Showing posts with label কুতুবদিয়া স্পেশাল. Show all posts
Showing posts with label কুতুবদিয়া স্পেশাল. Show all posts

Wednesday, December 24, 2025

কুতুবদিয়া দ্বীপ কেন বিখ্যাত by নাজিম আল মামুন

বন্ধুসভাঃ কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে থাকা একটি দ্বীপ কুতুবদিয়া। দ্বীপটির আয়তন একসময় ছিল প্রায় ৮৩ দশমিক ৩২ বর্গমাইল। চারদিকে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, মাঝখানে জনপদ—এই দ্বীপটি বাংলাদেশের প্রকৃতি ও অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বর্ষায় দ্বীপের চারপাশে থই থই পানি দেখে মনে হয়, যেন এটি একটি জলবেষ্টিত হাওরাঞ্চল। আর শীত-গ্রীষ্মে মাঠের পর মাঠজুড়ে দেখা যায় লবণ উৎপাদনের দৃশ্য ও শুঁটকি মাছ শুকানোর কর্মযজ্ঞ।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও নামকরণ
ধারণা করা হয়, কুতুবদিয়া দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের বুকে ১৪শ শতকে জেগে ওঠে এবং ১৫শ শতকে মানুষের পদচারণ শুরু হয়। সেই সময় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুরা দ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করত। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন সুফি-দরবেশ দ্বীপে আগমন করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুতুবউদ্দিন, যিনি এখানকার মানুষদের নিরাপত্তা দিতে ও দ্বীপে ইসলামি চেতনার বিস্তার ঘটান। তাঁর নাম অনুসারেই দ্বীপটির নাম হয় কুতুবদিয়া, যা স্থানীয়ভাবে ‘কুতুব আউলিয়ার দেশ’ নামেও পরিচিত।

বাতিঘরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
কুতুবদিয়া সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিল তার ঐতিহাসিক বাতিঘরের জন্য। এটি নির্মিত হয় ১৮৪৬ সালে, ব্রিটিশ স্থপতি নিয়ার বার্মিংহামের তত্ত্বাবধানে। বাতিঘরটি ছিল আটতলাবিশিষ্ট, উচ্চতা প্রায় ১২০ ফুট। এতে কাচখচিত জানালা, চারদিকে রেলিং এবং শীর্ষ কক্ষে শক্তিশালী আলো ছিল, যা প্রায় ১৯ মাইল দূর থেকে দেখা যেত। এটি ছিল তৎকালীন নাবিকদের জন্য দিকনির্দেশক একমাত্র ভরসা।

১৯৫৪ সালে শঙ্খ নদের ভাঙনে বাতিঘরটি ধ্বংস হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৫ সালে একটি নতুন বাতিঘর নির্মিত হয়, যা আবার ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যায়। বর্তমান বাতিঘরটি আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হলেও আগের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও শৈল্পিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারেনি।

কুতুবদিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব
এই দ্বীপটি বাংলাদেশের লবণ উৎপাদনের প্রধান অঞ্চলগুলোর একটি। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লবণ এখান থেকে উৎপাদিত ও সরবরাহ হয়। পাশাপাশি কুতুবদিয়া বিখ্যাত এর বাণিজ্যিক শুঁটকি মাছ উৎপাদন ও আড়তের জন্য।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয় এখানেই, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

পরিবেশগত সংকট ও ভবিষ্যৎ
প্রতিবছর বর্ষায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের কারণে কুতুবদিয়া দ্বীপের আয়তন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। অনেক এলাকা ইতিমধ্যে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়েছে। তবে এখনো এই দ্বীপ তার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক সংযোগ বহন করে চলেছে।

সরকারের উদ্যোগে কিছু প্রতিরক্ষা বাঁধ ও প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও দ্বীপটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত পরিকল্পনা এবং পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়ন।

পর্যটনের সম্ভাবনা
সুন্দর সমুদ্রতীর, ঐতিহাসিক বাতিঘরের গল্প, সুফি ঐতিহ্য, শুঁটকিপল্লি আর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প—সব মিলিয়ে কুতুবদিয়া একটি অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন সংস্থার সহযোগিতায় দ্বীপটি হয়ে উঠতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

কুতুবদিয়া শুধু একটি দ্বীপ নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি জীবনযুদ্ধ, এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় লড়াইয়ের এক জীবন্ত প্রতীক। যথাযথ পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন–কৌশলের মাধ্যমে এই দ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব—তার অতীত ঐতিহ্য নিয়েই ভবিষ্যতের পথে।

সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ভূ-পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, বিবিসি বাংলা, কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের লোকাল রেকর্ড।

নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ। এখানকার প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে উড়ে বেড়ায় গাঙচিল
নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ। এখানকার প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে উড়ে বেড়ায় গাঙচিল। ছবি: জুয়েল শীল

কুতুবদিয়া দ্বীপের খোঁজে by আফরিদা ইফরাত

ইত্তেফাকঃ আজ থেকে ৬০০ বছর আগে কক্সবাজার থেকে ৮৬ কিলোমিটার দূরে মহেশখালী উপজেলার পাশে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে মাথা উঁচু করে একটি দ্বীপ। রহস্যময় এই দ্বীপে মানুষ পা রাখে পনেরো শতকে। হযরত কুতুবউদ্দীন নামে এক আধ্যাত্মিক সাধক কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে এখানেই আশ্রয় নেন। তখনকার সময় আরাকান অঞ্চলে মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছেন নানাভাবে। তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় কুতুবউদ্দিনের নাম জানতে পারেন। ভাগ্যান্বেষণেই তারা এই নতুন দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। কুতুবউদ্দিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই দ্বীপের নাম হয় ‘কুতুবউদ্দিনের দিয়া’। পরবর্তী সময়ে মানুষের মুখে ছড়াতে ছড়াতে তা হয়ে যায়, কুতুবদিয়া।

ভ্রমণ কিংবা পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও কুতুবদিয়া দ্বীপের বেশ সুনাম আছে। কক্সবাজার জেলার অধীনস্থ একটি উপজেলা হিসেবে পরিচিত কুতুবদিয়া দিয়েই কুতুবদিয়া চ্যানেলে প্রবেশ করা যায়। দেশে অনেকেই কুতুবদিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। যাত্রাটা কঠিন নয়। পেকুয়া মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেল হয়ে সহজেই কুতুবদিয়া দ্বীপে পৌঁছানো যায়। 

কিন্তু দীর্ঘ যাত্রাপথ শেষে কুতুবদিয়ায় গেলে কী দেখবেন? কী আছে সেখানে? সে সব জানাতেই তো এলাম। 

দেশের যেকোনো প্রান্তেই থাকুন না কেন, আপনায় চট্টগ্রাম শহরেই আসতে হবে। এখানকার চান্দগাঁও থানা কিংবা নতুন ব্রিজ থেকে আনোয়ারা, বাঁশখালী দিয়ে পেকুয়া মগনামা বাজারে যেতে পারবেন। এছাড়া চকোরিয়া হয়েও যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ভাড়াটা এখন বেশিই পড়বে। ডিজেলের দাম বাড়ায় ভাড়াটা সম্ভবত বিরক্তিকর পর্যায়েই ঠেকেছে। যাত্রাটা বেশ লম্বা ও ক্লান্তিকর। নিরাপত্তার স্বার্থেই ভোর ভোর থাকতে রওয়ানা দিন।  

মগনামা বাজারে নেমে ব্যস্ত হওয়ার কিছুই নেই। এখানেই আছে ছোটখাটো পর্যটন কেন্দ্র। সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখতেই বহু মানুষের ভিড় হয় এখানে। চারদিকে জেটিঘাটে ব্যস্ততার নোনা ঘ্রাণ। ছোট ছোট নৌকা হেলতে দুলতে মাছ ধরতে এগিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রে। মগনামা থেকে যেহেতু গন্তব্য কুতুবদিয়া তাই এখানে বেশিক্ষণ সময় নষ্ট না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মগনামা জেটিঘাট থেকে কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ স্টিমারঘাটেও যেতে পারেন অথবা দরবারঘাটে যেতে পারেন। টাকা কম থাকলে চড়ে বসুন ডেনিশ বোটে। আর দ্রুত যেতে হলে স্পিডবোট তো আছেই।   

কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল সারাবছরই উত্তাল থাকে। তবে শীতে কিছুটা শান্ত সমাহিত থাকে। আসছে শীতে বরং কুতুবদিয়ার পরিকল্পনা করে নিলে মন্দ হবে না। সমুদ্রের ঢেউ তখন হালকা তালে ডেনিশ বোটে দোল দেবে। হাড় কাঁপানো হিম শীতল হাওয়া আপনায় নেবে কতদূরে! কিছুক্ষণেই দেখতে পাবেন কুতুবদিয়ার সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনভূমি। আধ ঘণ্টার সমুদ্রে ভাসার চ্যালেঞ্জ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং তো অবশ্যই। পৌঁছবেন বড়ঘোপ স্টিমারঘাট।

বড়ঘোপ স্টিমারঘাট সারাদিনই ব্যস্ত। মগনামা ঘাটে যাবেন সেই বোটের জন্যেও ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হবে। দ্বীপের বাসিন্দারা সারাদিন বিভিন্ন পণ্যবাহী নৌকায় যাতায়াত করেন। তবে যদি নৌকার যাত্রা ভালো না লাগে তাহলে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোতে যেতে পারেন।

কুতুবদিয়ায় গেলে প্রথমেই যা অবাক করবে তা হলো এখানকার রাস্তাঘাট একদম পাকা। যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ ভালো। এদিকে তেমন ভারী যানবাহন চলাচল করে না। নেই মানুষের হৈ হট্টগোল। পাবেন না গাড়ির কালো ধোঁয়ায় বিদঘুটে গন্ধ। চারপাশে অবশ্য অট্টালিকার পাহাড় না থাকায় জায়গাটাও খোলামেলা ও ন্যাড়া দেখায়। শীতে গেলে হিমশীতল বাতাস। নোনা ঘ্রাণে ইতিউতি তাকিয়েই দেখবেন অসংখ্য লবণের মাঠ সারি সারি। সেই লবণের মাঠে সাদার ওপর সোনা রঙের আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। 

লবণের মাঠের পাশেও ফসলের ক্ষেত, শাকসবজি, ফল ফলাদির বিশাল আবাদি জমি। সেখানেও নারী-পুরুষ-শিশুর ব্যস্ততা। পর্যটক কিংবা শহুরে মানুষ নতুন কিছু না। তবু তারা মাথা উঁচিয়ে আপনায় হাসিমুখে দেখবে। লোকজনের আন্তরিকতা এখানে বেশ। শহরের দমবন্ধ অবস্থায় যেখানে কথা বলার লোকের অভাব, সেখানে সুস্থ নিঃশ্বাসের সন্ধানে কুতুবদিয়ার বিকল্প মেলা ভার।

কুতুবদিয়ায় ঘুরতে হলে আপনাকে নোঙর করতে হবে বড়ঘোপ বাজারে। এমনিতে পর্যটন এলাকা হিসেবে এই জায়গাটি বরাবরই উপেক্ষিত। উন্নত সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা তাই সহজেই লক্ষণীয়। এখানে ভালো রেস্টুরেন্ট নেই। তবে বড়ঘোপ বাজারেই কিছু ভালো খাবার হোটেল পাবেন। স্থানীয় মাছ, মাংস, শুটকি দিয়ে রান্না খাবার যথেষ্ট তৃপ্তি নিয়েই খেতে পারবেন।

আবাসন নিয়েও কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। সম্প্রতি বেশ কিছু মানসম্মত আবাসিক হোটেল এখানে গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ হোটেলই সমুদ্রের কাছেই। হোটেলে বসেই দিনরাত সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। কুতুবদিয়া দ্বীপটি ছোট। একদিনেই পুরোটা ঘুরে শেষ করে ফেলা যায়। সন্ধ্যে হলে ক্যাম্প করতে পারেন। অনেকেই এখানে ক্যাম্পিং করতে আসেন। বড়ঘোপ বাজার থেকে সোজা পশ্চিমের দিকে গেলেই কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকত।

১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতটেও ব্যস্ত থাকতে পারবেন। দ্বীপের বাইরে সমুদ্র সৈকতের পরিচিত এখনো তেমন ছড়িয়ে পড়েনি। তাই পর্যটকরা অন্তত এখানে আসেন না। স্থানীয় মানুষরাই এখানে নিত্যদিনের কাজ শেষ করেন। এর ভালো দিক হলো আশপাশে তেমন কৃত্রিম ময়লা কিংবা গিজগিজে হাল নেই। সমুদ্রতীর দিয়ে দক্ষিণে গেলে দৃষ্টিনন্দন ঝাউবন, মাছ ধরার সারি সারি নৌকা দেখতে পাবেন। এছাড়াও গাংচিলদের দিগ্বিদিক উড়ে বেড়ানো আবার বালুর ওপর নেমে থমকে চারপাশে তাকানোর দৃশ্যটিও মনোমুগ্ধকর। কেউ ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন মনোযোগ দিয়ে। জেলেরা ট্রলার নিয়ে ব্যস্ত। বালিতেই শিশুরা ফুটবল খেলছে। ফুটবলটির অবস্থা করুণ। বাতাসও কিছুটা কম আছে। তাও শিশুরা কী আনন্দে লাফ দিচ্ছে! সৈকতের পাশেই রয়েছে শুটকিপল্লী।

কুতুবদিয়ার বৈচিত্র্য এখানেই শেষ নয়। এখানকার বাতাসের গড় গতি ৩.৪৩ মিটার/সেকেন্ড। মে থেকে আগস্ট মাসে উপকূলীয় বাতাসের গতি বেশি থাকে। এই গতি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে একটি বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে সৈকতের দক্ষিণ প্রান্তে আলী আকবর ডেইল এলাকায় ৫০টি উইন্ডমিল স্থাপিত হলেও অধিকাংশ এখন বিকল। অবশ্য ২০১৫ তে আরও ৫০টি হাইব্রিড উইন্ডমিল স্থাপন করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও কুতুবদিয়ার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সম্পূর্ণটি মেটাতে পারে না এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই সন্ধ্যার পর কুতুবদিয়া ঢেকে যায় অন্ধকারে। হোটেলেই ফিরে যেতে হবে।

কিন্তু সাহসী হয়ে থাকলে আলী আকবর ডেইল জেটিঘাটে যেতে পারেন। সাগরে যে মাছ ধরা হয়, তার আশ্রয়কেন্দ্র এটি। এই ঘাট রাতে ভীষণ সুন্দর হয়ে ওঠে। চারপাশে অন্ধকারের রাজত্ব। ভাগ্য ভালো হলে মাথার ওপর পাবেন এক গৃহত্যাগী জোছনা। সারি সারি ট্রলারে মিটিমিটি আলো বিক্ষিপ্তভাবে থাকায় যেন তারার সমুদ্র এখানে। জাহাজের আওয়াজ আর এই আলোর পরিবেশের অনুভূতি পেতে হলে সশরীরেই আসতে হবে আপনাকে।

প্রথমদিনের ভ্রমণ শেষে ঘুরে আসুন ধুরুং এলাকার কুতুব দরবার শরীফে। ফেব্রুয়ারিতে গেলে এখানকার বড় ওরস পেয়ে যেতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা কুতুবদিয়া ভ্রমণকে আরও পূর্ণ করবে।

কুতুবদিয়া ভ্রমণ সম্পূর্ণ করতে যেতে হবে এখানকার বিখ্যাত বাতিঘর দেখতে। কুতুবদিয়ার একদম উত্তরেই দক্ষিণ ধুরুং এলাকায় এই বাতিঘর। ইস্পাতের কৌণিক দণ্ড ব্যবহারে ১৯৬৫ সালে বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়। এখানে তারও আগে থেকেই বাতিঘর নির্মাণ করা হয়েছি। ব্রিটিশ সরকারও আগে এখানে বাতিঘর বানিয়েছিলেন। অবশ্য আপনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। বাহির থেকেই এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে। ভাটার সময়ে উপস্থিত থাকলে পুরোনো বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষেরও দেখা মিলবে। তবে ফিরতে হলে সন্ধ্যার আগে আগেই ড্যানিশ বোট ধরবেন। সন্ধ্যার পর ফেরার আর উপায় নেই। আবার সকালের অপেক্ষা।

কুতুবদিয়া দ্বীপ আপনার শান্ত ভ্রমণের আদর্শ স্থান। আশপাশের যেকোনো দ্বীপ থেকে এই জায়গাটি কিছুটা উঁচুতে হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কিছুটা কম। দ্বীপাঞ্চলের বৈচিত্র্য উপভোগ করতে হলে, কুতুবদিয়ার বিকল্প পাওয়া মুশকিল।

