Monday, October 20, 2014

কুতুবদিয়ার চাষাবাদ রক্ষায় এ সময়েই ইমার্জেন্সী ওয়ার্ক! by হাছান কুতুবী

কুতুবদিয়ার চর ধূরুংয়ের মাত্র দেড় কিলোমিটার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের কারণে গোটা ইউনিয়নবাসি পথে বসেছে। পুরো বর্ষায় সামুদ্রিক জোয়ার-ভাটার কারণে কৃষকেরা করতে পারেনি চাষাবাদ। বসতঘর হারায় কয়েক হাজার মানুষ। নোনা পানিতে ভর্তি হয়ে আছে সমস্ত পুকুর-জলাশয় ও খাল-বিল। বর্তমানে খাবার ও ব্যবহারের পানির তীব্র সংকট চলছে ওই এলেকায়। যথা সময়ে খোলা বাঁধটি নির্মাণ করলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এতো ক্ষতির শিকার হতোনা বলে উন্নয়ন বিশ্লেষক মহল মনে করেন। বর্ষার চাষাবাদ মৌসুম শেষে গত ১৮ অক্টোবর থেকে ওই এলাকায় বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করলে বিক্ষুব্ধ জনতা বলেন ‘চাষাবাদ রক্ষায় এ সময়ে এটাই কী ইমার্জেন্সী ওয়ার্ক? এ কাজ যেন্ ‘কাটা ঘাঁয়ে লবণ ছিটা’ বলে মনে করছেন তারা।

গত ১৭ আগষ্ট পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও প্রতি মন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক কুতুবদিয়ার দূর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে চাষাবাদ রক্ষায় জরুরী রিঙবাঁধসহ কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ি বাঁধ নির্মাণে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার মহা পরিকল্পনার কথা বলেন। মন্ত্রীদ্বয় সফরের প্রায় দু’মাস পর উপজেলার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে রিঙবাঁধের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জরুরী আর্থ ওয়ার্কের জন্য বরাদ্ধের পরিমাণ স্পষ্ট না জানালেও ক্ষমতাসিন দলের বেশ কয়েকজন নেতার মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরে জমিনে গিয়ে চর ধূরুংয়ের উত্তরে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ না করে অন্য একটি পয়েন্টে কাজ করতে দেখা গেলেও অপরাপর এলাকায় এখনো কাজ শুরু করেনি। জেলা আ’লীগের সদস্য শফিউল আলম জানিয়েছেন তার অংশের কাজ আজ মঙ্গলবার শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া পূর্বের টেন্ডার বলবৎ থাকায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কাইছার পাড়া এলাকায় আর্থ ওয়ার্ক হচ্ছেনা বলে জানা গেছে। ফলে আগামী চাঁদের ১০ তারিখ থেকে পূর্ণিমার চোরা জোয়ারে গোটা এলাকা আবারো তলিয়ে যাবার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। ফলে ওই এলাকায় লবণ চাষও মারাত্মক হুমকির মাঝে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করবে বলে জানিয়েছেন পাউবোর কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল হক।

(২০-অক্টোবর)

No comments:

Post a Comment