Showing posts with label আমার দেশ. Show all posts
Showing posts with label আমার দেশ. Show all posts

Tuesday, July 22, 2014

প্রাণভয়ে ভারতে কলকাতায় পালিয়ে আসি : নূর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন দাবি করেছেন, তার জীবনের সংশয় থাকায় তিনি বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় চলে এসেছেন। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামার পর সাংবাদিকদের কাছে নূর হোসেন এমনটাই দাবি করেন। আজ স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় নূর হোসেন ও তার দুই সঙ্গী ওহিদুর রহমান ও খান জামানকে ফের আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

নূর হোসেন বলেন, “আমি পালিয়ে না এলে যারা এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলত। সেই কারণেই আমি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”
কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বলতে অস্বীকার করেন নূর হোসেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে, আপনারাও তাদের সহযোগিতা করুন।”
ছয় কোটি টাকা লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করুক তাহলেই আসল সত্য প্রকাশ পাবে।”
তিনি আরো বলেন, “আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশ থেকে তার পরিবারের লোকজনেরা আসছে। তারপর তাদের সঙ্গে কথা বলেই আইনজীবী যা করার করবেন।”
প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকেও গত ১৪ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা কৈখালির একটি বহুতল আবাসন থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অধৈভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪ বিদেশি নাগরিক আইন (ফরেনারস অ্যাক্ট) লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী ওহিদুর জামান ও খান সুমনকে বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। তাদের প্রত্যেকের আট দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২৩ জুন তাদের ফের আদালতে তোলা হয়। মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম মধুমিতা রায় ওই তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে দিয়ে দমদম কেন্দ্রয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৭ জুলাই তাদের আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিয়ে দমদম কারাগারে পাঠান।
গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এর তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় একে একে ভেসে ওঠে সাতজনের মরদেহ। এই সাতজন হলেন এক গাড়িতে থাকা কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সঙ্গী তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন ও তাঁর গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আরেকটি গাড়িতে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়াডের্র কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে নজরুলের পরিবার।

অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে নেই কোনো আরব রাষ্ট্র

তিন বছর আগে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটা আশা ছিল যে আরব জাহানে ক্রমবিকাশমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে তারা হয়তো আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে পারবে।
এরপর দেশটিতে হামাস ও ফাতাহ একটা ঐকমত্যের সরকার গঠন করে এবং এই সরকার জনগণের অধিকার ও দাবিগুলোর ব্যাপারে আরো বেশি দায়িত্বশীল। তাই ফিলিস্তিনি নেতারা আশা করেছিল যে তারা এবার আরব নেতাদের সমর্থন পাবে।

কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামপ্রতিক বিমান হামলা ও নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ তাদের মন একটুও টলাতে পারেনি। বরং এর বিপরীতটাই ঘটছে। কার্যত আরব দেশগুলোর সরকার ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের সমর্থকদের মতে ইসরাইলের অবৈধ বিমান হামলা আর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে আরব দেশগুলোর সরকারের প্রতিক্রিয়া বেশ অসংলগ্ন এবং মোটেই আশানুরূপ নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের নিন্দা করে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু আরব দেশগুলোর সরকার এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন।
মুনদার মুয়াম্মার নামে একজন তিউনিশীয় বিক্ষোভকারী যিনি তার দেশের রাজধানীতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে মিছিলে যোগ দেন তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো আরব দেশই ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিচ্ছে না।
দিয়ানা বুতু নামে একজন ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং বিশ্লেষক বলেন, গাজায় অন্য সব আগ্রাসন ও আক্রমণের বেলায় কয়েকটা সরকার ছিল যারা প্রতিবাদ করত যে ইসরাইল যা করছে, যেভাবে করছে তা বেআইনি-অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি কিছু সমর্থন দিত। কিন্তু এবার সে রকম কিছু ঘটছে না। সবাই চুপচাপ বসে আছে।

আবু তারেক সাদেক নামে একজন ফিলিস্তিনি যিনি বৈরুতের শাতিলা শরণার্থী শিবিরে থাকেন। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা পিছু হটছে। আগের আমলের সরকারগুলো ফিলিস্তিনের ব্যাপারে কমপক্ষে কিছু কথা বলত, যদিও তারা মিথ্যা বলত। কিন্তু আজ আমরা তাদের কাছে অপাঙক্তেয়। যেখানে আমরা ১ নম্বর আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা, সেখানে আজ আমরা ২৪ নম্বরে।
মারওয়া বেটলিলি নামে তিউনিশিয়ার একজন ছাত্রী শুক্রবার রাজধানী তিউনিসে এক ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ র্যালিতে অংশ নিয়ে বলেন, আরব বসন্ত শুরু হয়েছে এই তিউনিশিয়ায়। আমরাই প্রথম বিপ্লব করেছি। আর আমাদেরকেই প্রথম অন্যায়ের নিন্দা করতে হবে এবং স্বাধীনতা ও মুক্তির ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিতে হবে।
বামপন্থী ইসরাইলি পত্রিকা হারেেজর একজন লেখক আনসেল পেফার টুইটারে লিখেছেন, এটা অবিশ্বাস্য যে ইসরাইল যখন গাজা উপত্যকা এবং সমগ্র আরব রাষ্ট্রের ওপর খবরদারি করছে, তখন মিসর তাদের সমালোচনা করে একটি কথাও বলছে না। শুধু হামাসের ওপর দোষারোপ করছে।
ফিলিস্তিনি-মিসরীয় মানবাধিকার কর্মী এবং সংগঠক রামি সাথ বলেন, মিসরের সরকার আগুন নিয়ে খেলছে। তারা গাজা নিকটবর্তী মিসরীয় সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে যাতে গাজাবাসীর জন্য কোনো সাহায্য ও ত্রাণসামগ্রী না আসতে পারে। এটা শুধু অমানবিকই নয়; বরং সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়।