তো কোনো দিনই দেওয়া হবে না।’
মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে র‌্যাবের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগপত্র দেওয়ার জন্য র‌্যাবের ওপর উচ্চ আদালত বা অন্য কোনো স্থান থেকে নির্দেশনা এলে অভিযোগপত্র দেওয়া সহজ হবে। তাঁরা অভিযোগপত্র প্রায় প্রস্তুত করে বসে আছেন।
তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, স্পর্শকাতর এই মামলার অভিযোগপত্র শিগগিরই দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ‘হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশে থাকুক আর দেশের বাইরে থাকুক, তাদের বিচার করা হবে।’
২০১৩ সালের ৬ মার্চ ত্বকীকে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসার কাছ থেকে অপহরণ করা হয়। ৮ মার্চ তার লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। উচ্চ আদালত র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

Tuesday, August 5, 2014

সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিন-শাসিত গাজা উপত্যকা থেকে সব সেনাসদস্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বরাতে আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজা উপত্যকার বাইরে মোতায়েন করা সব সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে।
>>গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের সেনাসদস্যরা। আজ মঙ্গলবার ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগেই গাজা থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ছবিটি গতকাল সোমবার তোলা। ছবি: ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েল ও হামাসসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গোষ্ঠী ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মিসরের মধ্যস্থতাকারী কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।
গাজায় গত ৮ জুলাই থেকে ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে নয় হাজারের বেশি। তাদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। এ ছাড়া লাখো ফিলিস্তিনি হয়েছে বাস্তুচ্যুত।
ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল পিটার লেরনার সাংবাদিকদের বলেছেন, আজ ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগেই তাদের সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে।
ইসরায়েলের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গাজায় সর্বশেষ সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল হামাসের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা। তেল আবিবের সে উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।
এর আগেও গাজায় কয়েক দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ঘোষণাই ভেস্তে যায়। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য হামাস ও ইসরায়েল পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে সর্বশেষ গত সোমবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে আলোচনা হয়। এতে হামাসের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের অন্য দলগুলোও যোগ দেয়। সেখানে অনুপস্থিত ছিল ইসরায়েল।
পরে ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, মিসরের প্রস্তাব অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার শর্তহীন যুদ্ধবিরতির খসড়া গ্রহণ করবে ইসরায়েল।
গাজার নিয়ন্ত্রক হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তাঁরাও গ্রহণ করেছেন।
মিসরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মিসর। তারা ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এর আগেও একই ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল মিসর। ওই প্রস্তাব ইসরায়েল গ্রহণ করলেও প্রত্যাখ্যান করে হামাস।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সব পক্ষের প্রতিনিধিরা বিস্তারিত আলোচনা করতে পরে কায়রোতে বসবেন।

Sunday, August 3, 2014

কেড়ে নিয়েছে শিশুর প্রাণ -যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জোরদার

সর্বশেষ দফা যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। তাদের নির্বিচারে গোলাবর্ষণ কেড়ে নিয়েছে আরও ১০৭ জনের প্রাণ। বিধ্বস্ত হয়েছে গাজা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ।

গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্তা হামাসও থেমে নেই। ইসরায়েলের দিকে তারাও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে সেসব হামলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ রকম একটি নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোমে’র জন্য ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছে। আয়রন ডোমের সাহায্যে ইসরায়েল হামাসের ছোড়া রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার যুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ইতিমধ্যে সে দেশেই মজুত মার্কিন সমর উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরার।
গত ৭ জুলাই থেকে চলা ইসরায়েলের এ অভিযানে গাজা উপত্যকায় এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৬৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় নয় হাজার। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। পক্ষান্তরে ইসরায়েল ৬৬ জনকে হারিয়েছে; যাঁদের মধ্যে ৬৩ জনই সেনাসদস্য।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায় আরেক দফা মানবিক যুদ্ধবিরতিতে যায় ইসরায়েল ও হামাস। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক যেতে না-যেতেই গাজার দক্ষিণে রাফা শহরে ফের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামাসের চোরাগোপ্তা হামলায় তাদের দুজন সেনা নিহত হওয়া ছাড়াও এক সেনা অপহৃত হয়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কথিত অপহৃত সেনাটি সংঘর্ষে নিহত হয়ে থাকতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, রাফা শহরে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো শুরু হয়। গতকাল সকালেও তা অব্যাহত ছিল। হামলায় গাজা শহরে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইমতিয়াজ তায়েব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন হামলা চালানো হলো, তা স্পষ্ট নয়। তবে গাজার পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এ ঘটনা এটাই প্রমাণ করে।’
দুই পক্ষকে ওবামার আহ্বান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘নিখোঁজ’ ইসরায়েলি সেনার ‘নিঃশর্ত’ মুক্তি দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, গাজার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় ইসরায়েলকে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে ইসরায়েলের এ অভিযানকে ‘বোকামি’ ও ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের জোট সরকারের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির সাবেক নেতা লর্ড অ্যাশডাউন। তিনি উভয় পক্ষকে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাশডাউন বলেন, ‘বিশ্বের সেরা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা হাতে থাকার পরও সামরিক অভিযান শুরু করা ইসরায়েলের জন্য বোকামি হয়েছে।’ পাশাপাশি সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রক্ষণশীল দলের এমপি পিটার লাফ প্রধানমন্ত্রীকে চলমান গাজা-সংকটের বিষয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলটির আরও কয়েকজন এমপি অনুরূপ আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ত্রবিরতির আহ্বান মিসরের: দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গতকাল বলেছেন, মিসরের অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনাই গাজায় সংঘাত নিরসনের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হতে পারে। তিনি এই অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘এটাই উপযুক্ত সময়। ফিলিস্তিনে রক্তপাত বন্ধে ও গাজার আগুন নেভাতে আমাদের দ্রুত এর সুবিধা নিতে হবে।’

Saturday, July 26, 2014

ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা হলেও বাড়ির পথে নির্বিঘ্ন যাত্রা

বাড়ি যাওয়ার আনন্দ ছিল সবার চোখেমুখে। পথের শঙ্কা হয়তো ছিল মনের ভেতরে, কিন্তু চেহারায় তার ছাপ দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত স্বস্তিদায়কই ছিল গতকালের যাত্রা। বাসের যাত্রীদের যানজটে পড়তে হয়নি। বেশির ভাগ ট্রেনই সময়মতো ছেড়েছে। লঞ্চও ছেড়েছে ঠিকঠাক। তবে টিকিটের জন্য হাহাকার ছিল। বাড়তি ভাড়া আর কালোবাজারি কষ্ট ছিল যথারীতি।

>>ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা হলেও হাসিমুখেই তা মেনে নিয়েছেন ট্রেনের বগিতে জায়গা না পাওয়া এই যাত্রীরা। নিষেধ অমান্য করে ছাদে উঠেছেন তাঁরা। দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকলেও নিরাপদেই বাড়ি ফিরবেন—এমন আশা নিয়েই গতকাল রাজধানী ছেড়েছেন তাঁরা। ছবিটি টঙ্গী রেলস্টেশন থেকে তোলা: প্রথম আলো
এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয়ে গেছে গত বৃহস্পতিবারই। সে অর্থে গতকাল ছিল ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন। তবে জুমাতুল বিদা ও শবে কদরের কারণে গতকাল শুক্রবার অনেক যাত্রী হয়তো যাত্রা করেনি। তাই অস্বাভাবিক জনস্রোত ছিল না। বিপণিবিতানকেন্দ্রিক যান-জটলা বাদ দিলে রাজধানীর রাস্তাঘাট ছিল মোটামুটি ফাঁকা। ভিড় ছিল কেবল গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গে চলা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কর্মী নুরুল ইসলাম বলেন, শবে কদরের রাতের পরের দিন ভিড় বেশি থাকে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার কর্মীরাও শনিবার (আজ) থেকে যাত্রা শুরু করবেন। সে হিসেবে শনিবার মানুষের চাপ বেড়ে যাবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়ার কয়েকটি কারণের কথা জানা গেছে। এগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের বিশেষ দল টার্মিনালগুলোতে সক্রিয় ছিল। তৎপর ছিল হাইওয়ে পুলিশও। আর ছিল ঈদের আগে ও পরে পাঁচ দিন ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রভাব। সড়ক-মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতের কাজ গতকালও চলছিল।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে কল্যাণপুর থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য এসআর পরিবহনের একটি বাসে ওঠার সময় কথা হয় যাত্রী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পথে টুকটাক যানজট বাদ দিলে নির্বিঘ্নেই বগুড়ায় পৌঁছান সাড়ে চারটার দিকে।
কমলাপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট পথের যেসব ট্রেন ছেড়ে গেছে সেগুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও তা উপচে পড়া ছিল না। তবে সকালে উত্তরবঙ্গের তিস্তা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। রাতে উত্তরবঙ্গের দ্রুতযান ও লালমনি এক্সপ্রেসেও যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। এ দুটি ট্রেনে বিমানবন্দর থেকে অনেক যাত্রী ছাদেও চড়ে বসে।
রেলের মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশন থেকে ৫৪টি ট্রেন ছেড়ে যায়। এর মধ্যে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও নোয়াখালীমুখী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি এক ঘণ্টা ২০ মিনিট করে দেরিতে যায়। বাকি সবগুলোই সময়মতো ছেড়েছে।
রাত-দিন মিলিয়ে কমলাপুর থেকে ৬৬টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা। এসব ট্রেনের আসনসংখ্যা আছে প্রায় ৬০ হাজার। ঈদে দাঁড়িয়েও প্রচুর যাত্রী ভ্রমণ করে।
রেলের মহাপরিচালক বলেন, শুক্রবার যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম ছিল। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের চাপ বেড়ে যাবে ঈদের আগের দুই দিন। আজ শনিবার থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও খুলনাসহ কয়েকটি পথে বিশেষ ট্রেন চলানো হবে বলে জানান তিনি।
টিকিট না কাটার বিড়ম্বনা: ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন সেলিম, ওবায়দুল্লাহ, রাকিবসহ একই এলাকার আটজন। যাবেন নওগাঁর সাপাহার। কিন্তু আগে থেকে টিকিট কাটা নেই বলে পড়েন বিড়ম্বনায়।
এই আট রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কল্যাণপুরে এই প্রতিবেদকের কথা হয় গতকাল বেলা তিনটার দিকে, হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে। সবার বয়স ১৮ থেকে ৩০-এর মধ্যে। হাতে ব্যাগ, আছে রাজমিস্ত্রির কাজের কিছু যন্ত্রপাতিও। সেলিম বলেন, পুরো কল্যাণপুর ঘুরে তিন-চারটার বেশি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সবাই একসঙ্গে যাবেন বলে ঠিক করেছেন।
এরই মধ্যে রাকিব বলে ওঠেন, ‘চল, সবাই কমলাপুর স্টেশনে যাই। ট্রেনে বাড়ি যাব।’ কিন্তু এতে অন্যরা সায় দেননি। কারণ, ট্রেনের টিকিট পাওয়া আরও কঠিন। এর মধ্যে রাকিব প্রস্তাব করেন মহাখালী বাস টার্মিনালে যাবেন। সেখান থেকে একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
এই প্রতিবেদক বিকেল পাঁচটার দিকে মহাখালী টার্মিনালে গেলে সেখানেও এই আট যুবকের সঙ্গে দেখা হয়। টিকিট জোগাড় হয়েছে কি না, জানতে চাইলে শুকনো মুখে সেলিম বলেন, ‘না, তবে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’
কিছুক্ষণ আলাপ করার পর সেলিম জানান, রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও তাঁদের আটজনই কিছুটা পড়ালেখা জানা। পরিবারও একেবারে অসচ্ছল নয়। তাই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো মানসিকতা নেই। অপেক্ষা করে হলেও একটু ভালো আসন নিয়ে যেতে চান। কাজের চাপের কারণে আগে এসে টিকিট কাটতে পারেননি।
আগে থেকে টিকিট না কাটা এমন অনেককেই গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালীর বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাউন্টারে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। আবার যানজটের আশঙ্কা নিয়ে অনেকে আগেভাগে বাসা থেকে বের হয়ে স্টেশনে এসে বিড়ম্বনায় পড়েন, বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
বিকেল চারটার দিকে গাবতলী টার্মিনালের উল্টো দিকে হানিফ পরিবহনের নিজস্ব টার্মিনালে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম। যাবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে বেলা একটায় রওনা দিয়ে গাবতলী পৌঁছে যান সাড়ে তিনটায়। কিন্তু তাঁর বাস ছাড়ার কথা সন্ধ্যা সাতটায়। তাই পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। মুহিত বলেন, অন্যবার যানজটের কারণে সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারেননি। এ জন্যই আগেভাগে রওনা দিয়েছিলেন। মাহিদুল অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার জন্য তাঁকে ৮৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই পথে ভাড়া ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী আকন্দ ও পোশাক কারখানার কর্মী রাজিয়া বেগম গাবতলী টার্মিনালে বসা দুপুর থেকে। তাঁরা জানান, দুই ছেলেকে বরগুনার বাসে তুলে দিতে এসেছেন। অগ্রিম টিকিট ছিল না। টার্মিনালে এসে সোনার তরী পরিবহনের রাত সাড়ে আটটার বাসে টিকিট পেয়েছেন। প্রতিটির দাম ৬০০ টাকা। অন্য সময় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় যাওয়া যেত। ইয়াকুব আলী ও রাজিয়া বলেন, তাঁরা সাভারের ফুলবাড়িয়ায় থাকেন। ছেলেদের বাসে তুলে দিয়েই বাসায় ফিরবেন।
কল্যাণপুরের শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে বিকেল সোয়া তিনটায় দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাসে রংপুরের গাড়িতে চড়েন ফরিদুল হক। তিনি বলেন, অনেক শঙ্কা ছিল যানজটের। কিন্তু কাউন্টারে এসে জানতে পারেন সময়মতোই বাস ছেড়ে যাবে। রাত ১০টার দিকে মুঠোফোনে ফরিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ততক্ষণে বাড়িতে পৌঁছে গেছেন। যাত্রাটি আনন্দেরই ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফেরিতে জট: প্রথম আলোর মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ও ভোরে ছেড়ে যাওয়া দক্ষিণবঙ্গের বাসের অনেকগুলোই মাওয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়ে।

