Tuesday, June 9, 2026

ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়ালে তোমাকে একাই লড়তে হবে, আমরা নেই: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানে আবারও হামলা চালালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত রোববার রাতে ইরান–ইসরায়েল নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর গতকাল সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে এবং পরে ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই কড়া বার্তা দেন।

গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ সংঘাতের (রোববার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত চলা পাল্টাপাল্টি হামলা) পর ইসরায়েল ও ইরান তাদের হামলা সাময়িক বন্ধ করতে সম্মত হয়। এর পরপরই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে এল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উভয় পক্ষকে অবিলম্বে ‘গোলাগুলি’ বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে যাবে, যদি না এতে কোনো ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে হামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি বলেছি, বিবি, সাবধান হওয়া ভালো, অন্যথায় খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে পড়বে (একা লড়তে হবে)।’

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে রোববার এ নতুন উত্তেজনার (ইরান–ইসরায়েল হামলা) সূত্রপাত হয়। লেবাননে চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালায় ইরানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তি লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের ওপর আংশিক নির্ভরশীল বলে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং ওই হামলার পাল্টা জবাব না দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সে অনুরোধ উপেক্ষা করে গতকাল ভোরের দিকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল।

ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আঘাত হানে। এরপর ইরানও ইসরায়েলের হাইফায় একই রকম কারখানা ও দুটি বিমান ঘাঁটি নিশানা করে। অবশ্য ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশই অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশে ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা ইসরায়েলের

দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ‘ইরান যুদ্ধ’ বন্ধে ট্রাম্প চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ আপাতত থামলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে থেমে থেমে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছেই।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা তা প্রয়োগ করছি।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে রণাঙ্গনের আগুণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারণ, তেহরানের “সন্ত্রাসী” সরকারের ওপর আমরা আঘাত হানার পর তারা আমাদের ওপর হামলা বন্ধ করেছে।’ পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘ইরান যদি আবার আমাদের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনার খবরকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’কে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে প্রিয়জনদের মধ্যেও একটু-আধটু ঝগড়া হয়।’

লেইটার বলেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের অনুরোধে ‘পরিস্থিতি শান্ত করার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঠিকই, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টও ‘খুব ভালো করে’ বোঝেন যে ইসরায়েল নিজের দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত কোনো জবাব না দিয়ে মুখ বুজে সহ্য করতে পারে না।

উত্তেজনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য সরাসরি দায়ী। তারা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ। তাই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আটক, ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে হামলা বা অন্য যেকোনো ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সরাসরি দায়ী থাকবে।’

এদিকে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো এ অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নাসর’ বা ‘বিজয়’। এ অভিযান ‘শক্তিশালী ইরানের এক নতুন স্তরের প্রতিরোধ সক্ষমতা’ প্রদর্শন করেছে। এর ফলে ইসরায়েল ‘আরও একবার যুদ্ধবিরতির জন্য ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে’ বলেও তিনি দাবি করেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপি ফাইল ছবি

Monday, March 9, 2026

মোজতবা খামেনির প্রতি আইআরজিসি ও সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য প্রকাশ

প্রকাশ ০৯ মার্চ ২০২৬ঃ ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ‘তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

আইআরজিসি আরও যোগ করেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) দিয়ে খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকে না এবং এই বিপ্লব ও ইসলামি ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’

খামেনির প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানানো সর্বশেষ পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী মোতজবা খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান... ধর্মপ্রাণ ও বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আরও বলেছে, খামেনিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

মোজতবা খামেনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। গত শনিবার ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, মোজতবা খামেনির স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। তবে সেদিন মোজতবা খামেনি হামলাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

কয়েক বছর ধরে বাবার সম্ভাব্য প্রধান উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রায় আট বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তারপর প্রায় ৩৭ বছর যাবৎ দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি