Wednesday, December 24, 2025

কুতুবদিয়া দ্বীপ কেন বিখ্যাত by নাজিম আল মামুন

বন্ধুসভাঃ কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে থাকা একটি দ্বীপ কুতুবদিয়া। দ্বীপটির আয়তন একসময় ছিল প্রায় ৮৩ দশমিক ৩২ বর্গমাইল। চারদিকে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, মাঝখানে জনপদ—এই দ্বীপটি বাংলাদেশের প্রকৃতি ও অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বর্ষায় দ্বীপের চারপাশে থই থই পানি দেখে মনে হয়, যেন এটি একটি জলবেষ্টিত হাওরাঞ্চল। আর শীত-গ্রীষ্মে মাঠের পর মাঠজুড়ে দেখা যায় লবণ উৎপাদনের দৃশ্য ও শুঁটকি মাছ শুকানোর কর্মযজ্ঞ।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও নামকরণ
ধারণা করা হয়, কুতুবদিয়া দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের বুকে ১৪শ শতকে জেগে ওঠে এবং ১৫শ শতকে মানুষের পদচারণ শুরু হয়। সেই সময় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুরা দ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করত। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন সুফি-দরবেশ দ্বীপে আগমন করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুতুবউদ্দিন, যিনি এখানকার মানুষদের নিরাপত্তা দিতে ও দ্বীপে ইসলামি চেতনার বিস্তার ঘটান। তাঁর নাম অনুসারেই দ্বীপটির নাম হয় কুতুবদিয়া, যা স্থানীয়ভাবে ‘কুতুব আউলিয়ার দেশ’ নামেও পরিচিত।

বাতিঘরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
কুতুবদিয়া সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিল তার ঐতিহাসিক বাতিঘরের জন্য। এটি নির্মিত হয় ১৮৪৬ সালে, ব্রিটিশ স্থপতি নিয়ার বার্মিংহামের তত্ত্বাবধানে। বাতিঘরটি ছিল আটতলাবিশিষ্ট, উচ্চতা প্রায় ১২০ ফুট। এতে কাচখচিত জানালা, চারদিকে রেলিং এবং শীর্ষ কক্ষে শক্তিশালী আলো ছিল, যা প্রায় ১৯ মাইল দূর থেকে দেখা যেত। এটি ছিল তৎকালীন নাবিকদের জন্য দিকনির্দেশক একমাত্র ভরসা।

১৯৫৪ সালে শঙ্খ নদের ভাঙনে বাতিঘরটি ধ্বংস হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৫ সালে একটি নতুন বাতিঘর নির্মিত হয়, যা আবার ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যায়। বর্তমান বাতিঘরটি আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হলেও আগের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও শৈল্পিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারেনি।

কুতুবদিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব
এই দ্বীপটি বাংলাদেশের লবণ উৎপাদনের প্রধান অঞ্চলগুলোর একটি। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লবণ এখান থেকে উৎপাদিত ও সরবরাহ হয়। পাশাপাশি কুতুবদিয়া বিখ্যাত এর বাণিজ্যিক শুঁটকি মাছ উৎপাদন ও আড়তের জন্য।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয় এখানেই, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

পরিবেশগত সংকট ও ভবিষ্যৎ
প্রতিবছর বর্ষায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের কারণে কুতুবদিয়া দ্বীপের আয়তন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। অনেক এলাকা ইতিমধ্যে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়েছে। তবে এখনো এই দ্বীপ তার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক সংযোগ বহন করে চলেছে।

সরকারের উদ্যোগে কিছু প্রতিরক্ষা বাঁধ ও প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও দ্বীপটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত পরিকল্পনা এবং পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়ন।

পর্যটনের সম্ভাবনা
সুন্দর সমুদ্রতীর, ঐতিহাসিক বাতিঘরের গল্প, সুফি ঐতিহ্য, শুঁটকিপল্লি আর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প—সব মিলিয়ে কুতুবদিয়া একটি অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন সংস্থার সহযোগিতায় দ্বীপটি হয়ে উঠতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

কুতুবদিয়া শুধু একটি দ্বীপ নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি জীবনযুদ্ধ, এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় লড়াইয়ের এক জীবন্ত প্রতীক। যথাযথ পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন–কৌশলের মাধ্যমে এই দ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব—তার অতীত ঐতিহ্য নিয়েই ভবিষ্যতের পথে।

সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ভূ-পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, বিবিসি বাংলা, কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের লোকাল রেকর্ড।

নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ। এখানকার প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে উড়ে বেড়ায় গাঙচিল
নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ। এখানকার প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে উড়ে বেড়ায় গাঙচিল। ছবি: জুয়েল শীল

কুতুবদিয়া দ্বীপের খোঁজে by আফরিদা ইফরাত

ইত্তেফাকঃ আজ থেকে ৬০০ বছর আগে কক্সবাজার থেকে ৮৬ কিলোমিটার দূরে মহেশখালী উপজেলার পাশে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে মাথা উঁচু করে একটি দ্বীপ। রহস্যময় এই দ্বীপে মানুষ পা রাখে পনেরো শতকে। হযরত কুতুবউদ্দীন নামে এক আধ্যাত্মিক সাধক কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে এখানেই আশ্রয় নেন। তখনকার সময় আরাকান অঞ্চলে মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছেন নানাভাবে। তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় কুতুবউদ্দিনের নাম জানতে পারেন। ভাগ্যান্বেষণেই তারা এই নতুন দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। কুতুবউদ্দিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই দ্বীপের নাম হয় ‘কুতুবউদ্দিনের দিয়া’। পরবর্তী সময়ে মানুষের মুখে ছড়াতে ছড়াতে তা হয়ে যায়, কুতুবদিয়া।

ভ্রমণ কিংবা পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও কুতুবদিয়া দ্বীপের বেশ সুনাম আছে। কক্সবাজার জেলার অধীনস্থ একটি উপজেলা হিসেবে পরিচিত কুতুবদিয়া দিয়েই কুতুবদিয়া চ্যানেলে প্রবেশ করা যায়। দেশে অনেকেই কুতুবদিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। যাত্রাটা কঠিন নয়। পেকুয়া মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেল হয়ে সহজেই কুতুবদিয়া দ্বীপে পৌঁছানো যায়। 

কিন্তু দীর্ঘ যাত্রাপথ শেষে কুতুবদিয়ায় গেলে কী দেখবেন? কী আছে সেখানে? সে সব জানাতেই তো এলাম। 

দেশের যেকোনো প্রান্তেই থাকুন না কেন, আপনায় চট্টগ্রাম শহরেই আসতে হবে। এখানকার চান্দগাঁও থানা কিংবা নতুন ব্রিজ থেকে আনোয়ারা, বাঁশখালী দিয়ে পেকুয়া মগনামা বাজারে যেতে পারবেন। এছাড়া চকোরিয়া হয়েও যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ভাড়াটা এখন বেশিই পড়বে। ডিজেলের দাম বাড়ায় ভাড়াটা সম্ভবত বিরক্তিকর পর্যায়েই ঠেকেছে। যাত্রাটা বেশ লম্বা ও ক্লান্তিকর। নিরাপত্তার স্বার্থেই ভোর ভোর থাকতে রওয়ানা দিন।  

মগনামা বাজারে নেমে ব্যস্ত হওয়ার কিছুই নেই। এখানেই আছে ছোটখাটো পর্যটন কেন্দ্র। সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখতেই বহু মানুষের ভিড় হয় এখানে। চারদিকে জেটিঘাটে ব্যস্ততার নোনা ঘ্রাণ। ছোট ছোট নৌকা হেলতে দুলতে মাছ ধরতে এগিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রে। মগনামা থেকে যেহেতু গন্তব্য কুতুবদিয়া তাই এখানে বেশিক্ষণ সময় নষ্ট না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মগনামা জেটিঘাট থেকে কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ স্টিমারঘাটেও যেতে পারেন অথবা দরবারঘাটে যেতে পারেন। টাকা কম থাকলে চড়ে বসুন ডেনিশ বোটে। আর দ্রুত যেতে হলে স্পিডবোট তো আছেই।   

কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল সারাবছরই উত্তাল থাকে। তবে শীতে কিছুটা শান্ত সমাহিত থাকে। আসছে শীতে বরং কুতুবদিয়ার পরিকল্পনা করে নিলে মন্দ হবে না। সমুদ্রের ঢেউ তখন হালকা তালে ডেনিশ বোটে দোল দেবে। হাড় কাঁপানো হিম শীতল হাওয়া আপনায় নেবে কতদূরে! কিছুক্ষণেই দেখতে পাবেন কুতুবদিয়ার সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনভূমি। আধ ঘণ্টার সমুদ্রে ভাসার চ্যালেঞ্জ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং তো অবশ্যই। পৌঁছবেন বড়ঘোপ স্টিমারঘাট।

বড়ঘোপ স্টিমারঘাট সারাদিনই ব্যস্ত। মগনামা ঘাটে যাবেন সেই বোটের জন্যেও ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হবে। দ্বীপের বাসিন্দারা সারাদিন বিভিন্ন পণ্যবাহী নৌকায় যাতায়াত করেন। তবে যদি নৌকার যাত্রা ভালো না লাগে তাহলে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোতে যেতে পারেন।

কুতুবদিয়ায় গেলে প্রথমেই যা অবাক করবে তা হলো এখানকার রাস্তাঘাট একদম পাকা। যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ ভালো। এদিকে তেমন ভারী যানবাহন চলাচল করে না। নেই মানুষের হৈ হট্টগোল। পাবেন না গাড়ির কালো ধোঁয়ায় বিদঘুটে গন্ধ। চারপাশে অবশ্য অট্টালিকার পাহাড় না থাকায় জায়গাটাও খোলামেলা ও ন্যাড়া দেখায়। শীতে গেলে হিমশীতল বাতাস। নোনা ঘ্রাণে ইতিউতি তাকিয়েই দেখবেন অসংখ্য লবণের মাঠ সারি সারি। সেই লবণের মাঠে সাদার ওপর সোনা রঙের আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। 

লবণের মাঠের পাশেও ফসলের ক্ষেত, শাকসবজি, ফল ফলাদির বিশাল আবাদি জমি। সেখানেও নারী-পুরুষ-শিশুর ব্যস্ততা। পর্যটক কিংবা শহুরে মানুষ নতুন কিছু না। তবু তারা মাথা উঁচিয়ে আপনায় হাসিমুখে দেখবে। লোকজনের আন্তরিকতা এখানে বেশ। শহরের দমবন্ধ অবস্থায় যেখানে কথা বলার লোকের অভাব, সেখানে সুস্থ নিঃশ্বাসের সন্ধানে কুতুবদিয়ার বিকল্প মেলা ভার।

কুতুবদিয়ায় ঘুরতে হলে আপনাকে নোঙর করতে হবে বড়ঘোপ বাজারে। এমনিতে পর্যটন এলাকা হিসেবে এই জায়গাটি বরাবরই উপেক্ষিত। উন্নত সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা তাই সহজেই লক্ষণীয়। এখানে ভালো রেস্টুরেন্ট নেই। তবে বড়ঘোপ বাজারেই কিছু ভালো খাবার হোটেল পাবেন। স্থানীয় মাছ, মাংস, শুটকি দিয়ে রান্না খাবার যথেষ্ট তৃপ্তি নিয়েই খেতে পারবেন।

আবাসন নিয়েও কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। সম্প্রতি বেশ কিছু মানসম্মত আবাসিক হোটেল এখানে গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ হোটেলই সমুদ্রের কাছেই। হোটেলে বসেই দিনরাত সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। কুতুবদিয়া দ্বীপটি ছোট। একদিনেই পুরোটা ঘুরে শেষ করে ফেলা যায়। সন্ধ্যে হলে ক্যাম্প করতে পারেন। অনেকেই এখানে ক্যাম্পিং করতে আসেন। বড়ঘোপ বাজার থেকে সোজা পশ্চিমের দিকে গেলেই কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকত।