Sunday, January 1, 2017

কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত “উন্নয়ন মেলা ২০১৭”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত “উন্নয়ন মেলা ২০১৭” এর ১ম দিনে স্টল পরিদর্শন করেন জনাব এ.টি.এম নূরুল বশর চৌধুরী, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ কুতুবদিয়া, জনাব সালেহীন তানভীর গাজী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জনাব মো: আলমগীর কবির, উপজেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাবা ছৈয়দা মেহেরুন্নেছা।

Wednesday, October 14, 2015

দূরে বাতিঘর... by মোহাম্মদ বদরুজ্জামান

কুতুবদিয়ার বাতিঘর
এখানে শরতের সকালে যেন অন্য রকম এক আয়োজন চলছে। নদীর বুকে ঠিকরে পড়ছে কোমল আলো। যাত্রীরা পড়িমরি করে উঠছে সমুদ্রগামী ট্রলারে। খুব ভোরে চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি ঘাটে পৌঁছালাম তড়িঘড়ি। চলেছি সমুদ্রভ্রমণে। ট্রলারের লোকজনের হাঁকডাক দেখে বুঝলাম, ঘাট চিনতে ভুল হয়নি আমাদের। হাঁসফাঁস করে আমরাও উঠলাম সেই ট্রলারের ছাদে।
কর্ণফুলীর বুকে নোঙর করা অসংখ্য জাহাজ, ট্রলার আর কার্গো দৃষ্টি কেড়ে নিল আমাদের। বাস্তবে এত দৈত্যাকৃতির নৌযান তো দেখিনি আগে। কর্ণফুলীর মোহনায় যেতে না যেতেই কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোট এসে থামিয়ে দিল আমাদের ট্রলার। কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা ট্রলারের মাঝিমাল্লাদের শাসিয়ে দিলেন এবং চোখ রাঙিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা অন্যায়। যা হোক, ক্রমেই বঙ্গোপসাগরের অসীম জলরাশির মধ্যে ঢুকে পড়ল আমাদের ট্রলার। আর বাতিঘরের কুতুবদিয়া আমার মধ্যে কৌতূহলও বাড়িয়ে দিল সেই সঙ্গে।
কুতুবদিয়ার বাতিঘর সেই প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়েই আমাকে রোমাঞ্চিত করেছিল। নাবিকেরা রাতের বেলায় বাতি দেখে জাহাজের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে নাবিকেরা কুতুবদিয়ার ঘূর্ণমান বাতি দেখতে পান। ব্যাপারটা কী দারুণ! কিন্তু পাহাড়-পর্বত ভ্রমণে ঝোঁক বেশি থাকায় কুতুবদিয়ার কথা হয়তো ভুলেই বসেছিলাম। এবার ঈদের পর বেড়াতে যাওয়ার বায়না ধরে বসলেন বন্ধু এহসান। সমুদ্রপথে কুতুবদিয়া ভ্রমণের কথা শুনে এহসান নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে ছাড়লেন না।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করে উঠল। ট্রলারে খাবারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পড়লাম বিপদে। উপকূল ধরে চলছে আমাদের নৌযান। কোথাও বড় বড় ঢেউয়ের সঙ্গে চলে উথাল-পাতাল খেলা। একেক করে কেটে গেল কয়েক ঘণ্টা। এদিকে প্রচণ্ড তাপে অস্থির হয়ে উঠল যাত্রীরা। আনোয়ারা-বাঁশখালীর উপকূল ছেড়ে গভীরে চলে গেলাম ক্রমে। অপেক্ষার যেন শেষ নেই, কুতুবদিয়ারও কূলকিনারা নেই। অবশেষে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বঙ্গোপসাগরের মাঝে যেন জেগে উঠল অচেনা এক দ্বীপ। বেলা একটার সময় নামলাম দরবার ঘাটে। তারপর জিপে চেপে বড় ঘোপ বাজার।
উত্তর-দক্ষিণে লম্বা কুতুবদিয়া দ্বীপের যোগাযোগব্যবস্থা একেবারে খারাপ না। তবে নিম্নাঞ্চল ও উপকূলের অনেক জায়গায় কাঠ ও বাঁশের সেতু দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের চাঁদের গাড়ির আদলে চলাচলের জন্য এখানে আছে ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি (জিপ নামেই বেশি পরিচিত)। টেম্পো আর রিকশাও আছে পর্যাপ্ত। হাতিয়া দ্বীপেও দেখেছিলাম এ রকম যাত্রীবাহী জিপ। মহেশখালী আর সোনাদিয়ার মতো এ দ্বীপেও চলার পথে চোখে পড়ল বড় বড় লবণখেত। নাবিকদের পথ দেখানোর সুবিধার্থে ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার কুতুবদিয়ায় নির্মাণ করে বাতিঘরটি। দ্বীপটির মধ্যাঞ্চলীয় দক্ষিণ ধুরমং এলাকার পশ্চিম উপকূলে এটি অবস্থিত। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এ বাতিঘর ১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হারিয়ে যায় সমুদ্রগর্ভে। ষাটের দশকেই পুনরায় আরেকটি বাতিঘর নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধের ভেতরে। তবে ভাটার সময় পুরোনো বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ এখনো দেখা যায়।
হোটেলের বারান্দা থেকে সাগরের অসীম জলরাশি চোখে লাগাল ভেলকি। কুতুবদিয়া দ্বীপের পশ্চিম কূলজুড়ে সমুদ্রতট। তবে মূল সৈকত বড় ঘোপ আর ধুরুং এলাকাজুড়ে। কোথাও কোথাও ঝাউবন ঘেরা সৌন্দর্যের হাতছানি। সুন্দর তটে ফুটবল আর ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠেন এখানকার তরুণেরা। সূর্যাস্তের আগেই নেমে পড়লাম সৈকতে। বালুহীন সমুদ্রতটে পা ছোঁয়াতেই ভিন্ন রকম এক অনুভূতি। সূর্যাস্তের পর গোধূলির আলো স্মিত হওয়ার আগেই বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের আলো ছড়িয়ে পড়ল পানিতে। সে এক অসাধারণ দৃশ্য!
রাতের সৈকত অন্য রকম রূপ নিয়ে হাজির। পূর্ণিমার জোছনাস্নাত তটে বসে জোয়ারের গর্জন রোমাঞ্চিত করল আমাদের। সাগরের বুকে নোঙর করা আলোকময় জাহাজে ভাসতে ইচ্ছে করল। দক্ষিণ ধুরুংয়ের বাতিঘরের আলো উদ্দীপনা জাগাল বেশ। যার আলোয় নাবিকদের দুচোখ চিকচিক করে ওঠে।
সকালে আবার গেলাম সৈকতে। একেবারে নির্জন ও শান্ত-কোমল সাগর পাড়। ভেজা তটে হাঁটলাম ঘণ্টা খানেক। লাল কাঁকড়ার খেলা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না। সোনাদিয়া সৈকতের মতো এখানেও প্রচুর লাল কাঁকড়ার বিচরণ। সোনাদিয়ায় দেখা যায় এদের দলবদ্ধভাবে চলতে। এখানে বিচ্ছিন্নভাবে।
বড় ঘোপ স্টিমার ঘাটে মানুষের ভিড়। ফেরার অপেক্ষায় আছি, এমন সময় গোঁ গোঁ শব্দ করে একটি স্পিডবোট ঘাটে এসে ভিড়ল। দ্রুতগামী সে যানে চেপে পাড়ি দিলাম কুতুবদিয়া চ্যানেল। মগনামা ঘাটে এসে মনে হলো, ওপারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি কীভাবে যেন গড়ে দিল মনের মধ্যে এক সেতু।
সূর্য নেমে যায় যেন সমুদ্রে। ছবি: সোলাইমান হোসেন
যেভাবে যাবেন
কয়েকটি রুটে যাওয়া যায় দ্বীপ কুতুবদিয়ায়। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামে এসে ফিরিঙ্গি ঘাটে কুতুবদিয়াগামী ট্রলার ধরতে হবে। সকাল ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে দুটি ট্রলার ছেড়ে যায় কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে। কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ স্টিমার ঘাটে নেমে উপজেলা সদরে যেতে পারবেন রিকশায় চেপে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট পর্যন্ত এস আলম পরিবহনের মিনি বাস যাতায়াত করে। বহদ্দারহাট কিংবা শাহ আমানত সেতুর কাছ থেকে উঠতে পারবেন বাসে। মগনামা ঘাট থেকে স্পিডবোট কিংবা ট্রলারে চেপে পার হবেন কুতুবদিয়া চ্যানেল।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসে চেপে নামতে পারেন চকরিয়া বাজারে। চকরিয়া থেকে মগনামা ঘাট যাওয়া যায় জিপ কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। এটাই অপেক্ষাকৃত সহজ পথ। তবে যাদের পানিভীতি কম, ট্রলারে সমুদ্র ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
প্রয়োজনীয় তথ্য
কুতুবদিয়া দ্বীপ ভ্রমণের জন্য শীতকাল বেছে নিন। কারণ, এ দ্বীপে শীতকালে লবণ চাষ হয়। শুঁটকির প্রক্রিয়াকরণও চলে শীত মৌসুমে। আর মাছও পাওয়া যায় পর্যাপ্ত। এ ছাড়া তাপ কম থাকায় সমুদ্রপথে ট্রলার ভ্রমণটাও হবে আরামদায়ক। ট্রলারে যাওয়ার সময় সকালের নাশতা সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। কুতুবদিয়ার সৈকত পরীক্ষিত না। তাই জোয়ার ছাড়া অন্য সময়ে পানিতে নামা নিরাপদ নয়। বড় ঘোপ বাজারে থাকা ও খাওয়ার হোটেল আছে।
দ্বীপ কুতুবদিয়া