>>প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। গতকাল সকাল থেকে ঘরমুখী মানুষের স্রোত দেখা গেছে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে। লঞ্চে করে মানুষের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার এই দৃশ্য পোস্তগোলা ব্রিজের ওপর থেকে তোলা l ছবি: সাজিদ হোসেন
মাওয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে উজানের তীব্র স্রোত ও ঘাট এলাকার উল্টো পানির স্রোতের কারণে কয়েক দিন ধরেই ফেরি চলাচল কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ব্যক্তিগত গাড়িসহ যাত্রীবাহী বাসের চাপ বেড়ে গেলে জট লেগে যায় ঘাটে। অবশ্য বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জট কমতে থাকে। সন্ধ্যার দিকে আবারও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চেও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেক লঞ্চে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেখা যায়। এ পথের লঞ্চগুলোর ধারণক্ষমতা ৮৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৯৮ হলেও ২০০-৩০০ পর্যন্ত যাত্রী বহন করে। সিবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘাটে পিরোজপুরের সোলেমান দেওয়ান বলেন, সরাসরি যাওয়ার বাসের টিকিট না পেয়ে ভেঙে ভেঙে মাওয়ায় এসেছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের মাওয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক সিরাজুল হক বলেন, সোমবার আরও ভিড় বাড়তে পারে। এটা সামাল দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রস্তুতি আছে।
লঞ্চযাত্রীদের ভিড়: দক্ষিণের জেলাগুলোর মানুষ রাতের লঞ্চে ওঠার জন্য গতকাল সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে জড়ো হতে শুরু করে। সেখানে পটুয়াখালীর আমিন হোসেন বলেন, সকাল ১০টায় এসে ডেকের টিকিট পেয়েছেন। তবে বসার ভালো জায়গা হয়নি। ব্যাংক কর্মকর্তা জালাল মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করেন টার্মিনাল এলাকায় হকারদের উৎপাতের বিষয়ে। তিনি বলেন, অন্তত ঈদ মৌসুমে টার্মিনাল থেকে হকার উচ্ছেদ করার দরকার ছিল। নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক সাইফুল হক খান বলেন, যাত্রীদের হয়রানি ও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী এবং মালামাল বহন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন।

Saturday, July 19, 2014

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩০০ পেরিয়েছে

ফিলিস্তিন-শাসিত গাজায় আজ শনিবার ইসরায়েলের নতুন করে শুরু হওয়া বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছে। এই নিয়ে গত ১২ দিনে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩০০ পেরিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষকে রাজি করাতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ ওই অঞ্চলে সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
গাজায় ইসরায়েলের প্রায় একতরফা হামলা আজ দ্বাদশ দিনে গড়িয়েছে। ভোরে খান ইউনিস শহরে একটি মসজিদের বাইরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে সাতজন নিহত হয়। এরপর গাজায় আরও হামলা হয়। এতে চারজন নিহত হয়।
আজকের ঘটনা নিয়ে গত ১২ দিনে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩০৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছে দুই সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি। হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে।
অপর দিকে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত দুজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েকজন।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার বলা হয়েছে, চলমান সহিংসতা বন্ধে উভয় পক্ষকে একটি সমঝোতায় আনার লক্ষ্যে সংস্থাটির মহাসচিব বান কি মুন আজ ওই অঞ্চল সফরে যাচ্ছেন।
নিজেকে রক্ষার ব্যাপারে ইসরায়েলের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গাজা উপত্যকায় গতকাল আবার স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টারের সহায়তা নিয়ে স্থলবাহিনীর ওই অভিযানে গতকালও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ বাঁচাতে গাজার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