১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতটেও ব্যস্ত থাকতে পারবেন। দ্বীপের বাইরে সমুদ্র সৈকতের পরিচিত এখনো তেমন ছড়িয়ে পড়েনি। তাই পর্যটকরা অন্তত এখানে আসেন না। স্থানীয় মানুষরাই এখানে নিত্যদিনের কাজ শেষ করেন। এর ভালো দিক হলো আশপাশে তেমন কৃত্রিম ময়লা কিংবা গিজগিজে হাল নেই। সমুদ্রতীর দিয়ে দক্ষিণে গেলে দৃষ্টিনন্দন ঝাউবন, মাছ ধরার সারি সারি নৌকা দেখতে পাবেন। এছাড়াও গাংচিলদের দিগ্বিদিক উড়ে বেড়ানো আবার বালুর ওপর নেমে থমকে চারপাশে তাকানোর দৃশ্যটিও মনোমুগ্ধকর। কেউ ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন মনোযোগ দিয়ে। জেলেরা ট্রলার নিয়ে ব্যস্ত। বালিতেই শিশুরা ফুটবল খেলছে। ফুটবলটির অবস্থা করুণ। বাতাসও কিছুটা কম আছে। তাও শিশুরা কী আনন্দে লাফ দিচ্ছে! সৈকতের পাশেই রয়েছে শুটকিপল্লী।

কুতুবদিয়ার বৈচিত্র্য এখানেই শেষ নয়। এখানকার বাতাসের গড় গতি ৩.৪৩ মিটার/সেকেন্ড। মে থেকে আগস্ট মাসে উপকূলীয় বাতাসের গতি বেশি থাকে। এই গতি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে একটি বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে সৈকতের দক্ষিণ প্রান্তে আলী আকবর ডেইল এলাকায় ৫০টি উইন্ডমিল স্থাপিত হলেও অধিকাংশ এখন বিকল। অবশ্য ২০১৫ তে আরও ৫০টি হাইব্রিড উইন্ডমিল স্থাপন করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও কুতুবদিয়ার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সম্পূর্ণটি মেটাতে পারে না এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই সন্ধ্যার পর কুতুবদিয়া ঢেকে যায় অন্ধকারে। হোটেলেই ফিরে যেতে হবে।

কিন্তু সাহসী হয়ে থাকলে আলী আকবর ডেইল জেটিঘাটে যেতে পারেন। সাগরে যে মাছ ধরা হয়, তার আশ্রয়কেন্দ্র এটি। এই ঘাট রাতে ভীষণ সুন্দর হয়ে ওঠে। চারপাশে অন্ধকারের রাজত্ব। ভাগ্য ভালো হলে মাথার ওপর পাবেন এক গৃহত্যাগী জোছনা। সারি সারি ট্রলারে মিটিমিটি আলো বিক্ষিপ্তভাবে থাকায় যেন তারার সমুদ্র এখানে। জাহাজের আওয়াজ আর এই আলোর পরিবেশের অনুভূতি পেতে হলে সশরীরেই আসতে হবে আপনাকে।

প্রথমদিনের ভ্রমণ শেষে ঘুরে আসুন ধুরুং এলাকার কুতুব দরবার শরীফে। ফেব্রুয়ারিতে গেলে এখানকার বড় ওরস পেয়ে যেতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা কুতুবদিয়া ভ্রমণকে আরও পূর্ণ করবে।

কুতুবদিয়া ভ্রমণ সম্পূর্ণ করতে যেতে হবে এখানকার বিখ্যাত বাতিঘর দেখতে। কুতুবদিয়ার একদম উত্তরেই দক্ষিণ ধুরুং এলাকায় এই বাতিঘর। ইস্পাতের কৌণিক দণ্ড ব্যবহারে ১৯৬৫ সালে বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়। এখানে তারও আগে থেকেই বাতিঘর নির্মাণ করা হয়েছি। ব্রিটিশ সরকারও আগে এখানে বাতিঘর বানিয়েছিলেন। অবশ্য আপনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। বাহির থেকেই এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে। ভাটার সময়ে উপস্থিত থাকলে পুরোনো বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষেরও দেখা মিলবে। তবে ফিরতে হলে সন্ধ্যার আগে আগেই ড্যানিশ বোট ধরবেন। সন্ধ্যার পর ফেরার আর উপায় নেই। আবার সকালের অপেক্ষা।

কুতুবদিয়া দ্বীপ আপনার শান্ত ভ্রমণের আদর্শ স্থান। আশপাশের যেকোনো দ্বীপ থেকে এই জায়গাটি কিছুটা উঁচুতে হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কিছুটা কম। দ্বীপাঞ্চলের বৈচিত্র্য উপভোগ করতে হলে, কুতুবদিয়ার বিকল্প পাওয়া মুশকিল।