Tuesday, April 28, 2015

ঘুরে আসুন কুতুবদিয়া বাতিঘর

বাতিঘরের সৌন্দর্য্য এবং কিছু জানা অজানা তথ্য। ঘর তো ঘরই তা আবার বাতিঘর হয় কেমন করে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চলুন ঘুরে আসি কুতুবদিয়া!
প্রাচীনকাল থেকে চট্টগ্রাম ছিল একটি সমুদ্রবন্দর। খ্রিষ্টীয় নয় শতক থেকে আরব বণিকগন চট্টগ্রামের সঙ্গে বানিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন করে। বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর (চৌদ্দ শতক) থেকে চট্টগ্রাম বন্দর একটি ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বন্দরে পরিণত হয়। সেকালে সামুদ্রিক জাহাজে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ছিল না, অভিজ্ঞ নাবিকরা প্রাচীন প্রচলিত পদ্ধতিতে সাগর-মহাসাগর পাড়ি দিতেন। ব্রিটিশ শাসনামলে বন্দরের শ্রীবৃদ্ধি ঘটলেও সমুদ্রে জাহাজ পরিচালনায় কোন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ব্যবস্থা ছিল না।
১৮২২ সালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলভাগ বিধ্বস্ত করে দেয়। প্লাবনের ফলে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সমুদ্রবক্ষে পলি জমে সৃষ্টি হয় অনেক চর। বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন নতুন চর জেগে ওঠার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে দেশী-বিদেশি জাহাজ চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচলের স্বার্থে ব্রিটিশ সরকার বাতিঘর স্থাপনের জন্য জরিপ কাজ পরিচালনা করে এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণে তিনদিকে বঙ্গোপসাগর পরিবেষ্টিত কুতুবদিয়ায় একটি সুউচ্চ বাতিঘর স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বঙ্গোপসাগরে চলাচলরত জাহাজকে সংকেত দেখানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকায় বিভিন্ন সময় সেন্ট মার্টিনস, কক্সবাজার, নরম্যান্স পয়েন্ট, পতেঙ্গা ও কুতুবদিয়ায় বাতিঘর স্থাপন করা হয়। এসব বাতিঘরের বিচ্ছুরিত আলো ২৫-৩৫ কি.মি গভীর সমুদ্র থেকে দেখা যায়। সবচেয়ে প্রাচীন বাতিঘর স্থাপিত হয় কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায়।
কুতুবদিয়া বাতিঘরের নির্মাণকাল ১৮৪৬ সাল এবং ঘূর্ণায়মান বাতি স্থাপিত হয় ১৮৯২ সালে।
পাথরের ভিতের উপর নির্মিত কুতুবদিয়া বাতিঘরটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৪০ মিটার। এর ছয়টি কামরায় পাটাতন ও সিঁড়ি ছিল কাঠের। সর্বোচ্চ কামরায় আট ফিতার ল্যাম্প বসানো হয়েছিল। ল্যাম্পের জ্বালানি ছিল নারিকেল তেল। বাতিঘরের নিচতলা ছিল মাটির নিচে এবং এর দেয়াল ছিল খুবই পুরু।
এ বাতিঘর নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছিল ৪,৪২৮ টাকা।
আট তলা এ বাতিঘরের প্রতি তলার উচ্চতা ছিল প্রায় ৫ মিটার। প্রতি কক্ষে ছিল কাঁচের জানালা। সর্বোচ্চ কক্ষের জ্বালানো হত বাতি। একটি কাঠের ফ্রেমে রাখা বাতিটি প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগে জ্বালানো হত। ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন হেয়ারের তত্ত্বাবধানে ও ইঞ্জিনিয়ার জে এইচ টুগুডের নির্দেশনায় কুতুবদিয়ার বাতিঘরটি নির্মিত হয়।
দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়নের আলী ফকির ভেইলে পশ্চিম সমুদ্র উপকূলে নির্মিত এ বাতিঘরটি ১৮৯৭ সালের প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সমগ্র লাইট হাউজ নড়বড়ে হয়ে যায়। লাইট হাউজের রক্ষকের বাসভবন বিধ্বস্ত হয়। ভবনের কাঠের মেঝে বাতাসের তীব্রতায় প্রায় ৭০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে।
ভবনের টিনের তৈরি ছাদ আশপাশের মাঠে গিয়ে আছড়ে পড়ে। স্তূপাকৃত বড় বড় পাথর পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। ১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে স্থায়ী ভাঙ্গনে বিলীন হবার পূর্ব পর্যন্ত এ বাতিঘর বিরামহীন আলো দেখিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিকদের প্রায় ৩৫ কি.মি দূর থেকে দিকনির্দেশনা দিত।
পুরোনো সেই বাতিঘর সমুদ্রে বিলীন হয়েছে বহু আগে। তবে এখনও ভাটার সময় সেই বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ কখনও কখনও জেগে উঠতে দেখা যায়।বাতিঘর এলাকায় পরে যে বাতিঘর তৈরী করা হয়েছিল সেটিই এখন নাবিকদের পথ দেখায়।বড়ঘোপ বাজার থেকে সমুদ্র সৈকত ধরে উত্তর দিকে কিছু দুরে গেলেই বর্তমান বাতিঘরের অবস্থান।
কক্সবাজারের এই বাতিঘর পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় একটি স্থান। তাই প্রতিদিনই এখানে পর্যটকদের ভীর লেগেই থাকে।
কীভাবে যাবেন
কুতুদিয়া যেতে হবে কক্সবাজারের বাসে। ঢাকা থেকে সরসরি কক্সবাজার যায় সোহাগ পরিবহন, টি আর ট্রাভেলস, গ্রীন লাইন পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সেন্টমার্টিন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহনের এসি বাস। ভাড়া ১৭০০ থেকে ২৫০০ টাকা।
এছাড়া এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী, ইউনিক, ঈগল ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাসে ভাড়া সাড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।
এসব বাসে চড়ে নামতে হবে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের পথে যাত্রা বিরতি স্থল ইনানী রিসোর্টের এক কিলোমিটার সামনে বড়ইতলি মোড়ে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত বেবিটেক্সিতে যেতে হবে মাগনামা ঘাট। জনপ্রতি ভাড়া ৩৫ টাকা। রিজার্ভ নিলে ২০০ টাকা। মাগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেল পার
হতে হবে ইঞ্জিন নৌকা অথবা স্পিড বোটে। ইঞ্জিন নৌকায় সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ মিনিট, ভাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা। আর স্পিডবোটে লাগে ১০ মিনিট, ভাড়া ৬০ টাকা। চ্যানেল পার হলে কুতুবদিয়া।
বড়ঘোপ বাজার রিকশায় যেতে লাগবে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামের তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে ও কক্সবাজার বাসস্টান্ড থেকে সরাসরি এস আলমের বাস যায় মাগনামা ঘাটে। ভাড়া চট্টগ্রাম থেকে ১৬০ টাকা, কক্সবাজার থেকে ৯০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
কুতুবদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য মানসম্মত একমাত্র আবাসন ব্যবস্থা হল হোটেল সমুদ্র বিলাস। সমুদ্র লাগোয়া এই হোটেলে বসে উপভোগ করা যায় সমুদ্রের সৌন্দর্য। হোটেলের দুই জনের নন এসি কক্ষ ভাড়া ৮০০ টাকা তিন জনের, ১০০০ টাকা এবং চার জনের কক্ষ ভাড়া ১২০০ টাকা।
যোগাযোগ: হোটেল সমুদ্র বিলাস, বড়ঘোপ বাজার, কুতুবদিয়া। মোবাইল- ০১৮১৯৬৪৭৩৫৫, ০১৭২২০৮৬৮৪৭।
প্রয়োজনীয় তথ্য
কুতুবদিয়া দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। জেনারেটর ও সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে এখানকার বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে। সৈকতে জোয়ার ভাটা চিহ্নিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই নিজ দায়িত্বে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে সমুদ্র স্নানে নামতে। ভাটার সময় সমুদ্রে নামা বিপজ্জনক।