এর আগে ১৩ জুলাই দিবাগত রাত থেকে প্রথম গাজায় স্থল অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলি নৌ কমান্ডোরা। এক দিন পরই ওই স্থল হামলা স্থগিত করা হয়েছিল।

হামাস হুঁশিয়ারি করে বলেছে, এ আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। ইসরায়েলি হামলার জবাবে তারা গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট ছুড়ছে।

ইসরায়েল বলছে, গতকাল এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে কোথায় ও কীভাবে নিহত হয়েছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

৮ জুলাই থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ শুরু করে ইসরায়েল।

এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরায়েল। তখন আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা ২০০৭ সালের আগস্টে চলে যায় দুটি দলের নিয়ন্ত্রণে। সেই থেকে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফাতাহ পশ্চিম তীরে ও খালেদ মেশালের নেতৃত্বে হামাস গাজা শাসন করছিল। এই অবস্থায় গত এপ্রিলে দুই দলের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী নতুন করে নির্বাচনের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। কিন্তু হামাস-ফাতাহর চুক্তিকে ভালোভাবে নেয়নি ইসরায়েল। তাদের মতে, হামাস একটি জঙ্গি সংগঠন। হামাস-ফাতাহ জাতীয় ঐক্যের সরকার হলে সেই সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ইসরায়েল।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সত্তা মেনে নিতে রাজি নয় ইসরায়েল।

এপাশে মৃত্যু, ওপাশে বিয়ে

ইসরায়েলের প্রায় একতরফা হামলায় ফিলিস্তিন-শাসিত গাজা উপত্যকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সেখানকার বাতাসে বারুদের গন্ধ, চারদিকে শোকের মাতম। আর ওপাশেই ইসরায়েলের একটি শহরে আনন্দ-ফুর্তির মধ্য দিয়ে বিয়ের একটি অনুষ্ঠান হয়েছে।
এএফপির খবরে জানানো হয়, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সেডেরত শহরের গত ১৬ মে বিয়ের ওই অনুষ্ঠানটি হয়।
শহরটির একটি ধর্মীয় স্কুলের ভেতরে সুরক্ষিত স্থানে ঘটা করে বিয়ে করেন জিভা মোরদেচাই ও হেইম জোহান।

>>গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এই মা তাঁর সন্তান হারিয়েছেন। তাঁর মতো আরও অনেকেই গত ১২ দিনে তাঁদের প্রিয়জন হারিয়েছেন। ছবি: রয়টার্স
বিয়েতে আনন্দ-ফুর্তির কমতি ছিল না। কয়েক শ অতিথির উপস্থিতিতে ঐতিহ্য মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা আজ শনিবার দ্বাদশ দিনে গড়িয়েছে। আজ ভোরে খান ইউনিস শহরে একটি মসজিদের বাইরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে সাতজন নিহত হয়। এরপর গাজায় আরও হামলা হয়। এতে চারজন নিহত হয়। আজকের ঘটনা নিয়ে গত ১২ দিনে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩০৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছে দুই সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি। হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে।
অপর দিকে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত দুজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েকজন।

>>গাজা যখন মৃত্যুপুরী, ইসরায়েলে তখন বসে বিয়ের আসর। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরে গত ১৬ জুলাই বিয়ের একটি অনুষ্ঠান হয়। ছবি: এএফপি
নিজেকে রক্ষার ব্যাপারে ইসরায়েলের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষকে রাজি করাতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ ওই অঞ্চলে সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
গাজা উপত্যকায় গতকাল আবার স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টারের সহায়তা নিয়ে স্থলবাহিনীর ওই অভিযানে গতকালও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ বাঁচাতে গাজার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। এর আগে ১৩ জুলাই দিবাগত রাত থেকে প্রথম গাজায় স্থল অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলি নৌ কমান্ডোরা। এক দিন পরই ওই স্থল হামলা স্থগিত করা হয়েছিল।
৮ জুলাই থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ শুরু করে ইসরায়েল।