Monday, August 18, 2014

কুতুবদিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থবাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ মন্ত্রী

১৭-আগষ্ট উত্তর ধূরুংয়ের কাইছার পাড়া, পশ্চিম-পূর্বচরধূরুং ও আকবরবলীর পাড়া ক্ষতিগ্রস্থবাঁধ এলাকা পরিদর্শনে পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় হাজার-হাজার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে তাদের চরম দূর্গতির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রীকে। মন্ত্রীর সাথে প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, চকরিয়া-পেকুয়ার এমপি মুহম্মদ ইলিয়াছ, বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব কুতুবদিয়ার কৃতি সন্তান খোরশেদ আলম চৌধূরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহম্মদ জাফর আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল বশর চৌধূরী, ইউএনও মমিনুর রশিদ, আ’লীগ সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা, পাউবো’র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল হক, বিশ্ব ব্যাঙ্কের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান, মুজিবুর রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ, আজমগীর মাতবর, আলাউদ্দিন আল-আজাদ, সিরাজদৌল্লাহ, বিশিষ্ট রাজনীতিক আ.ন.ম.শহীদ উদ্দিন ছোটন, আ’লীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মাতবর, আ’লীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম চৌধূরী মুকুল, যুবীগ সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন ইকো, ্কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাছান কুতুবী, উপজেলা জাপা নেতা জাফর আলম, হাজী আবদুল মোনাফসহ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে কুতুবদিয়া রক্ষা করা হবে -ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী by হাছান কুতুবী


পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন অবিলম্বে সিসিব্লক’র মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নির্মাণাধীন কাজ যথাসময়ে শেষ না করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য তদারককারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দায়িত্ব অবহেলাকে দায়ী করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রীদ্বয় গতকাল রবিবার উপজেলার উত্তর ধূরুংয়ের কাইছার পাড়া, পশ্চিম-পূর্বচরধূরুং ও আকবরবলীর পাড়া ক্ষতিগ্রস্থবাঁধ এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

এ সময় হাজার-হাজার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে তাদের চরম দূর্গতির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রীকে। মন্ত্রীর সাথে প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, চকরিয়া-পেকুয়ার এমপি মুহম্মদ ইলিয়াছ, বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব কুতুবদিয়ার কৃতি সন্তান খোরশেদ আলম চৌধূরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহম্মদ জাফর আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল বশর চৌধূরী, ইউএনও মমিনুর রশিদ, আ’লীগ সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা, পাউবো’র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল হক, বিশ্ব ব্যাঙ্কের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান, মুজিবুর রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ, আজমগীর মাতবর, আলাউদ্দিন আল-আজাদ, সিরাজদৌল্লাহ, বিশিষ্ট রাজনীতিক আ.ন.ম.শহীদ উদ্দিন ছোটন, আ’লীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মাতবর, আ’লীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম চৌধূরী মুকুল, যুবীগ সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন ইকো, ্কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাছান কুতুবী, উপজেলা জাপা নেতা জাফর আলম, হাজী আবদুল মোনাফসহ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীদ্বয় পরে উত্তর ধূরুং ইউপিতে দুর্গতদেতর মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে ধূরুং হাইস্কুল ময়দানে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন। পরে দুপুর ১টায় তারা হেলিকপ্টারযোগে কুতুবদিয়া ত্যাগ করেন।

Sunday, July 27, 2014

কুতুবদিয়া দ্বীপ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সব কিছু করবেন: সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বিলীন হয়ে যাওয়া সাড়ে ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ প্রাথমিক ভাবে সংষ্কার করা হবে আগামি অমাবশ্যার আগে। বর্ষার পরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যেই কুতুবদিয়ায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার গত পূর্ণিমার জোয়ারে কুতুদিয়ায় বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন ও উপজেলার আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এ কথা বলেন।

এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী এম. শফিকুল হক উপস্থিত ছিলেন। ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কুতুবদিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নেন তিনি। বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ হজরত আবদুল মালেক শাহ (রাঃ) মাজার জিয়ারত করেন। পরে কুতুবদিয়া কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে উপজেলার আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম মমিনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন। আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির হায়দার, ভাইস চেয়ারম্যান মেহেরুন্নেছা ও কুতুবদিয়া থানার ওসি আলতাজ হোসেন। এ সয়ম উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছফা বিকম, চেয়ারম্যান সিরাজদৌল্লাহ, চেয়ারম্যান আজমগীর মাতব্বর,চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ,চেয়ারম্যান ফিরোজ খান ও চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আজাদ।

সভায় আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। কুতুবদিয়ায় কাজ করে তা প্রমান করতে চাই। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, চিন্তার কোন কারণ নাই। আপনাদের পাশে রয়েছেন গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনা। আগামি ১৫/২০ দিনের মধ্যে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করতে যা করণীয় তা করার নির্দেশ দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন বলেন আপনাদের চিন্তার কোন কারণ নেই। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি। কুতুবদিয়ার উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে মাস্টারপ্লান তৈরী করা হয়েছে। তা আগামিতে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

Tuesday, July 22, 2014

কুতুবদিয়া কি বিলীন হয়ে যাবে by মুহাম্মদ হোছাইন কুতুবী

একসময়ে বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কুতুবদিয়া দ্বীপ, পূর্বদিকে আঁকাবাঁকা নদী সারি সারি প্যারাবন। উত্তরে একমাত্র খরস্রোতা নদী- কর্ণফুলী, পশ্চিমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সমুদ্র সৈকত, শামুক ঝিনুক, এবং ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাকড়া। দক্ষিণে সীমানাহীন লবণের মাঠ, উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব দক্ষিণ যে দিকেই তাকাই মাঝি মাল্লার দেখা মিলে, চারিদিকে বঙ্গোপসাগরে ঘেরা ২১৫ বর্গ কিলোমিটারের এই দ্বীপটি প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরপুর। শাহ আব্দুল মালেক কুতুব আউলিয়ার পূণ্যভূমি, পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা, ক’দিন আগের কথা, গ্রাম বাংলার চিরচেনা সব ঐতিহ্য বিরাজমান ছিল। কুতুবদিয়াবাসীর ছিল গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভর্তি গরু, মহিষ, ছাগল, মাঠে ঘাটে সোনালী ফসল, নদী খালে সোনালী রুপালী নানা প্রজাতির মাছ। কিন্তু এসব আজ হারিয়ে যাচ্ছে আগ্রাসণী সমুদ্রের কবলে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কোন অংশে পিছিয়ে নেই এই এলাকা। শিক্ষার হার বিবেচনায় কক্সবাজার জেলায় শীর্ষে অবস্থান। এই ছোট্ট জনপদের লোকজন মানব সম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় থেকে শুরু করে নানা পদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন এই এলাকার কৃতি সন্তানেরা।
ZoooooM
এই অঞ্চলের লোকজন পেশায় সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও লবণ চাষাবাদে জড়িত। কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিকুলতা, মানবসৃষ্ট ধুম্রজালে তালবেতাল হয়ে পড়েছে। এই এলাকার জনজীবন, হারিয়ে ফেলেছে জীবনযাত্রার ছন্দ। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আগেই প্রকৃতি তাদের জীবনযাত্রার অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয়। হাজারো স্বপ্ন নিয়ে প্রতিকুলতার মাঝে সমুদ্র উপকন্ঠে বসবাস করে আসছে লাখো জনতা। শিক্ষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্য নিয়ে অগ্রসর হতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত, বর্ষা এলেই আতংক বিরাজ করে দ্বীপবাসীর মাঝে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙ্গন, জলোচ্ছ্বাস লন্ডভন্ড করে দেয় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিপদাপন্ন দেশ হিসেবে স্বীকৃত যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয় বেশি।
ঐসব দুর্যোগের কারণে সহায় সম্পত্তি, বসতবাড়ি জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে সহস্র মানুষকে।  জলবায়ুবিদগণ ভবিষ্যৎ বাণী করে বলেন- একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা নগন্য হলেও বৈশ্বিক উষ্ণতায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে এ দেশের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মাঝে কুতুবদিয়া অন্যতম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, অনাবৃষ্টি, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, ঋতুবৈচিত্র পাল্টে যাবে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজার হাজার মানুষ এবং প্রভাব পড়বে মানুষের জীবন জীবিকার উপর।
জার্মান ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশের উপর প্রভাবও ক্ষয়ক্ষতির যে আশংকার কথা বলা হয়েছে তা হলে বাংলাদেশের বন্যা এলাকা বাড়বে ২৯ শতাংশ তার মধ্যে কুতুবদিয়া শীর্ষে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে দ্বীপবাসীর মাঝে চরমভাবে লক্ষণীয়, প্রতিনিয়ত পানির স্বাভাবিক উচ্চতা বাড়ছে। নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে ভাসছে। যার ফলে উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ভাসমান পরিবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ এক বিভীষিকাময় জীবন, নিয়তীর কাছে হার মানতে হচ্ছে দ্বীপবাসীর। একবার ঘূর্ণিঝড়ে সব হারায় আবার নদী ভাঙ্গনে বিলুপ্ত করে তাদের অস্তিত্বকে, তবুও মারায় টানে ঠাঁই নেয় আগ্রাসনী সমুদ্রের তীর।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসনে আর্থিক ফান্ড আছে, ব্যয়ও হচ্ছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তরা এই সুবিধার আওতায় পড়ছে না। এছাড়া জলবায়ু স্থানচ্যুত মানুষের জন্য কার্যকর প্রত্যাবর্তন, স্থানান্তর ও পুনবার্সন কর্মসূচী চালু নেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনানুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও প্রধান কর্তব্য ও দায়িত্ব হচ্ছে জলবায়ু স্থানচ্যুত মানুষদের দেশের অভ্যন্তরে স্থানান্তর ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
কুতুবদিয়া বাস্তুহারা মানুষের সমস্যার শেষ নেই, অনেকেই বেড়ি বাধের উপর ব্যাঙের ছাতার মতো অস্থায়ী টঙ বেধে জীবনযাপন করছে। আবার অনেকেই সুখের সংসার গড়তে অর্থকড়ি জমিয়ে পাকা অথবা সেমিপাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করার সাহস পায়না। বিশেজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ২০০৭ সালের সিডরের ন্যায় দুর্যোগ সৃষ্টি হলে ’৯১ এ ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দ্বিগুণ প্রাণহানি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
১৯৯১ সালের তান্ডবে উপকুলীয় এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর সিংহভাগ ছিল কুতুবদিয়া এবং তার আশ-পাশ এলাকার। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট এর তথ্য অনুযায়ী ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়ার ৬টি ইউনিয়নে প্রাণহানি ঘটে ৯ হাজার ১৫ জনের। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১৫ হাজার ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দীর্ঘ ২৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও মানুষের জানমালের ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেনি। বর্তমানে কুতুবদিয়ার লোক সংখ্যা রয়েছে প্রায় দুই লাখেরও কাছাকাছি। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ৭১টি। জনসংখ্যা অনুপাতে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা অতি নগণ্য। নির্মাণ ত্র“টি এবং অযতেœর কারণে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোকে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অনেক আশ্রয়কেন্দ্র স্থানীয় প্রভাবশালী লোকদের গুদামঘরে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কুতুবদিয়ার চার পার্শ্বের প্যারাবন, ঝাউবন এখন উজাড় প্রায়। কুতুবদিয়া এখন জোয়ারের পানিতে ভাসছে। কুতুবদিয়াকে রক্ষা করতে চাইলে অবশ্যই কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রবল সামুদ্রিক জোয়ারের কারণে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, সহস্রাধিক ঘর বাড়ি, ক্ষেত-খামার, বিশেষ করে আলী আকবর ডেইলের তাবালের চর গ্রামটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই এলাকায় রয়েছে দেশের একমাত্র বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প। বর্তমানে প্রকল্পটি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। আলী আকবর ইউনিয়নটি উপজেলার একমাত্র জনবহুল ইউনিয়ন। এর দক্ষিণে ছিল খুদিয়ার টেক নামক একটা বিশাল ইউনিয়ন। আজ ইউনিয়নটি বিলিন হয়ে গেছে। এবার আলী আকবর ডেইল বিলীন হওয়ার পালা। এছাড়াও ধুরুং আকবর বলীর পাড়া, চর ধরুং, কৈয়ালবিল, কাইছারপাড়া, জালিয়া পাড়া ইত্যাদি গ্রামে জোয়ার ভাটার পানি আনাগোনা অব্যাহত আছে।
প্রাকৃতিক নৈসর্গপূর্ণ এলাকা, যেখানে- লবণ শিল্প, মৎস শিল্প, চিংড়ি ঘের প্রতিনিয়ত সফলতার হাতছানি দিচ্ছে। আমাদের লবণ শিল্পে বিশ্বের দরবারে প্রশংসার দাবীদার। আরো আছেÑ সোনালী রূপালী হাজার প্রজাতের কাঁচা মাছ, শুটকি, উন্নত প্রজাতির কাকড়া, দেশে বিদেশে রপ্তানি হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেই চলছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এ দ্বীপবাসী বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই জনপদ।
কুতুবদিয়া ৬টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়ন মারাত্মক ভাবে ভাঙ্গনে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই দ্বীপের অস্তিত্ব টিকে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। সাম্প্রতিক কুতুবদিয়া বাসির জীবন যাত্রার মান চরম ভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। টানা কয়েকদিনের পূর্ণিমায় জোয়ারের পানিতে ফুলে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। কুতুবদিয়ার চারপার্শ্বের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অপরিমেয়। কুতুবদিয়ার প্রায় ২৭টি গ্রাম আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবালের চর গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যে কোন মুহুর্তে তলিয়ে যাওয়ার আংশকা রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। যার ফলে বেড়ি বাধ ভেঙ্গে গিয়ে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়া, নদী ভাঙ্গন বেড়ে যাওয়া নতুন কোন খবর নয় দ্বীপবাসীর কাছে।
এত দূর্যোগ থাকা সত্ত্বেও কুতুবদিয়া বাসীকে প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে হয়। প্রকৃতপক্ষে এসব দূর্যোগের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দায়ী। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, সরকারের ছত্রছাঁয়ায় লবণমাঠ, চিংড়ি ঘের ইত্যাদি নির্মাণের জন্য উপকুলীয় প্যারাবনের শত শত গাছ যেমন- বাইন, কেউড়া, ঝাউবন ইত্যাদি রাতারাতি উজাড় করে দিয়েছে। অনেক স্থানীয় প্রতিনিধি রক্ষক সেজে ভক্ষক হয়েছে, বেড়িবাধ  উন্নয়নের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এখনও জনপ্রতিনিধির উচ্চাসন দখল করে আছেন।
প্রতি অর্থ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে যে বরাদ্দ দেয় হয় তার সুষ্ঠ ব্যবহার হয়না, বেড়িবাধ সহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারদের প্রভাবিত করে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজণৈতিক ব্যক্তিগণ, তাদের কাজে ভাগ ভাটোয়ারা বসিয়ে হাত করে নেয় এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অনেক রাজণৈতিক নেতার প্রতিহিংসার কারণে কুতুবদিয়া আজ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে ডুবে আছে তা কারো আজানা নয়। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন- নেতারা গাড়ি বাড়ি করে শহরে নগরে পাড়ি জমিয়েছেন আমরা কিভাবে দিন কাটাচ্ছি তা তাদের নিকট স্পষ্ট নয়, দু:খী মেহনতী মানুষের দু:খ দুদর্শা লাঘবে তাদের কোন প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়না, নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে হাত পা ধরে ভোট ভিক্ষা করতে আসে, পরে আর কোন খোঁজ থাকে না।
চারিদিকে হাহাকার, দুর্বীসহ এক কঠিন জীবনযাত্রা, মাথা গুজার ঠাই নেই অনেকের- তিন বেলা খাবার জুটেনা অধিকাংশ লোকের, দিক বিদিক ছুটাছুটি করছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে সরকারী, বেসরকারী উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কাগজে কলমে থাকলেও তার সত্যতা ও বাস্তবতা নেই।  সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম শুধু শুনা যায়, বাস্তবে তার প্রমাণ খুবই বিরল।সাম্প্রতিক প্রকাশিত বেসরকারী তথ্যানুযায়ী কুতুবদিয়া অধিকাংশ লোক মধ্যবিত্ত থেকে দারিদ্রের নিম্ন সীমায় বসবাস করছে। ব্যক্তিগত পেশায় ভাটা নেমে এসেছে অনেকের। জেলে পরিবার অভাব অনটনের মধ্যদিয়ে জীবন যাপন করছে। লবন ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বেকায়দায় পড়ে আছে, তাদের দাবী রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে সরকারী, বেসরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা না থাকায় তাদের মাঝে বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। দেখা গেছে প্রতি বছর শত শত একর জমি চাষাবাদ অনোপযোগী হয়ে পড়ছে, জেলেরা মাছ আহরণ ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে উক্ত পেশা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।
এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে টিকিয়ে রাখতে হলে, তাদের জন্য- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা সময়ের দাবী। সরকারী বেসরকারী এনজিও গুলোর তৎপরতা একান্তভাবে কাম্য। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মৎস্য এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে নেয়া দরকার বিশেষ উন্নয়ন মূলক পরিকল্পনা এবং তার সুষ্ঠ বাস্তবায়ন। প্রতিটি উন্নয়ন মূলক কাজের সুষ্ঠ তদারকি এবং জবাবদিতিহা নিশ্চিত করা দরকার অন্যথায় খুব অচিরেই বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে ছোট্ট দ্বীপটি হারিয়ে যাবে।
এখনিই সময় দ্বীপ বাসীর ন্যায্য দাবী সমূহ পূরণ করার তাদের দাবী সমূহের মধ্যে রয়েছে
কুতুবদিয়ার জলবায়ু স্থানচ্যুত সমস্যা অভ্যন্তরীণভাবে সমাধানে, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে।
জলদস্যুদের তান্ডব মোকাবেলায় কোষ্ট গার্ডের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।
খাস জমি নিয়ে বিরোধ, দাঙ্গা হাঙ্গামা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।
বাস্তুহারা লোকদের পূনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
kutubi.jkkniu@gmail.com