গাজায় আবার স্থল অভিযান, আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে মানুষ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গতকাল শুক্রবার আবার স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টারের সহায়তা নিয়ে স্থলবাহিনীর ওই অভিযানে গতকাল নিহত হয়েছে অন্তত ২৪ জন। আহত হয়েছে ২০০ জন। প্রাণ বাঁচাতে গাজার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের।
হামাস হুঁশিয়ারি করে বলেছে, এ আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। ইসরায়েলি হামলার জবাবে তারা গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট ছুড়ছে। ইসরায়েল বলছে, গতকাল এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে কোথায় ও কীভাবে নিহত হয়েছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
এর আগে ১৩ জুলাই দিবাগত রাত থেকে প্রথম গাজায় স্থল অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলি নৌ কমান্ডোরা। তবে এক দিন পরই ওই স্থল হামলা স্থগিত করা হয়েছিল। ৭ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬১। এই সময়ে আহত হয়েছে এক হাজার ৯২০ জন।

>>গাজার একটি হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাঁদছে ইসরায়েলি হামলায় আঘাত পাওয়া এক শিশু। ওই হামলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তাদের বাড়িটি l ছবি: এএফপি
গাজায় স্থল অভিযানের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ‘হামাস ১০ দিন ধরে জল, স্থল ও আকাশপথে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি অবসানের জন্য বারবার প্রস্তাব দিলেও হামাস তা নাকচ করেছে। তাই গাজায় আবারও স্থল অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।’ ওই ঘোষণায় আরও বলা হয়, ইসরায়েলি জনগণকে বেপরোয়া সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা করতে হামাসের ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।
এদিকে গাজায় ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান আরও বাড়াতে প্রস্তুত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী হামাসের সুড়ঙ্গগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু এ কাজ কেবল বিমান হামলা চালিয়ে করা সম্ভব নয়। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি আরও ব্যাপক পরিসরে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সেনাবাহিনী সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর আরি সালিকার বলেন, গাজায় হামাসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্র, বিভিন্ন স্থাপনা ও সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস করতেই স্থল অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গাজার সেজাইয়া এলাকার বাসিন্দা বাসিল আরিয়ার বলেন, সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে হামলা হয়েছে। বাড়িতে পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই। কোনো রকমে জীবন নিয়ে জাতিসংঘ শিবিরে আশ্রয় পেয়েছেন তিনি।
গাজার জরুরি সার্ভিসের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা গতকাল জানান, শুক্রবার সকালে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় নিহত একজনকে উদ্ধার করা হয়। তার আগে দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। খান ইউনিসেই পৃথক হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। ট্যাংকের গোলায় নিহত হন অপর তিনজন। হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
কাতারে নির্বাসিত হামাসের প্রধান খালেদ মিশেল বলেছেন, দখলদার ইসরায়েল জল ও আকাশপথে হামলা চালিয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে না পেরে স্থল অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই অভিযানও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেছেন, এই অভিযান আরও রক্তপাত বৃদ্ধি করবে।
নেতানিয়াহুকে কেরির ফোন: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোন করে গাজা অভিযানে পরোক্ষ ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

Monday, June 23, 2014

বৃষ্টিতে অচল চট্টগ্রাম

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বাসাবাড়ি-দোকান-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান- কারখানা৷ প্রায় যানবাহনহীন জলাবদ্ধ সড়ক৷ টানা তৃতীয় দিনের বৃষ্টিতে গতকাল রোববার এই স্থবির চেহারা ছিল চট্টগ্রাম মহানগরের৷ ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমেছে স্থবিরতা৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ৷
সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা৷ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাও ছিল প্রায় অচল৷ চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে৷