Saturday, July 19, 2014

কুতুবদিয়ায় ঘরহারা মানুষের চরম দুর্গতি জোয়ারের পানিতে ক্ষতি ৫ কোটি টাকা by এম.এ মান্নান

কুতুবদিয়ায় গত এক সপ্তাহে ভরা পূর্ণিমার জোয়ারের পানি উঠে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে,কাইছার পাড়া, পূর্ব চর ধুরুং বেড়িবাধঁ ভেঙে এবং উপজেলার  আলী আকবর ডেইল,তাবোরের চর, কুমিড়া ঘোনা, বড়ঘোপ দক্ষিণ অমজাখালী,কেয়ারবিল মলম চর, পশ্চিম ঘিলা ছড়ি প্রভৃতি স্থানের ভাঙা বেড়িবাধঁ দিয়ে অবাধে পূর্ণিমার ফুঁসে ওঠা পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। এতে ঘরহারা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

গত ৭ দিনে সব চেয়ে ক্ষতি হয়েছে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে জোয়ারের মাত্র দু‘দিন আগে পূর্ব চর ধুরুং ৩০০ মিটার ভাঙা বেরিবাধঁ জরুরী মেরামত শেষ করেন হারুন ও গিয়াস নামের দু‘জন ঠিকাদার। জমানো  বস্তার পরিবর্তে সেখানে কাচা মাটি দিয়ে সংস্কার করায় জোয়ারের পানির ধাক্কায় দ্রুত ভেঙে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দা মিজবাহ উদ্দিন অভিযোগ করেন। সেখানে শক্ত ভাবে কাজ না হওয়ায় পুরো ইউনিয়নে ৭ দিন চলে লোনা পানির তান্ডব।
তলিয়ে যায় প্রায় ৫‘শ কাচা ঘর-বাড়ি সহ ৫‘শ হেক্টর  সদ্য রোপিত আউশ জমিতে।  মাটির দেয়াল সহ অন্তত: ৩০০ বাড়ি দেবে গেছে দু‘দিনের মধেই। হাঁস-মুরগী,গরু.ছাগল,পুকুর মাছ কিছুই বাদ যায়নি ক্ষতির কবল থেকে।  অনেকে বাড়ির  আসবাব-পত্র বের করার সুযোগও পাননি। আশ্রয় নিয়েছে আজম সড়কে। ওই ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে  আউশ চাষ করা হয়েছিল। লোনা পানিতে ধান মরে যাওয়ার আশংকায় দিন কাটছে চাষিদের। নয়াকাটা,জইজ্যার পাড়া,মনছুর হাজীর পাড়া, চাইন্দার পাড়া,কাইছার পাড়া প্রভৃতি গ্রামে চলছে শোকের ছায়া।এখন পর্যন্ত সরকারি কোন সাহায্য মেলেনি দূর্ভোগী-গৃহহারাদের। প্রশিক্ষন গ্রহণের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান,নির্বাহি অফিসার সবাই দ্বীপের বাইরে রয়েছেন।এমনকি দূর্যোগপূর্ণএলাকা উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দৌলাহ  তিনিও মামলার দরুণ লাপাত্তা। পাশে নেই কেউ। দক্ষিন ধুরুংইউপি চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে ১২১ পরিবারে চাল,চিড়া,নগদ অর্থ প্রদান করলেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানান ইউপি সদস্য ওমর ফারুক।উপজেলায় জোয়ারে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে  ভূক্তভোগীরা জানান।
এ দিকে আলী আকবর ডেইল, তাবারের চর, খুদিয়ার টেক, জেলে পাড়া, অমজাখালী, নাছিয়ার পাড়া,কিরণ পাড়া, কৈয়ারবিল, লেমশীখালীর উপকুল এলাকায় অন্তত: দেড় হাজার হেক্টর রোপিত আউশ দু‘দফায় বিনষ্ট হয়ে পড়েছে। নাছিয়ার পাড়ার চাষি মৌং জয়নাল আবেদীন বলেন, তার ৩ একর রোপিত আউশ বিনষ্ট হয়ে গেছে। আবার রোপন করার চারা নেই তার।উপজেলা উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন,উত্তর ধুরুংইউনিয়নে আউশ চাষের ৭০০ হেক্টর জমি রয়েছে। বেশ কয়েকজন  চাষীদের মতে দেড়‘শ হেক্টর জমির চারা বিনষ্ট  হতে পারে বলে জানান। তবে বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ক্ষতি- গ্রস্ত পরিবারের সাহায্যে সরকারি ত্রাণ পৌছেনি। খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে শত শত গৃহহারা মানুষ। গতকাল বৃহ:বার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য  মুহাম্মদ শফিউল আলম কুতুবী বৃহস্পতিবার দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ-খবর নেন। বেড়িবাঁধের জরুরী নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পোঁছানোর জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবী জানিয়েছেন তিনি।  মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটির জরুরী বাঁধ সংস্কারের টেন্ডার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্তা ব্যক্তি ও সংষ্ট­ দুর্নিতিবাজ টিকাদারের অবহেলায় এই মানবিক বিপর্যয়সহ খাদ্য নরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন কুতুবদিয়া বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম.শাহরিয়ার চৌধূরীসহ আরো অনেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উত্তর ধূরুংয়ের চরধূরুং এলাকা দিয়ে  আসা পানি পশ্চিম চরধূরুং, জমির বাপের পাড়া, কাইছার পাড়া, পিল্লার পাড়া, কালারমার পাড়া, ফুড়ার পাড়া ও হায়দার পাড়া তলিয়ে গিয়েছে। পরে আজম রোড ভেঙ্গে দক্ষিণে মনছুর আলী হাজী পাড়া, নয়া পাড়া, আইক্কার পাড়া, চাইন্দার পাড়া, জহির আলী সিকদার পাড়া, নাপিত পাড়া, চাটি পাড়া, ফরিজ্যার পাড়া, আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, ছাদের ঘোনা, বাঁকখালী, মনু সিকদার পাড়া, আকবরবলী পাড়া, নজুমিয়া বাপের পাড়া, ফয়জানি বাপের পাড়া ধ্বসে গিয়ে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। দক্ষিণ ধূরুংয়ের মদন্যা পাড়া, অলি পাড়া, বাতিঘর পাড়া, লেমশীখালীর পেয়ারাকাটা, কৈয়ারবিলের মলমচর, বিন্দাপাড়া, বড়ঘোপের দক্ষিণ মুরালিয়া, আলী আকবর ডেইলের তাবালেরচর এলাকায় ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে অনবরত সমুদ্রের পানিতে জোয়ারভাটা চলছে। এতে করে এলাকার পুকুর-জলাশয় লবণ পানিতে টইটম্বুর। নলকূপ বিকল হয়ে সুপেয় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গেল ‘জো-র’ পানি নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট কাজের টিকাদারের নিয়োগকৃত সাব টিকাদার নামমাত্র মাটির কাজ করে বরাদ্ধের সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন। হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে বেড়িবাধের বাইরে থাকা প্রায় ৯শ’পরিবারের জরুরী পুনর্বাসন দাবী করেন কৈয়ারবিলর ইউপি চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর। দ্বীপটির ৪০কি.মি. বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ১৫ কি.মি. অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনিসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা  কুমিল্লার বার্ডে প্রশিক্ষণে থাকার কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুমিনুর রশিদ।

Friday, June 20, 2014

ওয়াইপোর স্বীকৃতি! বিজ্ঞানী ড.শাহজাহান কুতুবীর নতুন ক্যাটালিষ্ট আবিস্কার by হাছান কুতুবী

জাপানের ‘‘ওইতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক” বাংলাদেশী তরুণ বিজ্ঞানী ড.মুহাম্মদ শাহজাহান কুতুবী ‘নতুন রাসায়নিক অণুঘটক প্যালডিয়াম-রুথেনিয়াম ধাতুদ্বয়ের সঙ্কর ন্যানুকণা (ক্যাটালিষ্ট; পিডি-আরইউ স্যলিড সলিউশন এ্যলো ন্যানুপারটিকলেস্) আবিস্কার করেছেন। বিশ্বের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীদের ভীড়ে বাংলাদেশের অবহেলিত একটি দ্বীপ-উপজেলা কুতুবদিয়ার সন্তান’র স্থান পাওয়া বিশাল অর্জন বলে জাতি মনে করেন।
তার আবিস্কৃত চমৎকার ক্যাটালিষ্ট বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে বহু উচ্চমাত্রায় উৎপাদ (প্রোডাক্ট) উৎপন্ন করে। যা গত ২৭ মার্চ ওয়াইপোর (ওয়ার্ল্ড ইনটিলিক্চুয়াল প্রপার্টি অর্গনাইজেশন) স্বত্বাধিকার স্বীকৃতি লাভ করেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে, আমেরিকার ফেডারেল নিউজ সার্ভিস, আমেরিকার স্টেট নিউজ এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সংবাদ ম্যাগাজিন ৩১ মার্চ এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এই গবেষণা কর্মে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তার ২ সহযোগি বিজ্ঞানী হলেন ড.কাত্সুত্শি নাগাওকা ও ড.কাত্সুত্শি সাতো এবং কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ বিজ্ঞানী ড.হিরোশি কিতাগাওয়া ও ড.কোহেই কুসাদা।

ড. মুহাম্মদ শাহজাহান কুতুবীর মতে অণুঘটকটির অনন্য বৈশিষ্ট হচ্ছে এক সঙ্গে লুইস এসিড ও লুইস ক্ষার এর ধর্ম প্রকাশ করেএবং সকল ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অণুঘটক হিসেবে রাসায়নিক বিক্রিয়াকে খুব দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে উচ্চ মাত্রায় উৎপাদ (প্রোডাক্ট) উৎপন্ন করে। ক্ষতিকারক কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস অক্সিডেশন, নাইট্রোজেন গ্যাস সমূহের অক্সিডেশন, মিথেন গ্যাস থেকে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করে এলকোহেল’র অক্সিডেশন বা রিডাকশন বিক্রিয়া দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের বিভিন্ন কেমিকেল যেমন মেডিসিন’র রঅ মেটিরিয়েল অথবা সরাসরি মেডিসিন উৎপাদনে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সলিড প্যাস ক্যাটালিষ্ট হিসেবে তা খুব কার্যকরী অণুঘটকের কাজ খুব দ্রুত গতিতে বিক্রিয়া সম্পন্ন করে উচ্চ মাত্রায় প্রোডাক্ট উৎপন্ন করে। যেমন যে রাসায়নিক বিক্রিয়া সাধারণভাবে ব্যবহৃত অণুঘটকে দু’ ঘন্টার অধিক সময়ে সম্পন্ন হয়, সেটি এই নতুন অণুঘটকের মাধ্যমে মাত্র ৫মিনিটে শতভাগ উৎপাদ দেয়। আবার এই অণুঘটক পুনরায় ব্যবহার করা যায়। দেখা গেছে যে, সাধারণ বায়ু মন্ডল পরিবেশে দু’ বছরের কার্যকারিতা নষ্ট হয়না। ওয়াইপোর মতে এই অণুঘটক মাল্টিপারপাস রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহার উপযোগি হিসেবে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বর্ণনা করেন যে, গত ৩১ মার্চ জাপানের বিখ্যাত কেমিক্যাল কোম্পানীর সাথে জাপান সাইন্স এন্ড টেকনোলজি এজেন্সী এবং এই বিজ্ঞানী গ্রুপ একটি চুক্তি করেন। (১) এই নতুন আবিস্কারের ওপর জাপান সাইন্স এন্ড টেকনোলজি এজেন্সীতে প্রথম আবেদন সেপ্টেম্বর-২০১২। স্বীকৃতি পায় এপ্রিল-২০১৩। (২) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন-১৮ সেপ্টেম্বর-২০১৩। ওয়াইপো স্বীকৃতি দেয় ২৭মার্চ-২০১৪। (৩) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হয় ৩১মার্চ-২০১৪।
বিরল প্রতিভাবান এই তরুণ বিজ্ঞানী ড.মুহাম্মদ শাহজাহান কুতুবী জন্ম .......কক্সবাজার জেলার দ্বীপ-উপজেলা কুতুবদিয়ার উত্তর ধূরুংয়ের ফয়জানি পাড়ার আবুল কালাম ও তাহেরা বেগম’র সন্তান। তিনি ১৯৯১ সনে সতরুদ্দীন হাইস্কুল থেকে টেলেন্টপুলে জুনিয়র বৃত্তি, ১৯৯৪ সনে কক্সবাজার সদর নাপিতখালি হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৯৬ সনে চট্রগ্রাম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি (অনার্স) এমএসসি (থিসিস ভৌত রসায়ন) প্রথম শ্রেণীতে পাস করে ২০০৬ সনে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপান গমন করেন। জাপানের সাগা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্চ ২০০৯ সনে এমএসসি (ইলেক্ট্রোকেমিষ্ট্রি), মার্চ ২০১২ সনে পি.এইচ.ডি. (জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া) লাভ করেন। জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া গবেষণায় অবদানের জন্য গ্লোবালাইজেশন প্রোগ্রাম’র আওতায় ফরেন্স এক্সিলেন্স রিচার্সার হিসেবে ২০১১ সনের নভেম্বরে সাগা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার এ্যওয়ার্ড লাভ করেন। ড.শাহজাহান কুতুবী ২০১২ সনে জাপানের ওইতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়ে গবেষণা কাজে নিয়োজিত আছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে গর্বিত করায় ড.মুহাম্মদ শাহজাহান কুতুবী, তার পরিবার-পরিজনের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আ.ন.ম.শহীদ উদ্দিন ছোটন ও সেক্রেটারী হাছান কুতুবী।

Thursday, April 24, 2014

বড়ঘোপ দক্ষিণ মগডেইলে দূর্বৃত্ত’র হাতে মা-ছেলে খুন!

কুতুবদিয়ায় দূর্বৃত্তের হাতে এক শিশুসহ তিন সন্তানের জননী খুন হয়েছেন।বুধবার ২৩ এপ্রিল সকালে কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ মগডেইল গ্রামের একটি ছোট পুকুর থেকে কবির হোসেনের স্ত্রী ও নুরুজ্জামানের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫) তার পুত্র মোঃ বাপ্পি (২) কে মৃত অবস্থায় এলাকাবাসি উদ্ধার করে। ঘটনাটি স্থানীয় ইউপির সদস্য আবুল কালাম কুতুবদিয়া থানাকে খবর দিলে পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার পূর্বক সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

Wednesday, October 30, 2013

কুতুবদিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ২৩

কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া ধুরুংবাজারে এলাকায় পুলিশ ও ১৮ দলের নেতা কমীদের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে পুলিশ সহ আরো অন্তত ২৩ জন।