>>টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগের শেষ নেই৷ অনেকে প্রধান সড়কের ওপর জমে থাকা বুকসমান পানির ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যান৷ ছবিটি নগরের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে তোলা l সৌরভ দাশ
সঞ্চরণশীল মেঘমালা ও লঘুচাপের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকালও অব্যাহত ছিল৷ পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ছয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে৷ এই বৃষ্টিতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা৷ কোনো কোনো সড়কে কোমরসমান, আবার কোথাও এর চেয়ে বেশি পানি জমে৷ সড়কগুলোতে রিকশা, রিকশাভ্যান ছাড়া যান্ত্রিক যানবাহন তেমন দেখা যায়নি৷ লোক চলাচলও ছিল কম৷
রেল যোগাযোগ বন্ধ: সকাল থেকে প্রবল পাহাড়ি ঢলে শহর থেকে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দূরে ভাটিয়ারী ও কুমিরার মধ্যবর্তী স্থানে রেলওয়ের নির্মাণাধীন ৩৪ নম্বর সেতুর তলদেশের অস্থায়ী সুরক্ষা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। রেললাইনের কর্মীরা বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এই খবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানান৷ এরপর ওই সেতুতে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সারা দেশের সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ প্রকৌশল ও ঠিকাদাির প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মী সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে সেতুটি মেরামত করলে ওই লাইন দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল শুরু হয়৷ প্রবল স্রোতের কারণে আপ-লাইনের সেতুর মেরামতকাজ সন্ধ্যা পর্যন্ত শুরু করা যায়নি। দুই বছর আগেও সেতুটি পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়েছিল।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৩৪ নম্বর সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেস ও চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস কুমিরা স্টেশনে আটকা পড়ে। ঢাকাগামী কর্ণফুলী ফৌজদারহাট স্টেশনে আটকা পড়ে। মহানগর গোধূলী এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাত্রা করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা প্রভাতী ও জালালাবাদও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
অাটকে পড়া ট্রেনগুলোর যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়৷ চট্টগ্রাম–গামী দুটি ট্রেনের যাত্রীরা কুমিরা স্টেশনে নেমে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরে যান৷
কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাত্রী মনির আহম্মদ বলেন, ‘১১টায় আমরা ফৌজদারহাটে আটকা পড়ি। দ্রুত সময়ে সেতু মেরামতের কথা বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়। অথচ দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, স্রোতের তীব্রতার কারণে ৩৪ নম্বর সেতুর অস্থায়ী সাপোর্ট নড়বড়ে হয়। ঠিকাদাির প্রতিষ্ঠান ও রেলের প্রকৌশলী ও কর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে সেতুটি রেল চলাচলের উপযোগী করেন৷ বিকেলের দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত: বৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট এলাকায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস গতকাল বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। এই যানজট ও মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
সকালে মুষলধারে বৃষ্টির সময় ষোলশহরসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ ছিল।
উড়োজাহাজে যাত্রী কম: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে গতকাল ঢাকাগামী উড়োজাহাজের ৮ থেকে ১০ শতাংশ যাত্রী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেনি। যাত্রী কম নিয়ে চারটি সংস্থার উড়োজাহাজ চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ছাড়ে৷
বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৮ থেকে ১০ শতাংশ যাত্রী কম পরিবহন হয়েছে বলে চারটি বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জলাবদ্ধতা: সকালের প্রবল বৃষ্টিতে প্রায় গলাসমান পানি জমে নগরের ষোলশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, কাপাসগোলা, বাকলিয়ায়। এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে৷ আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। বাদুড়তলা, মোহাম্মদপুর, ডিসি রোড, কাপাসগোলায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। যানবাহন চলাচল কমে গেছে। মাঝেমধ্যে দু-একটি রিকশা চললেও ভাড়া তিন গুণ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায় স্থবিরতা: বেপজা সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে৷ এতে পণ্য ওঠা-নামা ব্যাহত হয়। নগরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সকালে পানি ওঠায় এ দুই এলাকায় স্থবিরতা নেমে আসে। চাক্তাইয়ের আড়তদার মো. জাকারিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিতে তিন-চার দিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে গাড়িতে পণ্য ওঠানো-নামানো যাচ্ছে না।’
বৃষ্টিতে পোলট্রি খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নগর এবং বিভিন্ন উপজেলার বেশ কিছু মুরগির খামারে পানি ঢুকে গেছে। এতে অনেক মুরগির বাচ্চা মারা গেছে। ফতেয়াবাদের শফিউল আজম বলেন, ‘বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আমার খামারে পানি ঢুকে কয়েক শ মুরগি মারা যায়। আমার মতো আরও অনেকের একই অবস্থা হয়েছে।’
পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবল থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হবে। এ সময় চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

Sunday, March 23, 2014

লেমশীখালী, তেলিরকাটা, বাঁকখালী ও দক্ষিণ ধুরুং কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ

সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া উপজেলায় চারটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে প্রশাসন। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনজুর আলম সিকদার ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রমিজ আহমদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলযোগ দেখা দিলে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।